Thursday, February 22, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধট্রাম্প আখ্যান

ট্রাম্প আখ্যান

লিখকঃ বিবিসির থোম পুল এমন খুব কম দিনই অতিবাহিত হয়েছে যেদিন ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস বিষয়ক লেখা নতুন কোনো বই-এর কথা শোনা যায়নি। যেগুলোর লেখক তার প্রাক্তন একনিষ্ঠ বা হতাশ সহযোগীরা। সব বইয়ের সারসংক্ষেপ আমাদেরকে লোকটি সম্পর্কে কি তথ্য দেয়?

এরকম প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কি আর কখনো দেখা গিয়েছে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা অসংখ্য বইয়ের লেখকদেরকে এই একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল।

তারা উত্তরে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত রূপে বলতে পারি কখনোই দেখেনি।’

২০১৬ সালে একজন সফল ব্যবসায়ী ও টেলিভিশন তারকা ডোনাল্ড ট্রাম্প শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এ ঘটনাই এখন সাহিত্যের বিখ্যাত বিষয়বস্তু।

ট্রাম্প কে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে ।

এ সপ্তাহেই অন্তর্ভুক্ত হলো প্রবীণ সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং ট্রাম্পের প্রাক্তন আইনজীবী মাইকেল কোহেনের লেখা। সমৃদ্ধশালী এই নব সাহিত্যে তাদের সংযুক্তি শিরোনাম তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের পরিবার এবং জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের চমৎকার কাজ রয়েছে। রক্ষণশীল লেখকদের ট্রাম্পপন্থী বইয়ের একটি পুরো শিল্পসাহিত্য গড়ে উঠেছে।

এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ও হোয়াইট হাউজের সহযোগীদের লিখিত বই গুলোর উপরে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে।

এটি একটি দীর্ঘ তালিকা :

জন বোল্টন, ট্রাম্পের প্রাক্তন জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা – তিনি বরখাস্ত হয়েছেন নাকি পদত্যাগ করেছেন তা নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য প্রচলিত রয়েছে। ট্রাম্প তার সম্পর্কে বলেন, ‘প্রশাসনে আমার দেখা অন্যতম বোকা লোক।’

জেমস কমে, প্রাক্তন এফবিআই পরিচালক – যাকে বিতর্কিতভাবে বরখাস্ত করে ট্রাম্প। তিনি ট্রাম্প ভক্ত নন। ট্রাম্প তাকে ‘কলঙ্কিত’ উপাধি দেয়। তার বইয়ের সূচিপত্র অন্যদের থেকে আলাদা ছিল। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ট্রাম্প, ডোনাল্ড জে- আলিঙ্গনের চেষ্টাকারী”।

অ্যান্ড্রু ম্যাককেব, যিনি জেমস্‌ কমের পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক বরখাস্ত হয়েছিল। ট্রাম্প তাকে ” ঘৃণ্য ব্যক্তি ” বলে আখ্যা দেন।

অ্যান্টনি স্কারামুচি, ২০১৭ সালে যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে তাকে পতঙ্গের মতো ছুটে বেড়াতে হয়েছিল তার বইয়ে তিনি ট্রাম্পের সমর্থন করলেও, কালের পরিক্রমায় দ্যা মোখনামে খ্যাত স্কারামুচি ট্রাম্পের সমালোচকে পরিণত হয়েছেনট্রাম্প তার সম্পর্কে বলে, ‘একজন ব্যর্থ ব্যক্তি যে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে’

সান স্পাইসার, যিনি স্কারামুচিকে নিয়োগের সময় ট্রাম্পের প্রেস সচিবের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি তার বইতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ পোষণ করেন নি।

সারা স্যান্ডার্স, যিনি গত বছরের জুলাই পর্যন্ত স্পাইসারের উত্তরসূরি ছিলেন। তিনি অনুগত ছিলেন এবং ট্রাম্প তাকে “যোদ্ধা” বলেছেন।

ক্রিস ক্রিস্টি, ২০১৬ সালে ট্রাম্পকে সমর্থনকারী প্রথম গভর্নর। তিনি ট্রাম্প এর ট্রানজিশন দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তবে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নির্দেশে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই বছরের নির্বাচনে বিতর্ক তৈরির জন্য ট্রাম্পকে সাহায্য করছেন বলে জানা গেছে।

