Thursday, July 25, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমকুরআন ও হাদীসআসুন, আজ কুরআনুল কারীমের একটি আয়াত শিখি।

আসুন, আজ কুরআনুল কারীমের একটি আয়াত শিখি।

তাফসীর সূরা “আল ইখলাস”

নামকরণঃ-
এই সূরার নাম করন অর্থের দিক বিবেচনা করে করা হয়েছে। যেহেতু সূরাটিতে একনিষ্ঠ ও বিশুদ্ধ তাওহীদের বর্ণনা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্ভেজাল একত্ববাদ এর পরিচয় দেওয়া হয়েছে সেজন্য সূরাটির নাম “ইখলাস” রাখা হয়েছে।
শানে নুযুলঃ-
মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আল্লাহর বংশ পরিচয় জানতে চাইলে তখন এই সূরাটি নাযিল হয়।

বিষয়বস্তু ও গুরুত্বঃ-
স্রষ্টা সম্পর্কে কাফের, মুশরিক ও ইয়াহুদিদের কাল্পনিক চিন্তা ও ধারণা বাতিল করে একটি দ্ব্যর্থহীন সুস্পষ্ট ধারণা পেশ করা হয়েছে।  সত্যিকারের স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহর গুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে।এই সূরাটি কে তাওহীদের কষ্টিপাথর বলা হয়।

ফযিলত সমুহঃ-
হাদীস শরীফে সূরাটির অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. এই সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ احْشِدُوا فَإِنِّي سَأَقْرَأُ عَلَيْكُمْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَحَشَدَ مَنْ حَشَدَ ثُمَّ خَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَْ ‏(‏قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ‏)‏ ثُمَّ دَخَلَ فَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ فَإِنِّي سَأَقْرَأُ عَلَيْكُمْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏”‏ ‏.‏ إِنِّي لأُرَى هَذَا خَبَرًا جَاءَهُ مِنَ السَّمَاءِ ثُمَّ خَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ إِنِّي قُلْتُ سَأَقْرَأُ عَلَيْكُمْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ أَلاَ وَإِنَّهَا تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَأَبُو حَازِمٍ الأَشْجَعِيُّ اسْمُهُ سَلْمَانُ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা একত্র হও, আমি তোমাদেরকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করে শুনাব। তিনি (বর্ণনাকরী) বলেন, অতএব যাদের একত্র হওয়ার সুযোগ হয়েছে তারা একত্র হল। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ঘর হতে) বেরিয়ে এসে কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সূরাঃ আল-ইখলাস) তিলাওয়াত করলেন, তারপর ভেতরে চলে গেলেন। আমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ আমি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তোমাদের সামনে তিলাওয়াত করব। মনে হয় এ বিষয়ে এখন তাঁর নিকট আসমান হতে খবর এসেছে। তারপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে এসে বললেনঃ আমি বলেছিলাম তোমাদেরকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করে শুনাব। জেনে রাখ! এ সূরাইটিই কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।-তিরমিজি, হাদিস নং ২৯০০

২. এই সূরার প্রতি ভালোবাসা ও তেলাওয়াতের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন। [عن أنس بن مالك:] جاءَ رجُلٌ إلى رسولِ اللهِ صلّى اللهُ عليه وسلَّمَ فقال: إنِّي أُحِبُّ هذه السورةَ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}، فقال رسولُ اللهِ صلّى اللهُ عليه وسلَّمَ: حُبُّكَ إيّاها أدخَلَكَ الجَنَّةَ.

আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত, একদা জৈনক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নিকট এসে বলল “আমি এই ( قل هو الله احد ) সূরাকে কে মহব্বত করি”।তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন; “এই সূরার প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিবে”।-তিরমিজি ২৯০১.

৩. দোয়া ও সকল চাওয়া কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা।عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏ “‏ لَقَدْ سَأَلْتَ اللَّهَ بِالاِسْمِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ ‏”‏ ‏.
আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন : “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি একক, তুমি ঐ সত্তা যে, তুমি কারো হতে জন্ম নাওনি এবং কাউকে জন্মও দাওনি, কেউই তোমার সমকক্ষ নয়”। তিনি বললেনঃ তুমি এমন নামে আল্লাহর কাছে চেয়েছো, যে নামে চাওয়া হলে তিনি দান করেন এবং যে নামে ডাকা হলে সাড়া দেন”।-আবু দাউদ, ১৪৯৩

৪. এবং সকল ধরনের ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য রক্ষাকবচ।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْنَا فِي لَيْلَةٍ مَطِيرَةٍ وَظُلْمَةٍ شَدِيدَةٍ نَطْلُبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لَنَا – قَالَ – فَأَدْرَكْتُهُ فَقَالَ ‏”‏ قُلْ ‏”‏ ‏.‏ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ ‏”‏ قُلْ ‏”‏ ‏.‏ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ قُلْ ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ مَا أَقُولُ قَالَ ‏”‏ قُلْ ‏:‏ ‏(‏ هوَ اللَّهُ أَحَدٌ ‏)‏ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي وَتُصْبِحُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ ‏”‏ ‏.‏ 
আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, এক ঘুটঘুটে অন্ধকার ও বৃষ্টিমুখর রাতে আমাদের নামায আদায় করানোর জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সন্ধানে বের হলাম। আমি তাঁর দেখা পেলে তিনি বললেনঃ বল। কিন্তু আমি কিছুই বললাম না। তিনি পুণরায় বললেনঃ বল। এবারও আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, বল। এবার আমি প্রশ্ন করলাম, আমি কি বলব? তিনি বললেনঃ তুমি প্রতি দিন বিকালে ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার করে সূরা কুল হুআল্লাহু আহাদ (সূরা আল -ইখলাস) ও আল –মুআওবিযাতাইন (সূরা আল –ফালাক্ব ও সুলা আন -নাস) পাঠ করবে, আর তা প্রত্যেকটি ব্যাপারে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে”।-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৭৫.

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

15 + 18 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য