Wednesday, April 17, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমকুরআন ও হাদীসএকটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস জেনে নেই!!

একটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস জেনে নেই!!

হাঁচি দেয়া এবং হাই তোলা

بَابُ الْعُطَاسِ وَالتَّثَاؤُبِ
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ فَإِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ وَحَمِدَ اللهَ كَانَ حَقًّا عَلٰى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَه أَنْ يَقُولَ: يَرْحَمُكَ اللهُ. فَأَمَّا التَّثَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَان فَإِذا تَثَاؤُبُ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّه مَا اسْتَطَاعَ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا تَثَاءَبَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ. رَوَاهُ البُخَارِىُّ
وَفِىْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: “فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذا قَالَ: هَا ضَحِكَ الشَّيْطَان مِنْهُ
৪৭৩২-[১] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা হাঁচিকে পছন্দ করেন এবং হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যখন কোন ব্যক্তি হাঁচি দেয় এবং ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ বলে আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন এমন প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি ‘‘ইয়ারহামুকাল্ল-হ’’ বলা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যে হাঁচিদাতার ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ শুনতে পায়। আর হাই তোলা শয়তানের কাজ। অতএব তোমাদের কারো যখন হাই আসে, তখন যথাসম্ভব তা প্রতিরোধ করা উচিত। কারণ যখন কোন ব্যক্তি হাই তোলে, তখন শয়তান তা দেখে হাসতে থাকে।

(বুখারী)[1] মুসলিম-এর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, তোমাদের কেউ যখন হাই তোলার সময় ‘হা’ করে, তখন শয়তান তা দেখে হাসতে থাকে। [1] সহীহ : বুখারী ৩২৮৯, ৬২২৬; মুসলিমে নাই, আবূ দাঊদ ৫০২৮, তিরমিযী ২৭৪৭, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১০০৪৩।

ব্যাখ্যাঃ ব্যাখ্যাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ) অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা হাঁচিকে ভালোবাসেন আর হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। এর কারণ হচ্ছে : হাঁচির দ্বারা অনেক উপকার রয়েছে। যথা : ১. হাঁচি দ্বারা মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয়তা ও ক্লেশ দূর হয়। ২. মন সতেজ ও তরতাজা হয়। ৩. মস্তিষ্ক হতে ময়লা বের হয়ে আসে। ৪. অনুভূতি শক্তি প্রখর হয়। ৫. মানুষের মনের অলসতা কেটে প্রফুল্লতা ফিরে আসে। ৬. এটা আল্লাহর বিশেষ এক নি‘আমাত। ৭. এর ফলে ‘ইবাদাতে, কাজে-কর্মে, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হয়। কাজে হাঁচি আসাতে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা হাঁচিকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। এরূপ অপছন্দের কিছু কারণ রয়েছে নিম্নে তা বর্ণনা করা হলো : ১. হাই তোলা শয়তানের কাজ। ২. হাই সাধারণত চরম ক্লান্তি ও অলস্যের নিদর্শন। ৩. এটা ‘ইবাদাতে ও কাজ-কর্মে সর্বদা বিঘ্ন ঘটায়। ৪. হাই মস্তিষ্কে জড়তা সৃষ্টি করে এবং অনুভূতি ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যক্তি অকর্মণ্য হয়ে পড়ে। ৫. হাই তোলার সাথে সাথে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। ফলে প্রয়োজনীয় কর্তব্য ও আবশ্যকীয় কাজ রেখেই মানুষ কখনো কখনো ঘুমিয়ে পড়ে এবং তা দেখে শয়তান খুশি হয়। এ সকল কারণেই আল্লাহ তা‘আলা হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। হাঁচির জবাব : কেউ কেউ বলেছেন, হাঁচির জবাবে ‘আলহাম্দুলিল্লা-হ’ বললে তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্ল-হ’ বলা ফরযে ‘আইন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, ফরযে কিফায়াহ্ এই মত অধিকাংশ ‘আলিমগণ পোষণ করেছেন। ইমাম শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ হাঁচির জবাব দেয়া সুন্নাত।
হাদীসের অংশ (ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ) এর বিশ্লেষণ : রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাই তোলার কারণে শয়তান হাসে। কেননা, উদরপূর্তিজনিত শারীরিক ক্লান্তি হতেই হাইয়ের উৎপত্তি। আর হাই ‘ইবাদাত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যা শয়তানের একান্ত কামনা। সুতরাং কেউ হাই তুললে শয়তান অত্যন্ত খুশি হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, যখন তোমাদের কারো হাই আসে সে তার হাত মুখে রাখবে কেননা শয়তান তার মুখের ভিতর প্রবেশ করে।

(আল জামি‘উস্ সগীর ১/৩৮, হাঃ ৫১৬)
আবূ হুরায়রা  হতে বর্ণিত, যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয় সে যেন হাতের তালু চেহারায় রাখে এবং আওয়াজ হালকা, আস্তে করে।
(হাকিম ৪/২৬৪, বায়হাক্বী)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

8 − six =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য