ওমরোসা মনিগল্ট নিউম্যান, তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা এবং হোয়াইট হাউসে যোগদানের আগে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিসের’ একজন প্রতিযোগী ছিলেন। তখন ট্রাম্প অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করতেন। ট্রাম্প তার সম্পর্কে বলে, “সবাই তাকে তুচ্ছজ্ঞান” করত

অজ্ঞাতনামা, নাম না জানা একজন লেখক নিজেকে “ট্রাম্প প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তা” দাবি করেন। যদিও তার পরিচয় অজানা রয়ে গেছেতবে তিনি এই বছর মুখোশ উন্মোচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন

কোরি লেয়ান্ডোভস্কি, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকালীন প্রথম প্রচার ব্যবস্থাপক ও সহকারী প্রচার ব্যবস্থাপক ছিলেন ডেভিড বসি , যাদের বইও ট্রাম্প সম্পর্কে ইতিবাচক বিবরণ দেয়।

ক্লিফ সিমস, একজন রক্ষণশীল সাংবাদিক যিনি যোগাযোগের সহায়ক হিসাবে কাজ করতেন। তার সমস্ত বইয়ের শিরোনাম গুলো দেখে এগুলোকে সংগ্রামভিত্তিক বা কোন সাধকের জীবনী হিসেবে উল্লেখ করলে ভুল হবে না। ট্রাম্প তাকে ” বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী” এবং “নিম্ন স্তরের” কর্মী হিসাবে অভিহিত করেছিলেন। দুজনের মধ্যে আইনী বিরোধ ছিল তবে তিনি তার অবস্থান থেকে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে 

বইগুলো স্বভাবগতভাবেই পক্ষপাত পূর্ণ হয়ে থাকে। প্রদত্ত তথ্যগুলি প্রায়শই ব্যক্তিগত কথোপকথনের রিপোর্টের উপর নির্ভর করে। আমরা ততটুকুই জানি যা লেখক তার বইয়ে উদ্ধৃত করেন।

যারা সহানুভূতি সহকারে লেখেন, তারা ক্ষমা প্রার্থনার সুরে পেছনে ফেরার পথ সন্ধান করেন। অন্যদিকে, সমালোচক লেখকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রবণতার অভিযোগ রয়েছে।

তবে সবগুলো একসাথে বিবেচনা করে, আপনারা কি পেলেন?

“আমার আনুগত্য দরকার। আমি আনুগত্যের প্রত্যাশা করি

ট্রাম্প লেখকদের চূড়ান্ত রায় যাই হোক না কেন, প্রত্যেকটির একটি প্রধান অনুরুপ মূলভাব রয়েছে।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুগত্যের একটি মারাত্মক রীতি রয়েছে,’ স্পাইসার লিখেছেন। লেয়ানডোভস্কি এবং বোসি বলেছেন, ‘তিনি বিশ্বাস করেন, এমন কেউ যখন বিশ্বাসঘাতক হয়, তার চেয়ে গভীর কষ্ট আর কিছু তাকে দেয় না।’ নিয়োগের ক্ষেত্রে “আনুগত্যই মূল বিষয়”, বোল্টন বলেছেন।

কহেন ‘অনানুগত্য’, কোমে ‘উচ্চ আনুগত্য’ এই নামে তাদের বইয়ের শিরোনাম করেন।

কোমের বইটি কিছু স্মৃতিচারণ, কিছু নেতৃত্ব অধ্যয়ন, কিছু মুখোশ উন্মোচন ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে। যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, যখন তিনি এফবিআইয়ের পরিচালক ছিলেন ট্রাম্প প্রতিমুহূর্তে বলতেন, “আমার আনুগত্য দরকার। আমি আনুগত্যের প্রত্যাশা করি,”। তবে কোমে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং চাকরিতে বেশি দিন স্থায়ী হননি।

ট্রাম্পের রাজ্যে আনুগত্য হল রক্ষাকবচের মত যেটা সিদ্ধান্ত দেয়, কে ভবিষ্যতে টিকে থাকবে এবং কে প্রেসিডেন্ট এর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। কখনো কখনো এটি নীতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ভেনিজুয়েলার সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের লেনদেনের বিষয়ে বোল্টন দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তখনকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ধৃত করেন, ট্রাম্প বিরোধী নেতা জুয়ান গুইডেকে বলেন, ‘আমি চাই সে যেন বলে, ‘সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অত্যন্ত অনুগত থাকবে এবং অন্য কারো প্রতি নয়’।’

