Thursday, April 18, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধদিন শেষেইসলাম সঙ্কটে নয়, বরং ম্যাক্রন এবং তার সরকারই সঙ্কটে

ইসলাম সঙ্কটে নয়, বরং ম্যাক্রন এবং তার সরকারই সঙ্কটে

ক্ষমতায় বিপর্যয়কর প্রথম তিন বছর কাটানোর পর ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমমানুয়েল ম্যাক্রন বহু পুরানো কৌশল জড়ো করে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ডানপন্থীদের নীতি অনুসরণ করে মুসলমানদের প্রতিহত করার মিশনে নেমেছেন।

শুক্রবার ম্যাক্রন তার ঘন্টাব্যাপী বক্তৃতার বেশিরভাগ সময় ফ্রান্সকে তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে রক্ষা করার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তার মর্ম উদ্ধারনের কাজে ব্যয় করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি মুসলিমদেরকে হুমকি এবং কীভাবে তিনি তার দেশে ইসলামের নিয়ন্ত্রণ নেবেন তার একটি প্রাণবন্ত চিত্র এঁকেছেন। উল্লেখ্য যে, গেলো সপ্তাহে তিনি ইসলাম ধর্ম “বর্তমানে সারা বিশ্বে সংকটে রয়েছে” বলে উদ্ধৃতি দেন।

বিশ্বজুড়ে ১৫০ কোটিরও বেশি ইসলাম ধর্মের অনুসারী রয়েছে। ম্যাক্রনের দাবি, ধর্মটির ক্ষতি করে এমন  সমস্যাগুলির “সমাধানে” সক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আত্মবিশ্বাসী। এমনকি যদি আমরা এই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বিবৃতিটি বিনোদন হিসেবেও গ্রহণ করি তা অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

ধর্মঘটে সরকারী খাতগুলো

সম্ভবত তিনি ২০১৭ সালে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে ব্যক্তিত্বটি উপস্থাপন করেছিলেন তার পুনরাবৃত্তি করছেন। সে সময়ে তিনি সকলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি পরিস্থিতি দৃঢ় ভাবে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম থাকবেন।

বিষয়টি হ’ল, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হননি। গিলিট জোনস আন্দোলন যে বছরের নভেম্বর মাসে শুরু হয়েছিল তার ঠিক পরেই ২০১৮ সালের বসন্তে পাবলিক সেক্টরের ধর্মঘটগুলি শুরু হয়েছিল। এই ঘটনার জের ধরেই  ঠিক তার পরের বছর একটি গণ রেলওয়ে ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সংকটে ভুগছেন এমন মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য স্লিট স্যুট পরিহিত ভাষণগুলি যথেষ্ট নয়। সংকট গুলি প্রতিনিয়ত অধিকতর খারাপ করেছে ম্যাক্রোন সরকার। যা শ্রমজীবী মানুষের উপর প্রবল বেগে আঘাত হেনেছে।

ম্যাক্রনের মেয়াদ শুরুর পর থেকেই তিনি শ্রম সংস্কার, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ব্যবস্থার অভাব, পুলিশী সহিংসতা এবং এরকম আরও অনেক বৃহত্তর সমস্যার বিরুদ্ধে রাস্তায় এবং কর্মস্থলে উল্লেখযোগ্য বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন।

করোনাভাইরাস মহামারীটি ম্যাক্রনের জন্য আংশিক স্বস্তি হিসাবে কাজ করেছিল। ব্যতিক্রমী আইন, দমন এবং রাস্তায় সম্পূর্ণ লকডাউন প্রবর্তন করা যার ফলে লোকেরা তাদের জীবন নিয়ে ভয়ের মধ্যে থাকে। এতে জনগণের উপর এক প্রকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন ম্যাক্রনের সরকার। তবে এই সময়ে ম্যাক্রোন সরকারের অনেকগুলি ব্যর্থতাও ফুটে উঠেছিল। কল্যাণ ও সমাজসেবা থেকে রাষ্ট্রীয় তহবিল বিভক্তকরণ থেকে শুরু করে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের সঙ্কট পর্যন্ত কোনো সমস্যাই লকডাউনের অধীনে শেষ হয়নি। বরং সেগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, সাথে ক্ষোভও।

জবাবদিহি করার আন্দোলন

ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের বিক্ষোভগুলি পশ্চিমা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় ফ্রেঞ্চ রাষ্ট্রটিও এর আওতায় পড়েছিল। এর আগেই পুলিশের হাতে অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব যুবকের মৃত্যু নিয়ে ফ্রান্স বিশ্ব মঞ্চে দায়বদ্ধ ছিল। তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন আদামা ট্রোর। প্যারিসের শহরতলির দরিদ্র এলাকার এই যুবক, পুলিশী হেফাজতে নিহত হয়েছিলেন। ট্রোরের ঘটনা আরো একবার প্রমাণ করে যে, প্রথাগত বর্ণবাদ ফরাসীদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান, যা তাদের সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে নিহিত।

