Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅবরুদ্ধ গাজায় রমযানের আয়োজনে খ্রিস্টান ফিলিস্তিনীরা

অবরুদ্ধ গাজায় রমযানের আয়োজনে খ্রিস্টান ফিলিস্তিনীরা

২২ এপ্রিল, আরব নিউজ : অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখ- গাজা উপত্যকায় রমজানের আয়োজনে মুসলমানদের সাথে সাথেই অংশ নিয়ে আসছেন স্থানীয় খ্রিস্টান ফিলিস্তিনিরা। বুধবার সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেয়া সাক্ষাতকারে এই তথ্য জানান ফিলিস্তিনের গির্জা বিষয়ক সুপ্রিম প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটির সেক্রেটারি সানা তারাজি।

সাক্ষাতকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজার খ্রিস্টানরাও ফিলিস্তিনী জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফিলিস্তিনী গির্জার পরিসংখ্যান অনুসারে গাজায় ২০ লাখ মুসলমান ফিলিস্তিনির সাথে তিন শ’ ৯০টি খ্রিস্টান পরিবারের বাস রয়েছে, যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার তিন শ’ ১৩। সানা তারাজি বলেন, ‘কেউই কোনো খ্রিস্টানকে মুসলমানদের থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারবে না। মমতা ও ভালোবাসার বন্ধনে বন্দী আমরা সকলেই নিকট প্রতিবেশি।’ তারাজি জানান, পুরনো গাজা শহরের প্রাণকেন্দ্রে পারিবারিক বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলায় রমজান উদযাপনকে মধুরতম স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি ও তার বন্ধুরা মহল্লার রাস্তায় লণ্ঠন ও আতশবাজির খেলায় রাতকে দিনে পরিণত করতেন।

রমজানের মুহূর্তের প্রতি তার এই অনুরাগ প্রসারিত হয়েছে দুই সন্তানের মাঝেও। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে থাকলেও প্রতি রমজানে তারা তাদের বাড়ি লণ্ঠন ও অন্য সাজসরঞ্জাম দিয়ে সাজান।

তিনি বলেন, ‘রমজানের সময় আমাদের খাবার অভ্যাসও পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রায় সময়ই আমরা দুপুরের খাবারের বদলে সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানের সময় খাবার গ্রহণ করি।’ গাজার ফিলিস্তিনিদের রীতি অনুসারে রমজানের প্রথমদিন সুন্দর ও কল্যানময় বছরের কামনায় মুলুখিয়া (পাটের পাতার সুপ) রান্না করেন বলে জানান তারাজি। এছাড়া রমজানে তিনি ও তার প্রতিবেশিরা রমজানের খাবার ও মিষ্টান্ন বিনিময় করেন বলে সানা তারাজি জানান।

সানা তারাজির স্বামী ও গাজার আরব অর্থোডক্স স্কাউটসের প্রধান মাজেদ তারাজিও একইভাবে রমজানের প্রতি অনুরাগ অনুভব করেন। তিনি বলেন, এই বছর করোনা মহামারীর কারণে অনেক রীতি ও অনুষ্ঠান পালন হচ্ছে না।

রমজানে গাজার রাস্তায় রাস্তায় ইফতারের আগে স্কাউটসের সদস্যদের কাজ থেকে ঘরে ফেরায় পথে থাকা রোজাদারদের পানি ও খেজুর বিতরণের জন্য মোতায়েন করা হতো বলে জানান তিনি।

মাজেদ তারাজি আরও বলেন, গাজার গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় স্কাউটস ইফতারের আয়োজন করে। কিন্তু এই বছরও করোনা মহামারী না কাটায় দ্বিতীয় বছরের মতো তার আয়োজন হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা গির্জায় এই ইফতারের আয়োজনের মাধ্যমে গাজায় মুসলমানদের সাথে আমাদের সম্পর্কের বাঁধনের গভীরতা ও সহনশীলতার প্রকাশ করে আসছিলাম।’

মাজেদ বলেন, ‘মুসলিম ভাইয়েরা যেমন আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানান এবং আমাদের আনন্দ ও দুঃখের অংশীদার হন, আমরা তেমনিভাবে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য