তবে ট্রাম্পের রাজ্যে সব আনুগত্যের ক্ষেত্রে একই ঘটনা পরিলক্ষিত করা যায়। সিমস তার বইয়ের চূড়ান্ত অধ্যায়ে উল্লেখ করেন: ‘প্রেসিডেন্টের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কটি আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, তিনি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা সবাই তার কাছে ফেলনা  ছিলাম।’ যত ভালো সম্পর্কই থাকুক না কেন এমন খুব কম মানুষই আছে যাদেরকে এই উক্তিটি শুনতে হয়নি’।

ইউনিকর্ণ প্রেসিডেন্ট

আনুগত্যের চাহিদার কারণে অনেক লেখক তাকে আংশিকভাবে মাফিয়া নেতাদের সাথে তুলনা করেন। অন্তত কমি এবং ম্যাককেব যখন দায়িত্বে ছিলেন তাদের কিছু কর্তৃত্ব ছিল। যারা আইন প্রয়োগে তাদের কর্মজীবন ব্যয় করেন।

যদিও এ ধরনের তুলনা খুব হালকা বলা যায়। নাম-না-জানা কয়েকজনের মতে, ট্রাম্প একজন “এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা ১২ বছর বয়সী বালক” এর মতো। কমে বলেছেন, ‘তার নেতৃত্ব ‘দাবানলের’ মত। ওমরোসা তাকে “বর্ণবাদী, ধর্মান্ধ এবং নারীবিদ্বেষী” বলে অভিহিত করেন।তার বইয়ে ট্রাম্পের স্মৃতিচারণে কিছু বন্দীদের কথাও উঠে আসে।

তবে ট্রাম্প তার সমর্থনে ক্রিস্টিকে পেতে পারে। যিনি তাকে বর্ণনা করেন, ‘তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি বলেন ‘আমার যা কিছু, সব জেট জ্বালানি দ্বারা’। সব গুলোর মধ্যে স্মরণীয় হলো: যেটি স্পাইসার বলেন,  ‘ট্রাম্প হলেন এক ইউনিকর্ণ (দৈবিক অশ্বারোহী), যিনি রংধনুর উপরে তার ঘোড়া নিয়ে ছুটছেন’।

প্রেসিডেন্টের সাথে পথচলা- ভালদিক!!!

বইগুলিতে একদিকে ট্রাম্পের সমর্থক এবং অন্যদিকে তার প্রতিবাদকারীরা তার চরিত্র সম্পর্কে যা বলেছেন তার মধ্যে খুব সামান্যই মিল পাওয়া যেতে পারে। যারা প্রশংসা করে থাকে তাদের কাছে, তিনি অনন্য সাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন, তীক্ষ্ণ প্রবৃত্তিবিশিষ্ট এবং রাজনৈতিক দক্ষতার একজন মানুষ। তার ভাষাশৈলী এক অনন্য উপহার বলে তারা মনে করে। যদিও মাঝে মাঝে তা অতিশয় বিরক্তিকর হয়ে থাকে।

‘জনগণের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা ট্রাম্প জানেন’।– বলেন লেয়ানডোভস্কি এবং বোসি।

স্পাইসার তার বাবার বরাত দিয়ে বলেন, ‘অনেক প্রার্থী এমন বলতেন যে, আমি এমন নীতিগুলির পক্ষে লড়াই করব যা উন্নত অর্থনীতি তৈরি করবে’। যেখানে ট্রাম্প বলতেন, ‘আমি তোমার চাকরি ফিরিয়ে দিব।’

সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ট্রাম তার ‘শক্তি’ এবং ‘মনোবল’ নিয়ে সব সময় গর্ব করেন। তার ব্যাপারে এই বৈশিষ্ট্যগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রযোজ্য ছিল। সিমস্ বলেন, ‘অন্যরাও এ বিষয়টি তুলে ধরেছে এবং যেটি ব্যাখ্যা করে যে, উদ্যমহীনতাই তার বিরোধীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অস্ত্র।’

