Wednesday, April 17, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদাওয়া"আল্লাহর বাণী বা আল্লাহর কালাম সম্পর্কে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আর মতের সারাংশ"

“আল্লাহর বাণী বা আল্লাহর কালাম সম্পর্কে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আর মতের সারাংশ”

১- আল্লাহ তা‘আলার রয়েছে কথা বলার গুণ।

২- এ গুণটি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অবস্থান করছে; তার থেকে পৃথক নয়।

৩- এ গুণটির সাথে আল্লাহর গুণান্বিত হওয়ার কোনো শুরু বা শেষ নাই।

৪- এ গুণটি তাঁর প্রাচীন গুণ। আবার তিনি যখন ইচ্ছা ও পছন্দ তখন তিনি কথা বলেন।

৫- তাঁর কথা হচ্ছে সর্বোত্তম ও সর্বসুন্দর কথা।

৬- তাঁর কথা কোনো সৃষ্টিকুলের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; স্রষ্টাকে সৃষ্টির ওপর কেয়াস করা যাবে না।

৭- যখন ইচ্ছা তখন তিনি তার সৃষ্টির যার সাথে ইচ্ছা তিনি কথা বলেন; চাই রাসূল হোন, কিংবা ফিরিশতা, অথবা তার অন্যান্য বান্দাগণের সাথে। যে কোনো কিছুর মাধ্যমে অথবা মাধ্যম ব্যতীতই।

৮- তাঁর কথা তিনি সত্যিকার অর্থেই যাকে ইচ্ছা তাকে শোনান। হতে পারে সে তাঁর ফিরিশতা বা তাঁর রাসূল। আর আখেরাতে তিনি সেটা বান্দাদের সকলকে নিজ স্বরে শোনাবেন। যেমনিভাবে দুনিয়াতে তিনি তাঁর স্বর শুনিয়েছেন মূসা আলাইহিস সালামকে যখন তিনি গাছের নিকট গিয়েছিলেন। আর মূসাও তা শুনেছিলেন।

৯- যেভাবে তাঁর কথা কারও কথার মত নয়, তেমনিভাবে তাঁর স্বরও কারও স্বরের মত নয়।

১০- আল্লাহর বাণীর কোনো শেষ নেই।

১১- তাঁর বাণীর মধ্যে রয়েছে, কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জীল।

১২- পুরো কুরআনই তাঁর বাণী, সূরা, আয়াত ও শব্দ। তিনি কুরআন নিয়ে কথা বলেছেন তা বর্ণ ও অর্থের সমষ্টি। এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে কারও উপর নাযিল হয়নি। তিনি আল্লাহ জিবরীলকে কুরআন শুনিয়েছেন, জিবরীল সেটা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনিয়েছেন, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা তাঁর উম্মতকে শুনিয়েছেন। এখানে জিবরীল ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে প্রচার ও বর্ণনা করা ব্যতীত কোনো কিছু নেই। এ কুরআন লাওহে মাহফূযে লিখিত, আর তাই আমাদের মুসহাফে স্থাপনকৃত, তিলাওয়াতকারীরা তা তাদের যবানী দ্বারা তেলাওয়াত করে, পাঠকারীরা তাদের স্বর দ্বারা তা পাঠ করে, শ্রোতারা তা তাদের শ্রবনেন্দ্রীয় দ্বারা শ্রবন করে, কপিকাররা তাদের হাতে তা কপি করে, মুদ্রকাররা তাদের যন্ত্র দিয়ে তা মুদ্রণ করে, আর সেটাই হাফেযগণ তাদের বুকে ধারণ করে, এসবই শব্দ-বর্ণ ও অর্থ সহকারে। এ কুরআন নিয়ে সত্যিকার অর্থেই কথা বলেছেন, আর সেটা প্রকৃত অর্থেই তাঁর কথা, অন্যের কথা নয়। তাঁর থেকেই এসেছে আর তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। যে যেভাবে ইচ্ছা তাতে তার কাজ করে, যেমন পাঠকের পড়া, উচ্চারণকারীর উচ্চারণ, মুখস্থকারীর ধীশক্তি, লিখকের লেখা, সব কিছুর জন্য কুরআন একটিই, সৃষ্ট নয়। যেখানেই সেটা তিলাওয়াত করা হোক, যেখানেই তা লেখা হোক, যেখানেই তা পড়া হোক। সুতরাং যে কেউ এ কুরআন শুনে মনে করবে যে তা সৃষ্ট সে কাফের হয়ে যাবে।

১৩- আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে তাওরাত লিখেছেন মূসা আলাইহিস সালামের জন্য, আর তা ছিল আদম সৃষ্টির চল্লিশ বছর আগে, যেমনটি সহীহ হাদীসে এসেছে।

১৪- আর আল্লাহর বাণী ভাগ করা যায়, সেটার কিছু অংশ হতে পারে, সেটাকে খণ্ড খণ্ড করা যায়। তাই কুরআনও তার বাণী, তাওরাতও তার বাণী, ইঞ্জীলও তার বাণী।

১৫- কুরআন তাওরাত নয়, তাওরাত ইঞ্জীল নয়।

১৬- সূরা আল-ফাতিহা কুরআনের কিছু অংশ, আয়াতুল কুরসী সূরা আল-বাক্বারার কিছু অংশ, সূরা আল-বাক্বারাহ সূরা আলে ইমরাণ নয়, এভাবে তার সকল বাণী সম্পর্কে বলা হবে।

১৭- আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেছেন, তাওরাত ইবরানী ভাষায়, কুরআন আরবী ভাষায় আর ইঞ্জীল সুরিয়ানী ভাষায়।

১৮- কুরআনে কারীমে যে অর্থসম্ভার এসেছে তা তাওরাতে নেই, আর তাওরাতে যে অর্থসম্ভার এসেছে তা কুরআনে নেই। অনুরূপ তার সকল বাণীই।

১৯- আল্লাহর বাণীর পরস্পর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তার কিছু অংশ অপর কিছু অংশের চেয়ে উৎকৃষ্ট। যেমন আয়াতুল কুরসী অন্য সকল আয়াত থেকে উৎকৃষ্ট। সূরা আল-ফাতিহার মত কোনো কিছু তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনের অন্যত্র নাযিল হয়নি। আর ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের তিনভাগের একভাগ সমতুল্য।

২০- আল্লাহর কালামের আগ-পিছ রয়েছে। একাংশের পরে আরেক অংশ রয়েছে। যেমন বিসমিল্লাহ এর মাঝে আল্লাহ শব্দটি বিসমি এর পরে আছে। অনুরূপভাবে ‘বিসমি’ শব্দের মাঝে (বি) আগে তারপর (সীন) তারপর (মীম)। এসবই আল্লাহর বাণী। যা কখনো সৃষ্ট নয়। শব্দ, বর্ণ সব মিলিয়েই আল্লাহর বাণী। সৃষ্টির কারও বাণীর সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়।

২১- কুরআন নিয়ে বান্দার স্বর, তাদের নড়াচড়া, মুসহাফের কাগজ, বাঁধাইয়ের উপকরণ, লেখার কালি এসবই সৃষ্ট ও তৈরী করা। তবে বর্ণসমূহের দ্বারা ঘটিত যা বলা হচ্ছে, যা শোনা হচ্ছে, যা লিখা হচ্ছে, যা সংরক্ষিত হচ্ছে তা সবই মহান আল্লাহর কালাম বা বাণী; যার বর্ণ ও অর্থ কোনোটিই সৃষ্ট নয়। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত আল্লাহর বাণীর ব্যাপারে এ আকীদাই পোষণ করে থাকেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

one × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য