জান্নাত লাভের উপায়

0
245
ছবিঃ প্রতীকী

কুরআনে (সমষ্টিগতভাবে) বর্ণিত জান্নাতীদের কতিপয় গুণাবলী

১. নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সওম পালনকারী পুরুষ ও সওম পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী – তাদের জন্য আল্লাহ রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান । (সূরা আহযাব, ৩৩:৩৫)

২. অবশ্যই সফল হয়েছে মুমিনগণ, (১) যারা বিনয়ের সাথে নিজেদের সালাত আদায় করে (২) যারা অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকে (৩) যারা সঠিকভাবে যাকাত দিয়ে থাকে (৪) যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে, তবে তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভুক্ত দাসীদের ব্যতিরেকে, এতে তারা তিরস্কৃত হবে না। যারা এদেরকে বাদ দিয়ে অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী (৫) যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে (৬) যারা নিজেদের সালাতের হেফাযত করে। তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (সূরা মুমিনুন, ২৩: ১-১১)

৩. সত্যিকার বুদ্ধিমান লােক (বিচক্ষণ ব্যক্তি) তাে তারাইঃ (১) যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে (২) যারা চুক্তি ভঙ্গ করে না।

(৩) যারা সম্পর্ক ঠিক রাখে, যা ঠিক রাখার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।

(৪) যারা নিজ প্রতিপালককে এবং কঠিন হিসাবকে ভয় করে ।।

(৫) যারা তাদের প্রতিপালকের সম্ভষ্টি লাভের আশায় ধৈর্যধারণ করে।

(৬) যারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে।

(৭) যারা আমার দেয়া রিযিক হতে গােপনে ও প্রকাশ্যে দান করে ।

(৮) যারা ভাল দিয়ে মন্দকে দূরীভূত করে।

তাদের জন্যই রয়েছে শুভ পরিণাম, স্থায়ী জান্নাত । সেখানে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তারাও।আর প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের নিকট ফেরেশতারা প্রবেশ করবে। তারা বলবে, তােমাদের উপর সালাম (তােমাদের প্রতি শাস্তি)। কেননা তােমরা ধের্যধারণ। করেছিলে । পরকালে এ গৃহ কতইনা উত্তম। (সূরা রা’দ, ১৩: ২০-২৪)

৪. আর রহমান’-এর বান্দা তারাই যারা: (১) পৃথিবীতে বিনয়ের সাথে চলাফেরা করে।

(২) যখন জাহেল (অজ্ঞ) ব্যক্তিরা তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে, সালাম । (৩) যারা রাত্রিযাপন করে তাদের রব-এর জন্য সিজদাকারী ও সালাতে দাঁড়ানাে। অবস্থায়। (৪) যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক। আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে

দূরে রাখুন। কেননা এর শান্তি তাে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। অবশ্যই জাহান্নাম অতি

নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল এবং অতি নিকৃষ্ট বাসস্থান।

(৫) যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তারা

মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।

(৬) যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে (উপাস্যকে) ডাকে না।

(৭) যারা ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে হত্যা

করে না।

(৮) যারা ব্যভিচার করে না।

যে এরূপ করবে সে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবেই । কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অনন্তকাল অপদস্থ অবস্থায় থাকবে। তবে তারা নয় যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে; আল্লাহ এমন ব্যক্তির গুনাহসমূহকে নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু । আর যে লােক তওবা করে এবং নেক কাজ করে, সে তাে বাস্তবিকই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

(৯) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।

(১০) যারা অনর্থক বিষয়ের সম্মুখীন হলে সম্মানের সাথে তা পরিহার করে ।

(১১) যাদেরকে তাদের রবের (প্রতিপালকের) আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে তাতে বধির ও অন্ধের মত আচরণ করে না।

(১২) এবং যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন যাদেরকে দেখলে আমাদের চোখ জুড়ায় এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন।
এ সকল লােকদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে সুউচ্চ কক্ষ দেয়া হবে এবং তাদেরকে সেখানে সম্ভাষণ জানানাে হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। জান্নাত কতইনা উত্তম আশ্রয়স্থল ও সুন্দর আবাস। (সুরা ফুরকান ২৫:৬৩-৭৬)

৫. জান্নাতীদের আরাে পরিচয় হচ্ছে

(১) যারা নিজেদের সালাতে সর্বদা কায়েম থাকে।

(২) যাদের সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।
(৩) যারা কিয়ামতের দিনকে সত্য বলে বিশ্বাস করে ।

(৪) যারা তাদের রবের শান্তি সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত, বাস্তবিকই তাদের রবের শান্তি থেকে নির্ভয় হওয়া যায় না। (৫) যারা তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত নিজেদের লজ্জাস্থানকে

হেফাযত করে, কেননা এতে তারা তিরস্কৃত হবে না। যারা এদেরকে বাদ দিয়ে অন্যকে

কামনা করে তারাই হবে সীমালংঘনকারী।

(৬) যারা নিজেদের আমানত এবং ওয়াদা রক্ষা করে।

(१) যারা যথাযথভাবে সাক্ষ্য প্রদান করে।

(৮) আর যারা নিজেদের সালাতের প্রতি যত্নবান ।

তারা সম্মানের সাথে জান্নাতে থাকবে। (সূরা মাআরিজ, ৭০: ২৩-৩৫)

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে জান্নাতীদের গুণাবলী অর্জন করার তাওফীক দান করুন আমীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × three =