এই হত্যার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা এবং সহিংসতা বন্ধের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী এবং অন্যান্য বড় শহরগুলির রাস্তায় নেমেছিল। এছাড়া সংগঠনগুলিও, ম্যাক্রোনের সাবধানী মার্জিত পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে আরেকটি ধাক্কা দিয়েছিল। ফ্রান্সের নেতিবাচক ঔপনিবেশিক ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে ম্যাক্রোনের প্রদান করা প্রতিটি বক্তব্যই ফাঁকা শোনাচ্ছিল, কেননা উপনিবেশের পূর্বপুরুষরা বর্ণবাদ এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।

দেশের কতিপয় দরিদ্র ও সর্বাধিক নিপীড়িতদের আক্রমণ করে ম্যাক্রনের পাল্টা জবাবের দরুন রাষ্ট্রের প্রতি বিবদমান সামাজিক উত্থান, অসন্তুষ্টি এবং অবিশ্বাসের মাত্রা আরও দ্বিগুণ হয়েছিল এবং এটি কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার এবং জনস্বাস্থ্য পরিষেবাগুলিকে বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিপরীতে ম্যাক্রন সাফল্যের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, এলিসি প্রাসাদের মূল অগ্রাধিকার হবে নাগরিক স্বাধীনতা হ্রাস। তার পরিকল্পনাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নেওয়া পদক্ষেপের অনুরূপ ছিল। “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” যা সমস্ত দেশগুলিতে জীবনযাপনের এক নতুন উপকরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এরই প্রতিলিপি করছেন ম্যাক্রন। মসজিদগুলোতে কঠোর নজরদারি, বিদেশ থেকে ইমাম নিয়োগের ইতি টানা এবং তাদের অর্থায়ন যাচাই-বাছাই করা ইত্যাদি সবই ম্যাক্রন এর নতুন পরিকল্পনার অংশ।

এমনকি ক্রীড়া সংস্থাগুলি এবং অন্যান্য সমিতিগুলি ইসলাম ধর্মের অগ্রগামী হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার জন্য নজরদারির অধীনে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিকড়ে বর্ণবাদের সূত্রতা

“প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ইসলামকে প্রতিরক্ষা করার জন্য ইমাম ও বুদ্ধিজীবীদের একটি প্রজন্মকে ফ্রান্সে প্রশিক্ষণ ও প্রচারের কৌশলটি একেবারে নতুন কিছু নয়।”

আলজেরিয়ায় উপনিবেশ স্থাপনের সময় ফ্রান্স এই পদ্ধতিগুলি গ্রহণ করেছিল। কেবল ধর্মের সীমার মধ্যেই নয়, সম্প্রদায়গুলির মধ্যেও যেখানে ফ্রান্স আলজেরিয়ার একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘুগোষ্ঠী বাছাই করত এবং তাদেরকে “শিক্ষিত” করে থাকত। যারা বিবর্তিত হিসাবে পরিচিত হত। তারা ফরাসী প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ গ্রহণ এবং পছন্দ করবে বলে প্রত্যাশিত ছিল। তারপরে তারা আলজেরীয় বাকী জনগণকে মুক্তির বিরোধিতা পোষণ করার জন্য উপলব্ধি করাতে বেরিয়ে পড়ত।

অতীতে ম্যাক্রনের ফরাসি উপনিবেশবাদের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনার প্রচেষ্টা থাকা সত্বেও প্রজাতন্ত্রে বর্ণবাদ এখনও প্রগাঢ়ভাবে বিদ্যমান। সভ্যকরণের মিশন অব্যাহত রয়েছে। মুসলমানদের অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে, এমনকি কীভাবে তাদের নিজস্ব ধর্ম পালন করতে হবে সেক্ষেত্রেও। অন্যথায়, তারা প্রাচীন, বর্বর প্রবণ, খারাপ এবং ফরাসি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য হবে।

এমনকি মুসলমানদের বিরোধীতা করে ম্যাক্রোনের তথাকথিত সঙ্কটের প্রসঙ্গ হিসাবে “ইসলাম” ব্যবহার করা, সমস্যাটিকে আদর্শিক, মৌলিক এবং পুরোপুরি ধর্মের সাথে সংযুক্ত করার একটি উপায় হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