কেউই বলেন না যে ক্যামেরা বন্ধ থাকাকালে ট্রাম্পের একেবারে আলাদা রুপ রয়েছে। ‘সত্যিই তার ব্যক্তিগত কোনও সংস্করণ নেই’।– সিমস জানান।

তবে, তার সম্পর্কে তার রক্ষীবাহিনীকে পথে বসানোর গল্পও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নির্বাচনের রাতে জয়ের খবর আসার সাথে সাথে চুপচাপ হয়ে যাওয়া। অন্যরা তার পরিবারের প্রতি তার স্নেহ বা মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য উষ্ণতা, প্রিয়জনের মৃত্যুর পরে সমবেদনা জানিয়ে ফোন কল ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে কথা বলেন। স্যান্ডার্সের ভাষ্যে, ক্রিস্টমাসে ইরাকে যাওয়ার সময় ট্রাম্প এক সৈন্যের সাথে সাক্ষাত করেন। “মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সদস্য তাকে বলেছিলেন, তিনি তার কারণে সামরিক বাহিনীতে পুনরায় যোগদান করেছেন, রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এবং তোমাদের জন্যই আমি এখানে আছি।’”

যা খারাপ…..

মুদ্রার অপর পিঠে তাকালে দেখা যায়, শুধুমাত্র স্পাইসারই আছেন যিনি তাকে ইউনিকর্ন এর সাথে তুলনা করেছেন। ওমরোসা বলেন, ট্রাম্পের সহানুভূতির প্রচুর ঘাটতি রয়েছে, যা তার চরম আত্মমগ্নতার পরিচায়ক। ম্যাককেবে বলেন “তিনি এখন পর্যন্ত আমার মুখোমুখি হওয়া মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসিত মিথ্যাবাদী “।

নামবিহীন কয়েকজন ট্রাম্প সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন, তিনি অজ্ঞ, বৌদ্ধিকভাবে অলস এবং স্বল্প মনোযোগসম্পন্ন এবং এমন অনেক কিছু রয়েছে যা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনীয়ও নয় বলে তারা উল্লেখ করেন। বইয়ের একজন পরামর্শদাতা বলেন যে, ট্রাম্প’র দাবিগুলো তিনটি শ্রেণীতে পড়ে- ‘স্পষ্টভাষায় অর্থহীন’, “বাস্তবায়ন অসম্ভব”, ‘স্পষ্টভাবে অবৈধ’। যতক্ষণ না আমরা জানি লেখক কে ততক্ষন বইয়ের বিষয়বস্তুগুলির উপর সর্বদা প্রশ্ন চিহ্ন থাকবে।

এদের মধ্যে হয়তোবা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হবে বোল্টনের বই। ট্রাম্পের স্মৃতিচারণে তিনিই এখন পর্যন্ত প্রশাসনের একমাত্র প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা হিসাবে তার ভূমিকা, তাকে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসিয়েছিল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষমতাও দিয়েছিল।

তাঁর বইতে বোল্টন বলেছেন, ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচন জয়ের জন্য চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সহায়তা চেয়েছিলেন। এবং এর জন্য চীনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি পণ্য কিনতে প্ররোচিত করেন। পরবর্তীতে বোল্টন তার বইতে বলেন, ট্রাম্প “তার ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না”।

বিশ্ব নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতার বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে ট্রাম্পের: বোল্টন বলেন যে, “পছন্দের স্বৈরাচারী নেতাদের ব্যক্তিগত অনুগ্রহ” দেওয়ার অভ্যাস ছিল তার এবং সহজেই তাদের দ্বারা চালিত হতেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের একটি চিঠি বর্ণনা করে বোল্টন বলেন, ‘এটা যেন মনে হচ্ছে রাশিয়ান শারীরবৃত্তিক লেখক পাভলোভ লিখেছেন। যা থেকে এটা পরিস্কার হয় যে, তারা জানে ট্রাম্পের আত্ম-সম্মান বাড়ানোর স্নায়ুগুলিকে কীভাবে নাড়া দেওয়া যায়। এছাড়াও এক শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পকে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একা রেখে যেতে চাচ্ছিলেন না কিম জং-উন।’

