Tuesday, March 10, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াদশটি আদব

দশটি আদব

[‘আল-আদাবুল আশারাহ (দশটি আদব)’ শিরোনামে শাইখ সালিহ আল-‘উসাইমী (হাফিযাহুল্লাহ) একটি বুকলেট লিখেছেন। সংক্ষিপ্ত হলেও প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে এর গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, এ পুস্তিকার পাঠ হওয়া উচিত—একবার নয়, বারবার। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধ উক্ত বুকলেটেরই সরল বাংলা রূপান্তর। ওয়া বিল্লাহিত তাওফিক। – অনুবাদক]
·
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সাবেক সদস্য, মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদে নাবাউয়ীর সম্মানিত মুদার্রিস, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ সালিহ বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-‘উসাইমী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন—
.
❝অফুরন্ত দয়া ও অশেষ কৃপার অধিকারী আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহ আমাকে এবং আপনাকে সর্বোত্তম চরিত্রে ভূষিত করুন। [১] জেনে রাখুন, সবচেয়ে বড়ো ও গুরুত্ববহ আদব দশটি। যথা:
.
এক: কোনো মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ হলে, তাকে সালাম দিবেন। বলবেন, আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ (আপনার ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। কোনো মুসলিম আপনাকে সালাম দিলে, আপনি বলবেন, ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ (আপনার ওপরও আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। [২]
.
দুই: কারও কাছে প্রবেশ করতে চাইলে আপনি দরজার ডানে কিংবা বামে দাঁড়িয়ে [৩] অনুমতি চাইবেন। অনুমতি দিলে প্রবেশ করবেন। আর ফিরে যেতে বললে ফিরে যাবেন। [৪]
.
তিন: পানাহারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি)’ বলে আল্লাহর নাম নিবেন, ডানহাতে খাবেন এবং নিজের নিকট থেকে খাবেন। [৫] খাওয়া শেষে আপনার আঙুলগুলো চেটে নিবেন এবং বলবেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ (সমুদয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য)।’ [৬]
.
চার: ভালো বিষয়ে কথা বলবেন—উত্তম কথা। আপনার কণ্ঠস্বর নীচু করবেন, আর কথা বলবেন ধীরেসুস্থে। যিনি আপনার সাথে কথা বলেন, আপনি তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করে নিশ্চুপ হয়ে তাঁর কথা শুনবেন। আপনি (তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই নিজের কথা শুরু করে) তাঁর কথাকে ছিন্ন করবেন না। আর বড়ো মানুষের [৭] সামনে আগবাড়িয়ে কথা বলবেন না। [৮]
.
পাঁচ: শয‍্যায় যাওয়ার আগে ওজু করে নিবেন এবং ডান কাতে ঘুমোবেন। (ঘুমানোর আগে) একবার আয়াতুল কুরসী পড়বেন। আপনার দু হাতের তালু একত্র করবেন এবং সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে তালুদ্বয়ে হালকা থুতুমিশ্রিত ফুঁক দিবেন। এরপর সাধ্যমত আপনার শরীরে দু হাতের পরশ বুলাবেন। আপনি এরকম করবেন তিনবার। [৯]
.
ছয়: হাঁচি আসলে নিজের হাত কিংবা কাপড় দিয়ে আপনার মুখ ঢেকে নিবেন এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবেন। কেউ যদি আপনার হাঁচি ও তৎপরবর্তী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠের জবাব দিয়ে বলে, يَرْحَمُكَ اللهُ ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন)’, তাহলে আপনি বলবেন, يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ “ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম (আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দিন এবং আপনার অবস্থার সংশোধন করুন)।” [১০]
.
সাত: যথাসাধ্য হাই তোলাকে প্রতিহত করবেন। আপনার মুখে হাত রাখবেন এবং ‘আহঃ আহঃ’ স্বর তৈরি করবেন না। [১১]
.
আট: কোনো মজলিসে গেলে সালাম দিবেন এবং মজলিস যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে উপবেশন করবেন। রৌদ্রছায়ার মাঝে বসবেন না। বৈঠকে বসা দুজনের মাঝে তাঁদের অনুমতি ব্যতিরেকে অন্তরাল তৈরি করবেন না। কাউকে তার মজলিস থেকে উঠিয়ে দেবেন না। আর যে বৈঠকে ঢুকেছে, তার জন্য জায়গা প্রশস্ত করবেন। মজলিসে আল্লাহর জিকির করবেন। মজলিসের কাফ্ফারা হিসেবে পঠিতব্য বাক্যগুচ্ছ মজলিসের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত জিকির। সুতরাং (কাফ্ফারা হিসেবে) আপনি বলবেন, سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمدِكَ أَشْهَدُ أَلَّا ٱِلٓهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইক (ইয়া আল্লাহ, আপনার স্বপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া কোনো প্রকৃত মাবুদ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি এবং ফিরে যাচ্ছি আপনারই পানে।)।” [১২]
.
