| عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ رواہ البخاری (6412) ۔ (صَحِيح) |
| ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : দু’টি নিআমাতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ধোঁকায় পতিত হয়; একটি সুস্থতা অপরটি অবসরতা। (বুখারী)সহীহ বুখারী ৬৪১২, তিরমিযী ২৩০৪, ইবনু মাজাহ ৪১৭০, সহীহুল জামি’ ৬৭৭৮, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৪৩৫৭, মুসনাদে আবৃদ ইবনু হুমায়দ ৬৮৪, মুসনাদে আহমাদ ৩২০৭, শুআবুল ঈমান ৪৫১৩, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৬৩৫, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৬৩১, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৮৪৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৭৬০। ব্যাখ্যা : “আল্লামাহ্ ইবনু বাত্তল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, যখন শরীর সুস্থ থাকে তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা। আর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উপায় হলো আল্লাহর আদেশসমূহ মান্য করা আর তাঁর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকা। অতএব কেউ যদি এ কাজ করতে অবহেলা করে তবে হাদীসের ভাষায় সেই হলো মাগবুন তথা উদাসীন বা প্রতারিত। কেননা দুনিয়া হলো পরকালের জন্য উপার্জনের ক্ষেত্র। তাই দুনিয়াতে কর্ম করলে অর্থাৎ ব্যবসা করলে পরকালে এর লাভ প্রকাশ পাবে। অতএব যে ব্যক্তি তার সুস্থতা ও অবসর সময় আল্লাহর আনুগত্যে কাজে লাগাবে সে হবে ঈর্ষার পাত্র। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকবে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। তীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : নাবী (সা.) মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে ঐ ব্যবসায়ীর সাথে তুলনা করেছেন যার মূলধন রয়েছে সে ব্যবসায়ী তার মূলধন ঠিক রেখে লাভবান হতে চায়। আর মুনাফা অর্জনের পন্থা হলো প্রথমত সে এটা ঠিক করবে যে, সে কার সাথে ব্যবসা করবে। দ্বিতীয়ত সে সত্যবাদিতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করবে, যাতে সে ধোঁকায় পতিত না হয়। অনুরূপভাবে মুকাল্লাফ ব্যক্তির সুস্থতা ও অবসর সময় হলো তার মূলধন, তার উচিত হলো সে সর্বদা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখবে এবং দীনের শত্রু শয়তান ও নাসের অনুসরণ পরিহার করবে যাতে সে ইহকালে ও পরকালে লাভবান হতে পারে। (ফাতহুল বারী ৬৪১২) ‘আল্লামাহ্ ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : মানুষ অধিকাংশ সময়ই সুস্থ থাকে কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে কর্মমুক্ত থাকতে পারে না। আবার কখনো কখনো কর্মব্যবস্ততা থেকে অবসর পায় বটে কিন্তু অনেক সময় অসুস্থও থাকে। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি সুস্থও থাকে এবং কর্মমুক্তও থাকে তাহলে অনেক সময় তাকে অলসতা পেয়ে বসে এবং ‘ইবাদাত-বন্দেগী হতে দূরে থাকে। হাদীসের ভাষায় এই ব্যক্তিই হলো উদাসীন বা প্রতারিত। কারণ সে দুটো নি’আমাতেরই শুকরিয়া করেনি। আরো বলা হয়েছে, অধিকাংশ মানুষ এই দুটো নিয়ামতের পরিমাণ ধারণা করতে পারে না। তারা এ দুটো উপস্থিত থাকা অবস্থায় সকাজে সাওয়াব অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। অলসতা আর অবহলোয় এ দুটো হারিয়ে এদের বিপরীত অবস্থা আপতিত হয় তখন নিজেদের ওপরেই তিরস্কার করে। কিন্তু এই তিরস্কার তাদের কোনই কাজে আসে না শুধু কষ্টই বৃদ্ধি করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩০৪) |