সিমস বলেন, ‘ট্রাম্পের সবকিছুই ছিল আত্মকেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে, বিদেশী নেতাদের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক দেশের স্বার্থ বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সিমস ট্রাম্পকে “অসাধারণ প্রতিভাবান এবং অত্যাশ্চর্য ত্রুটিসম্পন্ন” লোক হিসাবে উদ্ধৃত করেন।

ট্রাম্পের সুইচের গল্প

স্পষ্টতই লেখকদের প্রতিটি স্বতন্ত্র কাহিনীকে উল্লেখ করে আলোচনা করা অত্যন্ত দুষ্কর কাজ বলে বিবেচিত করা যায়। তাই, যে সকল লেখক তাদের বইগুলিতে মাতৃত্ব, পেশাগত সাফল্য বা প্রতিষ্ঠাতা জনকের উদ্ধৃতি ইত্যাদি লক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করে থাকেন, তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

ওমরোসা তার বইয়ে সেই মুহূর্তের বর্ণনা করেন যখন ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেন, তিনি আর্ট অফ ডিলের একটি অনুলিপি ব্যবহার করে অফিসে শপথ নিতে পারেন কিনা। “তিনি আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিলেন যে তিনি মজা করছেন”।– ওমরোসা উল্লেখ করেন।

স্যান্ডার্স তার বইয়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট-এর উত্তর কোরিয়ার কিমকে, তার(কিম) মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করতে সাহায্য করার মুহুর্তটি বর্ণনা করেছেন।

’মধ্যাহ্নভোজন শুরু হওয়ার সাথে সাথে ট্রাম্প কিমকে শ্বাসকষ্টের একটি ঔষধ দিলেন। ‘এটা কি টিক টক?’- কিম সন্দেহের সুরে জিজ্ঞেস করেন। এবং সম্ভবত তাকে বিষ প্রয়োগের চেষ্টা ভেবে উদ্বিগ্নও ছিলেন। কী প্রতিক্রিয়া দিবেন, তিনি বুঝতে পারছিলেন না। নাটকীয় ভাবে উচ্চস্বরে হাসি দিয়ে ট্রাম ব্যাপারটি উড়িয়ে দিলেন এবং কিমকে আশ্বস্ত করলেন যে, এটি কেবল একটি শ্বাসকষ্ট-এর ঔষধ।’

সবগুলোর শীর্ষে যে গল্পটি প্রাধান্য পাবে তা হল সিমসের লেখা গল্পটি। সে বলেছিল যে, রাষ্ট্রপতির ওভাল অফিসের ডেস্কে প্রায়শই কাঠের একটি ছোট্ট বাক্স-এর ভিতরে একটি লাল সুইচ দেখা যেত।

“যদি ট্রাম্প খেয়াল করেন কেউ বাক্সের দিকে তাকাচ্ছে … সে এটিকে, নিজের থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিয়ে যেত। ‘এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না।’-তিনি বলতেন। ‘’কেউ চায় না আমি এই সুইচটি চাপি।’’

“অতিথিরা উদ্বিগ্নভাবে হাসতেন এবং কথোপকথনটি অব্যাহত থাকত। বেশ কয়েক মিনিট পরে ট্রাম্প হঠাৎ করে এটি সম্পর্কে কিছু না বলেই, এটিকে তার আরও কাছে নিয়ে আসতেন। তারপর, একটু পরে কথোপকথনের মাঝখানে তিনি হঠাৎ করেই সুইচটি চাপ দিয়ে দিতেন। কি করতে হবে তা না বুঝে, অতিথিরা ভ্রু কুঁচকে একে অপরের দিকে তাকাতেন। কয়েক মুহুর্ত পরে, একজন বেয়ারা সিলভার থালায় ডায়েট কোকে ভরা একটি গ্লাস নিয়ে ঘরে ঢুকতেন। এবং ট্রাম্প হাসতে হাসতে ফেটে পড়তেন ।”

প্রেসিডেন্টের ফ্যাশন এবং সংস্কৃতি

ট্রাম্প প্রায়শই অস্বাভাবিক দীর্ঘ টাই পরে ছবি তোলেন, যেটির অগ্রভাগ তার কোমর রেখার অনেক নীচে ঝুকে থাকত। এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ক্রিস্টি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, এটির কারণে তাকে পাতলা দেখায়।

