Wednesday, June 19, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমসীরাতজাবের ইবনু আব্দিল্লাহ (রাঃ)-এর উটের ঘটনা

জাবের ইবনু আব্দিল্লাহ (রাঃ)-এর উটের ঘটনা

প্রখ্যাত ছাহাবী জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর দুর্বল উটকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মহানবী (ছাঃ)-এর মু‘জেযা এবং জাবের (রাঃ)-কে রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে নিম্নোক্ত হাদীছে।

জাবের বিন আব্দুল্লাহ হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে যাতুর রিকা‘ অভিযানে বের হই। আমার একটি দুর্বল উটের পিঠে চড়ে আমি বের হয়েছিলাম। অভিযান শেষে ফেরার পথে আমার সাথী-সঙ্গীরা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছিল। আর আমি দুর্বল উটের কারণে বার বার পিছিয়ে পড়ছিলাম। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পেছনে থেকে অগ্রসর হয়ে আমার নিকট পৌঁছে গেলেন। তিনি আমাকে বললেন, জাবের! ব্যাপার কী? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার এই উট আমাকে পেছনে ফেলে রেখেছে। তিনি বললেন, উটটিকে বসাও। জাবের (রাঃ) বললেন, আমি আমার উটটিকে বসালাম এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর বাহন থামালেন।

তিনি আমাকে বললেন, তোমার হাতের ছড়িটি আমাকে দাও অথবা একটি গাছের ডাল ভেঙ্গে এনে আমাকে দাও। আমি তাই করলাম। তিনি সেটি দ্বারা উটকে কয়েকটি খোঁচা মারলেন। তারপর আমাকে বললেন, এবার তুমি উটের পিঠে বস। আমি উটের পিঠে উঠলাম। উটটি চলতে শুরু করল। যে মহান সত্তা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম করে বলছি, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উটের সাথে তখন আমার উটটিও চলতে থাকে। আমি চলতে চলতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে আলাপ করছিলাম। তিনি বললেন, হে জাবের! তুমি কি এই উটটি আমার কাছে বিক্রি করবে? আমি বললাম, জ্বী না, বিক্রি করব না; বরং সেটি আপনাকে উপঢৌকন স্বরূপ দিয়ে দেব। তিনি বললেন, না, দান নয়; বরং সেটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও।

এবার আমি বললাম, তবে মূল্য নির্ধারণ করুন। তিনি বললেন, ঠিক আছে এক দিরহামের বিনিময়ে আমি উটটি গ্রহণ করলাম। আমি বললাম, না ইয়া রাসূলাল্লাহ (ছাঃ)! তাহ’লে আমি ঠকে যাব। তিনি বললেন, তবে দু’দিরহামে? আমি বললাম, না তাও নয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অনবরত দাম বৃদ্ধি করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত বললেন, এক উকিয়া তথা চল্লিশ দিরহামের বিনিময়ে। আমি বললাম, তাতে কি আপনি খুশি? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমি খুশি। আমি বললাম, তাহ’লে আপনি এই উটের মালিক হ’লেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তা গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি বললেন, হে জাবের! তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, জ্বী হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ছাঃ)! তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী না কি বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা। তিনি বললেন, কুমারী বিয়ে করলে না কেন? তাহ’লে তুমি তার সাথে আনন্দ করতে সেও তোমাকে নিয়ে আনন্দ করত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ছাঃ)! আমার আববা ওহোদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তিনি ৭টি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তাই আমি একজন বয়স্কা মহিলা বিয়ে করেছি, যাতে সে ওদেরকে দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধান করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি ঠিক কাজটিই করেছ ইনশাআল্লাহ। আমরা যখন ‘সিরার’ নামক স্থানে পৌঁছব, তখন আমি উট যবেহ করার নির্দেশ দেব। সেখানে উট যবেহ হবে এবং সেখানে আমরা একদিন থাকব। ঐ দিন আমরা ওখানে থাকব। তোমার স্ত্রী আমাদের আগমন সংবাদ শুনলে তার গদিগুলো ঝেড়ে নেবে।

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ছাঃ)! আমাদের তো কোন গদি নেই। তিনি বলেন, এখন না থাকলেও তখন থাকবে। আর তুমি যখন স্ত্রীর নিকট যাবে তখন বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সহ আমরা ‘সিরার’ নামক স্থানে পৌঁছালাম। তিনি উট যবেহ করার নির্দেশ দিলেন। উট যবেহ করা হ’ল। আমরা সেদিন ওখানে থাকলাম। সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও আমরা সকলে মদীনায় প্রবেশ করলাম। বাড়ি গিয়ে আমার স্ত্রীকে আমি সব খুলে বলি। সে বলল, ঠিক আছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ শিরোধার্য। সকালে আমি উটটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। তাঁর দরজায় গিয়ে আমি উটটিকে বসিয়ে দিই। তারপর নিজে মসজিদে গিয়ে তাঁর কাছেই বসি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কক্ষ থেকে বের হয়ে উটটি দেখতে পান। তিনি বললেন, এটি কার উট? ব্যাপার কি? লোকজন বলল, এটি জাবেরের উট। তিনি নিয়ে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, জাবের কোথায়? আমাকে ডাকা হ’ল। তারপর তিনি আমাকে বললেন, ভাতিজা! তুমি তোমার উটটি ধর এবং নিয়ে যাও। এটি তোমারই থাকবে। এরপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, যাও, জাবিরকে এক উকিয়া (৪০ দিরহাম) দিয়ে দাও। জাবের (রাঃ) বলেন, আমি বিলালের সাথে গেলাম। তিনি আমাকে এক উকিয়া দিলেন, বরং কিছুটা বেশী দিলেন। আল্লাহর কসম! সেটি আমার নিকট ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আমার পরিবারের মধ্যে মুদ্রাটির একটি আলাদা মর্যাদা ছিল। অবশেষে ‘হাররা’ দিবসের বিশৃঙ্খলায় সেটি হারিয়ে যায়’ (মুসনাদে আহমাদ হা/১৫০৬৮, সনদ হাসান; বুখারী হা/২০৯৭; মুসলিম হা/৭১৫; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৪/৯৯-১০০ পৃঃ)।

শিক্ষা :

১. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে দাম-দর করা যায় এবং দাম বৃদ্ধি করা যায়।

২. নির্দিষ্ট দামে পণ্য ক্রয় করার পর বিক্রেতাকে কিছু বেশী দেওয়া যায়।

৩. কর্মীর খোঁজ-খবর নেওয়া এবং তার অবস্থা পরিবর্তনের জন্য দান করা যায়।

৪. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্য ভাইয়ের জন্য দান করা। যেমন জাবের (রাঃ) স্বীয় উটটি রাসূল (ছাঃ)-কে দিতে চেয়েছিলেন।

৫. স্বামীর সন্তান ও পরিবার-পরিজনের সেবাযত্ন করা স্ত্রীর কর্তব্য।

৬. কুমারী মহিলা বিবাহ করা মুস্তাহাব। বিধবা মহিলাকে বিবাহ করা গুরুত্ববহ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে উক্ত হাদীছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফীক্ব দিন-আমীন!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

4 × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য