Thursday, July 25, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরআব্বার ‘ব’ ফেললে স্বামী হয়ে যায়, মেয়েকে বললেন বাবা

আব্বার ‘ব’ ফেললে স্বামী হয়ে যায়, মেয়েকে বললেন বাবা

যৌন হেনস্তার অভিযোগে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এমএম) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তারই মেয়ে।

ভুক্তভোগী তাসমিন মারিয়ার (ছদ্মনাম) অভিযোগ, বিভিন্ন সময় বাবা ওমর ফারুক তাদের দুই বোনকে যৌন উত্তেজক কথা বলে। তাকে একান্ত সময় দিতে বলে। এমনকি মাঝেমধ্যে আপত্তিকরভাবে শরীরেও হাত দেন। প্রতিবাদ করলে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেন।

স্বজনদের কাছে বাবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় পরে আদালতের দারস্থ হোন দুই বোন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের হওয়া মামলা নং ১৫১২/২০। মামলাটি ঢাকার ৬ নং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এমএম) আশেক ইমামের আদালতে বিচারাধীন। গত ১৫ ডিসেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বর দুই দফা ভুক্তভোগীদের কেনো সুরক্ষা দেয়া হবে না এই মর্মে কারণ দশানোর নোটিশ দেয়া হলেও বিবাদী এর কোন জবাব দেননি। পরে আদালত আগামী ১৪ জানুয়ারি আবারো দিন ধার্য করেছেন।

মামলার বাদী তাসমিন মারিয়া আমার সংবাদকে বলেন, আমি ভার্সিটির টিউশন ফির জন্য বাবার কাছে গত ২৩-১১-২০২০ তারিখে টাকা চাইলে বাবা বলেন, ‘আমি যে তোমাকে এতোগুলো টাকা দিবো তাতে আমার কি লাভ? তোমরা দুই বোন আমার কাছে আসো আমি সব দিবো।’ পরে আমি বলি আমরাতো আপনার বাসায়ই আছি, আর কত কাছে আসবো? তখন বাবা আমাকে তার সাথে একই বিছানায় থাকার প্রস্তাব দেন। এবং তিনি বলেন, ‌‘আমার সাথে ফ্রি হও,আমি যা করতে বলি তাই করো, তোমার কোন অভাব রাখবো না। তোমাদের নামে ফ্লাট লিখে দিবো’। আমি বাবার এসব জঘন্য কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে বাবা বলেন, ‘আমার বিছানায় না আসলে সময় না দিলে আমি তোদের কিছুই দিবো না, কোন খরচও দিতে পারবো না।’

তাসমিন মারিয়ার আরেক বোন তানভিন ফারিয়া আমার সংবাদকে বলেন, আমার বোনকে এতো কিছু বলার পরেও আমি নিরুপায় হয়ে বাবার কাছে টাকা চাইতে গেলে বাবা আমাকেও আপত্তিকর জঘন্য ভাষায় কথা বলেন। বাবা আমাকে বলেন, তার কোন লাভ না থাকলে তিনি কোন টাকা দিতে পারবেন না। টাকা নিতে হলে তাকে খুশি করতে হবে। আব্বু বলেন, ‘‘তোর মায়ের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই, তার মানে তোরা আমার ব্যবহারের জন্য বৈধ। তোরা আমাকে আব্বু বলে ডাকিস, কিন্তু আব্বার ‘ব’ ফেলে দিলে আর আব্বু থাকে না তখন স্বামী হয়ে যায়। যদি আমাকে প্রিয় মানুষ ভেবে রাতে আমার বিছানায় আসতে পারিস তাহলে সব পাবি। আর আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলে দুটোকে মেরে ফেলবো।’’

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামি ওমর ফারুক তেজগাঁও সাব-রেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক হিসাবে কর্মরত আছেন। তাসমিন ও তানভিনের বয়স যখন ২ বছর তখন তাদের মা-বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর তাসমিনের বাবা ঢাকায় একাধিক বিবাহ করে। তখন থেকেই তাদের দুই বোনের কোন প্রকার খোঁজ খবরও রাখেনি ভরণপোষণ দেননি তার বাবা। মাঝেমধ্যে ফোনে খরচের টাকা চাইলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হতো। বিচ্ছেদের পর তাসমিনার মা খুব কষ্টে ধার দেনা করে ও ভাই বোনদের সহায়তা নিয়ে তাদের দুই বোনকে লেখাপড়া করায়। বিগত ২০১৯ সালে তাসভিন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর তার মা স্বপ্ন পূরনের আসায় পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করিয়া নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি তে ভর্তি করায়। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে না পেরে নিরুপায় হয়ে দুই বোন তার বাবা ওমর ফারুকের সাথে যোগাযোগ করলে ওমর ফারুক পড়াশোনার সকল খরচ দিবে বলে তার উল্লেখিত ঠিকানার বাসায় আসতে বলে। পরে দুই বোন গত আগস্ট মাস থেকে তার বাবার বাসায় বসবাস শুরু করেন। বাসায় আসার পর থেকেই ওমর ফারুক দুই বোনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতে থাকে এবং বাসার মধ্যে তানভিনের সামনে বসে লাউড স্পীকারে পর্নো ভিডিও ছেড়ে দেন এবং তাদেরকে নিষিদ্ধ কাজে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। পিতা ওমর ফারুককে এসব করতে নিষেধ করায় ওমর ফারুক বলে তোরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িস আর এসব বুঝিস না। পরে দুই বোন বাধ্য হয়ে এসব ঘটনা তার ফুফুদের জানালে ফুফুরা ও কোন ব্যবস্থা নেননি। পরে জীবন বাঁচাতে দুই বোন আবারো ভাড়া বাসায় ওঠেন। দুই বোনের সাথে বাবার করা যৌন অত্যাচারে তারা মানসিক যন্ত্রনায় ভুগে মারাত্বকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছোটবোন বাবার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা চেষ্টা করে পরে বড় বোনের বাধায় বেঁচে যান। 

মেয়েদের করা অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মেসেজ পাঠিয়েও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, দুই বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে মায়ের কাছে থেকেই বেড়ে উঠে ওই দুই বোন। অপরদিকে বাবা ওমর ফারুক ঢাকায় বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েন। কিন্তু গত আগষ্ট মাসে তাসমিনের ফুফুর মাধ্যমে যোগাযোগ হয় বাবা ওমর ফারুকের সাথে। দুই বোন উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছার কথা জানালে বাবাও তাতে সম্মতি দেন এবং দ্রুত তার বাসায় আসতে বলেন। দুই বোন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও হোন। এবং তেজগাঁও পূর্ব রাজার বাজার সকিনা মসজিদের পাশে বাবার বাসায়ই ওঠেন। বিপত্তি ঘটে এখানেই। 

আমারসংবাদ/এসআর/জেআই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

2 × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য