সিম্স বলেন, চুলের সেই বিখ্যাত শৈলীর জন্য, তিনি সর্বদা পকেটে একটি হেয়ারস্প্রের পাত্র বহন করতেন। যদি তার কেশবিন্যাস-প্রণালীতে  আলতোভাবে স্পর্শের প্রয়োজন হয় সেই উদ্দেশ্যে।

ওমরোসা বলেন, রাষ্ট্রপতির ব্যবহারের জন্য হোয়াইট হাউসে একটি চামড়ার বিছানা রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প বিছানাটির “পরিচালনার” অনুমোদন না দেওয়া সত্ত্বেও তাতে হাত লাগানোর কারনে, একজন দ্বাররক্ষী কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

অন্য কোথাও আমরা পড়েছি যে, ট্রাম্প মনে করেন যে, গানস এন রোজ-র ‘নভেম্বর রেইন’ হ’ল “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীতের ভিডিও” (স্যান্ডার্স)।এছাড়াও তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর কাছে এলটন জনের রকেট ম্যান সিডি প্রেরণের ক্ষেত্রেও প্রভাবিত হয়ে যেতেন।(বোল্টন)

নথিপত্র-এর ব্রিফিং এবং সংবাদপত্রের বাইরে, ট্রাম্প বই পাঠে তেমন আগ্রহী নন। যদিও স্কারামুচি ট্রাম্পের প্রিয় বই হিসাবে ‘অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’-এর নাম দিয়েছেন। এছাড়াও লেয়ানডোভস্কি / বোসি বলেন, সুইস মনোবিজ্ঞানী কার্ল জংয়ের আত্মজীবনীটি রাষ্ট্রপতি পছন্দ করেন।

আমরা কেন এখানে চাকরি করি?

যারা ট্রাম্পের হয়ে কাজ করেছিল এবং এখনো তার সাথে কাজ করে যাচ্ছে, কেন তারা ট্রাম্পের সাথে লেগে ছিল?

ওমরোসা বলেন, এটি ছিল আনুগত্যের বিষয়। এমনকি, অন্যান্য সমালোচনার মধ্যেও যেটি তিনি অনুভব করেছিলেন যে, যেহেতু বৈচিত্র্যে কম একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা প্রশাসনে কর্মরত তাই রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি।

অন্যদের কাছে নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির চেয়ে, রিপাবলিকান দলের প্রতি আনুগত্য বেশি ছিল। পক্ষাবলম্বনকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। তাই স্যান্ডার্স নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন: “এটি ট্রাম্প বা হিলারি যেই হউক – দেশ বাঁচাতে সহায়তা করুন বা এটিকে জাহান্নামে যেতে দিন।”

বোল্টন বলেন যে, তিনি ‘‘ঝুঁকি” সম্পর্কে অবহিত ছিলেন, তবে তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তিনি এটি পরিচালনা করতে পারবেন। তারা (বোল্টন ও ট্রাম্প)  ছিল বিশেষ সম্পর্কযুক্ত দু’জন ব্যক্তি যারা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন । ট্রাম্প “অন্তহীন যুদ্ধ” বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবুও এমন একজনকে নিযুক্ত করেছিলেন যার বিষয়ে তিনি বলেন যে, “এমন কোনো যুদ্ধ তিনি দেখেন নি, যা তার পছন্দ হয়নি”। বোল্টন প্রশাসনে থাকাকালীন সময়ে, ইরান, ভেনিজুয়েলা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক নীতির প্রয়োগ হয়েছিল। তবে, তার আফসোস এই যে, সেগুলো যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিল না।

যে ভুলগুলি হয়েছিল-তবে আমার দ্বারা নয়

স্মৃতিচারণের শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য হল, ত্রুটিগুলি স্বীকার করা হয় তারপর দায়িত্বগুলো পাশকাটিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের প্রচারণা এবং হোয়াইট হাউস, অনেক দ্বন্দ্ব দিয়ে একাকার হয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের কর্মীদের লেখা বেশিরভাগ বইয়ে অন্যান্য ট্রাম্প কর্মীদের উপর বিরাট আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। রাষ্ট্রপতিকে প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ না দেখিয়ে, কেউ কেউ ভুল কাজে ভুল লোকের অন্তর্ভুক্তি এই যুক্তি দিয়ে কিছু সমস্যার ব্যাখ্যা করে থাকে।

