Wednesday, June 12, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদাওয়াআপনার সন্তানকে এখনই ইসলামী শিক্ষা দিতে শুরু করেন

আপনার সন্তানকে এখনই ইসলামী শিক্ষা দিতে শুরু করেন

সন্তানকে ইসলামিক শিক্ষা দিতে-
✍️শায়খ মুখতার আহম্মেদ (হাফিজাহুল্লাহর) মূল্যবান নসিহা।

মুসলিম বাবা-মা হিসেবে কখন থেকে বাচ্চাকে ইসলাম সম্পর্কে ধারনা দিবো? এজ আর্লি এজ পসিবল।
মনে হতে পারে বাচ্চা বুঝবে না, কিন্তু ব্রেইন ঠিকই ক্যাচ করে নিবে।
একটা রাফ গাইডলাইন আছে এখানে বাচ্চার ১৮-৩৬ মাস বয়সী হলেই এই কাজ গুলি শুরু করে দিবেন ইনশা আল্লাহ।

আকিদাহঃ


– আল্লাহ কোথায় আছেন? তোমার রব কে? কে তোমাকে বানিয়েছেন?
– বাচ্চার সাথে কথা বলুন আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে (আকাশ, গাছ-পালা, ফুল প্রজাপতি কে বানিয়েছেন?)

ডেইলি দুআঃ


– ঘুম থেকে উঠার দু’আ, ঘুমাতে যাওয়ার আগের দু’আ।
– খাওয়ার আগের দু’আ, খাওয়ার পরের দু’আ।
– হাঁচি দিলে কি বলতে বলতে হয়?
– সালামের প্রচার শেখানো, ছোট-বড় সবাইকে সালাম দেয়া।
– বাথরুমে যাওয়ার দু’আ, বের হওয়ার দু’আ।
– বাসা থেকে বের হওয়ার দু’আ।
– সব কাজ করার আগে বিসমিল্লাহ বলা।
– যে কোন কাজ করবো বলার আগে ইনশা আল্লাহ বলা,
-সুন্দর কিছু দেখলে মাশা আল্লাহ বলা,
-কোন কিছু গিফট পেলে জাযাকাল্লাহু খায়রান বলা।

কুরআনঃ


– রেগুলার কুরআন বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পড়ুন।
বাচ্চা পাশে বসে থাকতে পারে।
– ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী, সূরা ফাতিহা, কূল যুক্ত সূরা বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পড়েন।
খুব দ্রুত দেখবেন বাচ্চা আপনার সাথে পড়ছে।

আখলাকঃ


– খাবার এবং পানি ডান হাতে খাওয়া, বসে খাওয়া এবং বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া।

– যে কোন কাজ করার আগে বাবা-মায়ের পারমিশন নেয়া, ভুল হলে মাফ চাইতে শেখা।

– যত ছোট বয়সই হোক, পোশাক বদলানোর সময় লজ্জ্বার ধারনা দেয়া। অন্যদের সামনে বাচ্চার ডায়াপার চেইঞ্জ করবেন না। তাকে আড়াল রাখুন। লাজুক হতে শিক্ষা দেওয়া…কারন আল্লাহ্ লজ্জাশীলতা পছন্দ করেন।

– শেয়ারিং শেখান। যে কোন কিছু অন্যদের সাথে শেয়ার করলে প্রশংসা করুন।
ভালো কাজগুলোকে এপ্রিশিয়েট করুন এবং এভাবে ওদের বোঝান যে  আল্লাহ এটা পছন্দ করেন, রসূল (সাঃ) এভাবে বলেছেন…আলহাম’দুলিল্লাহ্!

সিরাহ্ঃ


– রসূল (সাঃ) এবং সাহাবীদের গল্প বলুন।
– ছোট হাদীসগুলো গল্পের মতো করে বলুন।
– কুরআনের ঘটনাগুলো নিজের ভাষায় গুছিয়ে বলুন।

ইবাদাহঃ


– নামায বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পড়ুন। না দাঁড়ালেও খেলার এরিয়া যাতে আশেপাশে থাকে।
(সূত্র কৃতজ্ঞতাঃ কনফেশন অফ মুসলিম মামাহোলিক ডট কম।)
.
বাবা-মায়েদের জন্য টিপসঃ
– এই বয়সী বাচ্চাদের ধরে-বেঁধে শেখানোর কিছু নেই।
নিজেদের লাইফে প্র্যাকটিস করলে, বাচ্চারা দেখেই শিখবে।
নিজের লাইফে নাই কিন্তু আশা করি, বাচ্চাকে শেখাতে পারবো-এই চিন্তা থেকে বের হয়ে আসুন।

আমি যদি চাই বাচ্চা ইসলামিক মাইন্ডের হবে, তাহলে আগে নিজেকেই সেই ছাঁচে গড়ে নিতে হবে।

মাসনূন দু’আ গুলো বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পড়ুন।
বাচ্চারা শুনতে শুনতেই শেখে।
আলাদা করে শেখানোর দরকার নেই।

বাচ্চাকে আগে আল্লাহকে ভালোবাসতে শেখান।

যেমনঃ আল্লাহ রাগ করবেন, এটা বলার বদলে আল্লাহ এভাবে এভাবে করলে খুশি হবেন-এরকম বলতে পারেন। তাকে জানান, আল্লাহই সবচাইতে বেশী ভালোবাসে তাকে, এমনকি বাবা-মায়ের চাইতেও!

– রসূল (সাঃ) এর সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলুন।
যে কোন ব্যাপারে উনাকেই রোল মডেল করুন।
– সুস্থতা- অসুস্থতা আল্লাহর কাছ থেকে আসে, ধারনা দিন।

যে কোন ধরনের ব্যাথা পাওয়ায় বা অসুস্থতায় একমাত্রই আল্লাহই তাকে সুস্থ করবে এটা বোঝান।

– জান্নাত সম্পর্কে ধারনা দিন।
সেটা কত চমৎকার জায়গা সময়ে সময়ে বর্ননা করুন।
যাতে এই জায়গায় যাওয়ার ব্যাপারে বাচ্চার আগ্রহ মাথায় গেঁথে যায়।

– ছেলে হলে মসজিদের সাথে এটাচমেন্ট তৈরী করে দিন।
সম্ভব হলে বাচ্চাকে জামাতে নামায পড়ার সময় সাথে রাখুন।

– বাচ্চাকে ভালো মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। ইনশা আল্লাহ্  – আমাদের মৃত্যুর পর সত সন্তানের সুকর্ম আমাদেরই সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমাদের আমলনামায় যুক্ত হবে!(ইনশাআল্লাহ)

আল্লাহ তা’আলা শাইখকে উত্তম জাযা প্রদান করুন।

রহমানুর রাহিম আমাদেরকে উনার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন।আমীন৷

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five + 13 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য