Wednesday, April 17, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরঋণখেলাপি জাহিদুলের সাজায় কারাগারে অন্য জাহেদুল

ঋণখেলাপি জাহিদুলের সাজায় কারাগারে অন্য জাহেদুল

ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শিল্প-কারখানার মালিক জাহিদুল আলমের জায়গায় কারাগারে পাঠিয়েছেন অন্য জাহেদকে। শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন হাটাহাজারী থানা পুলিশ। গত ৫ই ডিসেম্বর জাহেদুল আলমকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
গতকাল বিকালে এমন তথ্য জানান জাহেদুল আলমের আইনজীবী মোহাম্মদ এমরান নাঈম। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক হালিশহর শাখা থেকে প্রকৃত আসামির জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্টিফাইড কপি আনা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সাজাপ্রাপ্ত জাহিদুল আলমের ছবির সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া জাহেদুল আলমের চেহারার কোনো মিল নেই। দু’জনের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও আলাদা।
স্থায়ী ঠিকানায় মিল থাকলেও তাদের বাবা-মায়ের নামেরও মিল নেই। শুধুমাত্র নামের আংশিক মিল থাকায় ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা না করেও জেল খাটছে জাহেদুল আলম। হাটহাজারী থানা পুলিশ বিশদভাবে যাচাই-বাছাই না করেই প্রকৃত আসামি জাহিদুল আলমের বদলে জাহেদুল আলমকে জেলে পাঠিয়েছে। প্রকৃত আসামিকে বাঁচাতেই পুলিশ এমন কাণ্ডের আশ্রয় নিতে পারে বলে মনে করছেন তার পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মনে করেছে এ লোক ওয়ারেন্টভুক্ত সেই লোক। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ওই লোক আসল অপরাধী কি না তা যাচাই করা হবে। যদি না হয় তাহলে সে অবশ্যই ছাড়া পাবে।
আইনজীবী মোহাম্মদ এমরান নাঈম জানান, সাজাপ্রাপ্ত জাহিদুল আলম চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা এলাকায় এমএস ব্রাইড সোপ ফ্যাক্টরির মালিক। তিনি ওই ফ্যাক্টরির নামে ইসলামী ব্যাংক হালিশহর শাখা থেকে ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। খেলাপি হওয়ায় ২০১৮ সালে জাহিদুল আলমের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা (নং ৩৮/২০১৮) দায়ের করেন ইসলামী ব্যাংক হালিশহর শাখার জুনিয়র অফিসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এ মামলায় জাহিদুলকে এক বছরের সাজা দেন চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক।
এর আগে ২০১৬ সালে ১১ লাখ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য জাহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা (সিআর ১৩০৬/২০১৬) করেন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার হাজী আজগর আলী মার্কেটের সোহা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিকী। এই মামলায়ও জাহিদুলকে দুই মাসের সাজা দেন আদালত।
দুই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জাহিদুল আলমের পিতা ফরিদ আহমদ এবং মাতা ফরিদা আক্তার। তার বর্তমান ঠিকানা বাড়ি নং ৭৯, রোড ১, আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকা, থানা: ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম। স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিম ধলই, ডাকঘর: কাটিরহাট, থানা: হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০শে মে জাহিদুলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত। ওই ওয়ারেন্টের কপি হাটহাজারী থানায় পাঠানো হয়।
ওয়ারেন্টের আসামি হিসেবে গত ৫ই ডিসেম্বর সাধারণ ব্যবসায়ী জাহেদুল আলমকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অথচ এই জাহেদুলের বাবার নাম ফরিদুল আলম, মা হালিমা বেগম। তার ঠিকানা ছোটকা মজুমদার বাড়ি, পশ্চিম ধলই, ডাকঘর কাটিরহাট, থানা হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

15 + 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য