Thursday, July 25, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধইসলাম-বিদ্বেষ ছড়ানোতে ফেসবুকের ভূমিকা রয়েছে কি?

ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়ানোতে ফেসবুকের ভূমিকা রয়েছে কি?

প্রাক্তন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান ফেসবুক নির্বাহীর কাছে ফেসবুকে মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

আমি স্বীকার করছি, আমি অবাক হয়েছিলাম যখন প্রাক্তন ব্রিটিশ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ ফেসবুকে একটি ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ পরিচালকের ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। বেতন – এক বছরে ১০ লক্ষ ইউরো এর বেশি বলে জানা গেছে।

তবে, ক্লেগ সুনাম বজায় রাখার চেষ্টা করতেন। ফেসবুক, বিদ্বেষ, বিদ্রোহ এবং অন্যান্য সাম্প্রদায়িক মতবাদগুলো ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবং এর অসংখ্য নজির রয়েছে। এমন এক অবস্থা যে, যদি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি কোনও ব্রিটিশ সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিন হত, তবে এটি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।

তাই আমি আনন্দিত হয়েছিলাম, যখন মিডলইস্ট আই গত মাসে এই সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল। যেখানে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের দ্বারা নিবদ্ধিত সাম্প্রদায়িকতার ক্ষতিকারক দিকগুলো সকলের দৃষ্টিগোচর করা হয়। যেখানে উল্লেখযোগ্য ছিল: মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিদ্বেষ।

এই নিবন্ধটিতে, মিয়ানমারে সামরিক জেনারেলরা কীভাবে রোহিঙ্গাদের গণহত্যাকে উস্কে দেওয়ার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করেছিল তা তুলে ধরা হয়েছিল। একইভাবে, উল্লেখ করা হয় কিভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা গুজব, ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইন্ধন যুগিয়েছিল।

প্রকৃতপক্ষে, ক্লেগ এই ঘটনাগুলির সময়ে ফেসবুকের হয়ে কাজ করছিলেন না। তবে ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের ইসলামবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি তার আমলে অব্যাহত রয়েছে। সমস্যাটি ভারতে প্রবল আকার ধারণ করেছে। গত বছরের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে, যেখানে ‘বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের বৃহত্তম উৎসই’ হ’ল ইসলামবিদ্বেষী বিষয়বস্তু।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সদস্য, টি রাজা সিং-এর নৈরাশ্যজনক ঘটনাটি এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলা যায়। সিং ফেসবুকে রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের হত্যার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি মসজিদ ধ্বংসের হুমকি এবং ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের বিশ্বাসঘাতক হিসাবে চিহ্নিতকরণে ফেসবুক ব্যবহার করেছিলেন। যদিও ফেসবুক কর্মীরা তার অ্যাকাউন্টটি নিষিদ্ধ করা উচিত বলে বিবেচনা করেন। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তারা নিশ্চুপ ছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ উঠে যে, একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন।

সিং-এর অ্যাকাউন্টটি নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে, ফেসবুক তার পোস্টকৃত আপত্তিজনক সামগ্রী সরানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। যা তাদের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যজনিত নীতিকে লঙ্ঘন করে। পরবর্তীতে ফেসবুক অবশেষে তার অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুযায়ী, ফেসবুকের বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মীরা জানায় যে, ভারতের সিলিকন ভ্যালি জায়ান্টের জনপ্রশাসন পরিচালক, ”সিং এবং অন্য তিনজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের বিধি প্রয়োগ করার বিরোধিতা করেছিলেন এবং তারা অভ্যন্তরীণভাবে সহিংসতার প্রচার বা অংশগ্রহণের জন্য নেতৃত্ব দান করছিল।”

কর্মচারীরা অভিযোগ করেন যে, ঐ পরিচালক তাদেরকে বলেন “মোদীর দলের রাজনীতিবিদদের লঙ্ঘনের শাস্তি দিলে ভারতে সংস্থাটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে”। যদিও ফেইসবুক এই মন্তব্যগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করে এবং তারা বিষয়টি সম্পর্কে আর কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

ভারতে ফেসবুকে মুসলিম বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার অভিযানের এই স্পষ্ট প্রমাণ, অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা যায়। যা দেশটিতে ধর্মীয় উত্তেজনা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি করছে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি

এই সব কিছুর আলোকে, আমি ক্লেগকে ফেসবুকের বৈশ্বিক বিষয় ও যোগাযোগের সহ-সভাপতি হিসাবে তার সক্ষমতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন প্রেরণ করেছিলাম। আমি প্রাক্তন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতাকে জানাই যে, ফেসবুক তার প্ল্যাটফর্মকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়াতে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।

মিয়ানমারে জেনারেলরা রোহিঙ্গাদের গণহত্যা উস্কে দেওয়ার জন্য ফেসবুককে ব্যবহারের যে প্রমাণ মেলে সে বিষয়ে আমি তার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম। এছাড়াও, ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা গুজবের ফলে শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাই।

সংস্থাটির অন্যতম সিনিয়র পদে থাকা সত্ত্বেও, তার আমলে ফেইসবুক ইসলামবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আমি তার অবস্থান জানতে চেয়েছিলাম। আমি তার কাছে আরো জানতে চেয়েছিলাম যে, ভারতে ফেসবুকে মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি একমত ছিলেন কিনা।