এটি তাকে ৫.৭ মিলিয়ন ফরাসী মুসলমানদের থেকে দূরে রাখবে, যারা তার নীতি দ্বারা সমস্যাগ্রস্ত হবে। তিনি মুসলমানদের সংগ্রাম,  আর্থসামাজিকভাবে প্রান্তিক পাড়াগুলিতে অপ্রাপ্তবিক উপস্থিতি, শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের মধ্যে বৈষম্য অথবা রাষ্ট্রের হাতে নৃশংসতার শিকার ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্বোধন করার কোন প্রয়োজন বোধ করেননি। তার রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো এই সমস্ত সমস্যাকে আরো বর্ধিত করেছে। নিজের এবং তার রাজনৈতিক ভিত্তির স্বার্থেই তিনি এগুলো অব্যাহত রাখেন।

যদিও ফরাসী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন যে, তিনি “প্রজাতন্ত্র এবং এর মূল্যবোধকে রক্ষা করবেন এবং নিশ্চিত করবেন যে এটি সমতা ও মুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলিকে সম্মান করবে”। যা অবশ্যই ডানপন্থীদের জন্য একটি কৌশলী রাজনৈতিক বার্তা এবং তার চারপাশে অভিজাতদের আশ্বস্ত করার একটি উপায়, যাদের স্বার্থে তিনি কাজ করে থাকেন।

নাগরিক স্বাধীনতাজনিত সমস্যা

যেমনটি আমরা যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে খুব ভালভাবে জানি যে, সমস্যাটি শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনও জনগোষ্ঠী যদি একবার গ্রহণ করে নেয় যে, একটি জাতিগত গোষ্ঠীর নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যেতে পারে, ফলে তা ধীরে ধীরে প্রত্যেকের আত্মরক্ষার ক্ষমতা ক্ষুন্ন করে। যদি একবার কোনো মুসলিম শিক্ষক, সংগঠন, প্রতিনিধি এবং ক্লাবগুলিকে পর্যবেক্ষণ এবং গুপ্তচরবৃত্তি করা যেতে পারে, অন্যদেরও এটি অনুসরণ করতে খুব বেশি সময় লাগে না।

ফরাসী জনগণ তাদের সরকারের কাছ থেকে আরও উত্তম কিছু আশা করেছিল। তারা রাস্তায় ধর্মঘট করে ও সংঘবদ্ধ হয়ে এবং এই নীতিগুলি সম্পর্কে তাদের অনুভূতি কেমন তা প্রকাশ করে প্রবল দাবি জানিয়েছিল। এখন, তাদের সরকার স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং এটি সমাধানের জন্য তার আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সংযোগ তৈরি করছে।

সম্ভবত ম্যাক্রন আবারও তার ঔদ্ধত্য-এর ফলে অন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং তার ভাবমূর্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টায় ব্রত হয়েছে। তিনি ভুলে গেছেন যে, কলোনির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এমন অনেক বিবর্তিত কর্ম ছিল এবং এর পরিবর্তে তারা উপনিবেশবাদ উৎখাতের জন্য আলজেরীয়দের লড়াইয়ে যোগ দিয়েছিলেন। তার প্রত্যাশা যে তিনি নির্বাচনের জন্য সঠিক সময়ে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য ফরাসী ডানপন্থীদের উত্সাহিত করবেন।

আমাদের আশাবাদ রাষ্ট্র ও এর সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে মতবিরোধকে আরো প্রশস্ত করেছে এমন প্রেসিডেনশিয়াল মেয়াদের জবাবে, ফ্রান্সের জনগণ আবারও উঠে দাঁড়াবে এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ছদ্মবেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমনের এই প্রয়াসকে প্রত্যাখ্যান করবে।

ইসলাম যে সঙ্কটে আছে তা নয়। বরং ম্যাক্রন, তার সরকার এবং যে সিস্টেমটি তারা রক্ষার চেষ্টা করছে সেটিই সঙ্কটে। ২০২২ সালের নির্বাচন তাদের ইতিহাসকে ডাস্টবিনে অন্তর্ভুক্ত করার একটি আসল সুযোগ উপস্থাপন করছে।

এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব এবং কোন ভাবেই মিডলইস্ট আইয়ের সম্পাদকীয় নীতি প্রতিফলিত করে না। (মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজ শুধু বাংলা অনুবাদ করেছে)।

মালিয়া বোয়াটিয়া

মালিয়া বোয়াটিয়া একজন সক্রিয় কর্মী, জাতীয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, স্টুডেন্ট নট সাসপেক্টস / এডুকেটরস্ নট ইনফোর্মেন্টস নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রিটিশ মুসলিম টিভির ‘উইমেন লাইক আস’- এর উপস্থাপক / প্যানেলিস্ট।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য