হোয়াইট হাউসে পৌঁছার পর বোল্টনকে তৎকালীন বাহিনী প্রধান জন কেলি সতর্ক করে বলেন, “আপনি কাজ করার জন্য এটিকে বাজে জায়গা হিসেবে আবিষ্কার করতে পারবেন”।

স্পাইসার ও স্যান্ডার্স সাংবাদিকদের বিরূপ সমালোচনা করেন। স্পাইসার বলেন,  ট্রাম্প “তার সাফল্যের জন্য মূলধারার মিডিয়া থেকে উপযুক্ত সম্মান কখনও পাননি”।

ট্রাম্পের আধিকারিকদের মূল মুহুর্তগুলিতে পদ থেকে সরে যাওয়ার একটি ধারণাও রয়েছে। বেশ কয়েকটি যথামুহূর্ত-এ বোল্টন পদত্যাগ করার কথা বিবেচনা করেছিলেন। তবে তালেবানের সাথে ধসে পড়া আলোচনার কারণে তিনি আবার ফিরেছিলেন। তবে, এটাই ধৈর্যের শেষ সীমা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কমে এবং ম্যাককেব উভয়ই ট্রাম্প-এর পাশে দাঁড়াতে পারেনি বলে আফসোস করে। একটি “উদ্ভট” মিটিংয়ের ঘটনা বর্ণনা করে ম্যাককেবে বলেন, যাতে রাষ্ট্রপতি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি কাকে ভোট দিয়েছেন, ম্যাককেবে নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করেছিল, “আমার কি আরও সংঘাতমূলক হওয়া উচিত ছিল?……যদিও তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প হওয়ার পাশাপাশি একজন প্রেসিডেন্টও। তাই বিপরীতক্রমে, তার প্রতি আমি নিজের গভীর থেকে যে স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াটি অনুভব করেছি, তা ছিল শ্রদ্ধাবোধ ও সহানুভূতিশীল।”

এই বছরের ভোটের শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা

এই বইগুলি নভেম্বরে কী ঘটবে তার পূর্বাভাস খুঁজে পাওয়ার জন্য স্পষ্ট কিনারা নয়। উল্লেখযোগ্যভাবে তাদের মধ্যে অনেক লেখককে বরখাস্ত করা হয় বা তারা পদত্যাগ করেছে। তাই, তারা হোয়াইট হাউসের সঠিক তথ্য আছে বলে দাবি করতে পারে না। তবে আপনি দু’একটি ইঙ্গিত পেতে পারেন।

ট্রাম্পের বিশ্বে র‌্যালির বিশেষ কদর রয়েছে, যা শক্তির উৎস এবং তার বার্তা তীক্ষ্ণ করার জন্য তাত্ক্ষণিক কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে কাজ করে। ২০১৬ সালের সেই দুর্দান্ত জয়টির পুনরাবৃত্তিই তিনি করতে চান এবং সেটিরই আবার স্বাদ গ্রহণ করতে চান।

”আমি বিশ্বাস করি, কমপক্ষে অবচেতনভাবে হলেও ট্রাম্পকে যেই চিন্তাটি সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় তা হলো: রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন এমন কোনকিছুই রাষ্ট্রপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষার শীর্ষে তিনি পৌঁছেননি।”- সিম্স বলেন।

‘লেট ট্রাম্প বি ট্রাম্প’- লেয়ানডোভস্কি / বসির বইয়ের এই শিরোনাম এবং এর মূলভাব ‘এমন কোনো ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি প্রদর্শন করে, যিনি নিজের পরিবর্তন করতে চান না। এবং তার উচিতও নয়। যেটি গতবার তাকে সাফল্যে এনে দিয়েছিল।’

জো বাইডেন জনমতে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছেন। যাকে ট্রাম্প ২০১৬ সালে পরাজিত করে জয়ের পথে হেঁটেছিলেন। সম্ভবত এক্ষেত্রে সেরা উপদেশটি ক্রিস্টির কাছ থেকে এসেছে।

এ ব্যাপারে আমি এটুকু জানি: “যে কেউ তার প্রতিপক্ষ হবে, নিজের এই সমূহ বিপদে প্রতিপক্ষকে অবমূল্যায়ন করুন “।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

6 − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য