ক্লেগের কাছ থেকে আমি কোনও সাড়া পাইনি। এর পরিবর্তে কোম্পানির একজন মুখপাত্র থেকে একটি বিবৃতি পেয়েছিলাম। যেখানে উল্লেখ করা হয়, “আমরা এর মধ্যে উল্লেখিত অনেক দাবি প্রত্যাখ্যান করি। আমরা মুসলিম বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান করি।” একটি বিস্তারিত চিঠিতে, মুসলমানদের এবং অন্য কোনও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য নিষিদ্ধ এমন বিধান উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, এই বিধানগুলো ‘বিশ্বব্যাপী’ জারি করা হয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, ফেসবুক জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। এছাড়াও মিয়ানমার এবং শ্রীলঙ্কায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে সক্ষম আরও কন্টেন্ট রিভিউয়ার নিয়োগ।

তবে মুখপাত্র বিশেষ করে ভারতে ফেসবুক সম্পর্কিত বর্তমান বিতর্কগুলিসহ আমার বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উপেক্ষা করেছেন।

বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিধান

বিবৃতিতে অবশ্য বলা হয়েছে যে “কোনও দেশে কনটেন্ট সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির দ্বারা একতরফাভাবে নেওয়া হয় না; বরং এটি সংস্থার চারপাশ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন মতামতের সাথে অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন একটি সমালোচনা মূলক প্রক্রিয়া, যেখানে স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় দিক থেকেই আমাদের বিবেচনা, বুঝ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হয়।

আমরা কারও রাজনৈতিক অবস্থান বা দলীয় সহযোগিতা বিবেচনা না করে বিশ্বব্যাপী সহিংসতাকে উস্কে দেওয়া এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি, এই বিধানকে কার্যকর করে থাকি। আমাদের এমন পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে রয়েছে, গত বছর দিল্লিতে দাঙ্গার সময় সহিংসতার প্রশংসা, সমর্থন বা প্রতিনিধিত্বকারী কনটেন্টগুলোকে সরিয়ে ফেলা।

মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন যে, সিং-এর অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও এই মাসের প্রথম দিকে এটি কেবল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছিল। 

তাই আমি ফেসবুক এবং ক্লেগকে আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় সুযোগ দিয়ে  আবার তাদের কাছে লিখেছিলাম। পুনরায়, ক্লেগ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ফেসবুকের মুখপাত্র বলেন যে, সিংকে নিষিদ্ধ করা হয় নীতি লঙ্ঘনের জন্য এবং যারা সহিংসতা ও ঘৃণা প্রচার এবং এর সাথে জড়িত তাদেরকেও একই কারণে নিষিদ্ধ করা হয়। “সম্ভাব্য লঙ্ঘনকারীদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি হ’ল ব্যাপক এবং এর মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলাম।” যদিও এটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্থাপন করে। 

এটি লক্ষণীয় যে, ১১ জন কর্মচারী ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। যেখানে তারা সংস্থাটির নেতাদের “মুসলিম বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার” স্বীকৃতি ও এর নিন্দা প্রকাশের এবং আরও নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বৈচিত্র্যকে স্বাগত জানানো

আমি ক্লেগকে ২০ বছর ধরে চিনি। তিনি একজন শালীন মানুষ। জোট সরকারের প্রথম দিনগুলিতে আমরা ব্রিটেনের মুসলমানদের সম্পর্কিত নীতি নিয়ে আলোচনা করতাম। যেই বিষয়ে ক্লেগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাথে একমত হতে পারেননি।

২০১১ সালে, যখন ক্যামেরন “রাষ্ট্র বহুসংস্কৃতিকে” অস্বীকৃতি জানান এবং মিউনিখ সুরক্ষা সম্মেলনে চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় গঠনের আহ্বান জানান, সেই মুহূর্তে ক্লেগ আরো সহনশীলতা প্রদর্শন করে ভিন্নমত পোষণ করেন।

লুটনে একটি ভাষণে ক্লেগ বলেছিলেন: “আমার কাছে বহুসংস্কৃতিবাদ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে লোকেরা পরস্পরের মাঝখানে প্রাচীর তৈরি না করে একে অপরের সাথে সম্মান ও যোগাযোগ রক্ষা করে। বৈচিত্র্যকে স্বাগত জানানো, তবে বিভক্তিকে পরিহার করা :এটাই এক মুক্ত, আত্মবিশ্বাসী সমাজের বহুসংস্কৃতিবাদ।”

উদারনীতির পক্ষে এই জাতীয় নীতিগত অবস্থানই ছিল ক্লেগ এবং তার দলের।

আমি মনে করি না, ক্লেগের কোনও সংস্থার মুখপাত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা উচিত ছিল। তার উচিত মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া । 

এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব এবং কোন ভাবেই মিডলইস্ট আইয়ের সম্পাদকীয় নীতি প্রতিফলিত করে না। (মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজ শুধু বাংলা অনুবাদ করেছে)।

পিটার ওবর্ন 

পিটার ওবর্ন ২০১৭ সালে সেরা মন্তব্য / ব্লগিং জিতেছিলেন এবং মিডল ইস্ট আইয়ের জন্য লিখা নিবন্ধগুলির জন্য ২০১৬ সালে বছরের সেরা ফ্রিল্যান্সার হিসাবে অনলাইন মিডিয়া পুরষ্কারে  তার নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি ২০১৩ সালের ব্রিটিশ প্রেস অ্যাওয়ার্ডস কলামিস্টও ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রধান রাজনৈতিক কলামিস্ট হিসাবে পদত্যাগ করেছিলেন। তার বইগুলির মধ্যে রয়েছে দ্য ট্রায়াম্ফ অফ পলিটিকাল ক্লাস, দ্য রাইজ অফ পলিটিক্যাল লায়িং, হোয়াই দ্যা ওয়েস্ট ইস রং এবাউট নিউক্লিয়ার ইরান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eighteen − 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য