নয়: আপনি রাস্তার অধিকার আদায় করবেন। আপনার দৃষ্টিকে অবনমিত রাখবেন, অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন, সালামের জবাব দেবেন এবং ভালোকাজের আদেশ ও মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবেন। [১৩]
.
দশ: আপনি সুন্দর পোশাক পরবেন। সফেদ বর্ণের পোশাক সবচেয়ে উত্তম। পোশাক যেন আপনার দু টাখনু অতিক্রম না করে। পরিধানের সময় ডানদিক থেকে শুরু করবেন, আর খোলার সময় শুরু করবেন বামদিক থেকে। [১৪] সমাপ্ত, আলহামদুলিল্লাহ।❞
·
পাদটীকা:
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[১]. শাইখের লেখা বাক্যের আক্ষরিক অনুবাদ হয়—“আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথপ্রদর্শন (হেদায়েত) করুন।” আমি অনুবাদ করেছি, “আল্লাহ আমাকে এবং আপনাকে সর্বোত্তম চরিত্রে ভূষিত করুন।” শাইখের লেখা বাক্য শেষোক্ত অনুবাদকেও ধারণ করে। কারণ হেদায়েত দু প্রকার। এক. বিবৃতিমূলক হেদায়েত (هداية الدلالة والبيان), যেখানে সঠিক পথের বিবরণ দেওয়া হয়। দুই. তৌফিকসূচক হেদায়েত (هداية التوفيق والإلهام), যেখানে সরাসরি হেদায়েত দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো হয়। প্রথমোক্ত প্রকার অনুযায়ী আল্লাহর সাথে মাখলুকও হেদায়েত দেয় (সুরা যুখরুফ: ৫২; সুরা দাহর: ৩; সুরা বালাদ: ১০)। পক্ষান্তরে দ্বিতীয়োক্ত হেদায়েত কেবল আল্লাহর সাথে খাস (সুরা কাসাস: ৫৬; সুরা নাহল: ৯৩)।
[২]. সুরা নিসা: ৮৬; সহিহ বুখারি, হা/৬২৩৬; আবু দাউদ, হা/৫১৯৫, সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি)।
[৩]. গৃহে বা ঘরে প্রবেশের অনুমতিপ্রার্থী দরজার ডানে বা বামে দাঁড়াবে, দরজার মুখোমুখি দাঁড়াবে না। কারণ মানুষের আভরণীয় বিষয়াদি সংরক্ষণের নিমিত্তেই অনুমতি নেওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ আভরণীয় কিছু দেখে না ফেলে। (সহিহ বুখারি, হা/৬২৪১) দরজার মুখোমুখি দাঁড়ালে এ উদ্দেশ্য লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
[৪]. সুরা নুর: ২৭ ও ৫৯; সহিহ বুখারি, হা/৬২৪৫; তিরমিজি, হা/২৭১০।
[৫]. শাইখ ‘উসাইমী (হাফিযাহুল্লাহ) এই বুকলেটের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, “খাওয়ার সময় আপনার নিকটতম স্থান থেকে খাবেন। তবে খাবার কয়েকপদের হলে, প্লেটে কিংবা দস্তরখানায় অবস্থিত দূরের পদ থেকেও খাওয়া যাবে।” (পরিমার্জনা-সহ উদ্ধৃত)
[৬]. সহিহ বুখারি, হা/৫৩৭৬; আবু দাউদ, হা/৩৭৬৭, সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি); সহিহ মুসলিম, হা/২৭৩২, কিতাবুয যিকরি ওয়াদ দু‘আ (অধ্যায় নং: ৪৯), পরিচ্ছেদ নং: ২৪; সহিহ বুখারি, হা/৫৪৫৬।
[৭]. শাইখ ‘উসাইমী (হাফিযাহুল্লাহ) ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, “বড়ো দু ভাবে হতে পারে। এক. মর্যাদায় বড়ো, যেমন নেতৃত্ব বা জ্ঞানের দিক থেকে বড়ো। দুই. বয়সে বড়ো।” (পরিমার্জনা-সহ উদ্ধৃত)
[৮]. সহিহ বুখারি, হা/৬০১৮; সুরা লুকমান: ১৯; সহিহ বুখারি, হা/৩৫৬৭; সহিহুল জামি, হা/৩০১১; সহিহ বুখারি, হা/১২১; সহিহ বুখারি, হা/৬১৪২।
[৯]. সহিহ বুখারি, হা/২৪৭; সহিহ বুখারি, হা/৩২৭৫; সহিহ বুখারি, হা/৫০১৭।
[১০]. সহিহ বুখারি, হা/৬২২৪; আবু দাউদ, হা/৫০২৯, সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি)।
[১১]. সহিহ বুখারি, হা/৬২২৩; আবু দাউদ, হা/৫০২৮, সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি); তিরমিজি, হা/২৭৪৬, সনদ: হাসান (তাহকিক: আলবানি)।
[১২]. সহিহ বুখারি, হা/৩৩২৬; আবু দাউদ, হা/৪৮২৫, সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি); সিলসিলাহ সহিহাহ, হা/৮৩৮; আবু দাউদ, হা/৪৮৪৪-৪৮৪৫, সনদ: হাসান (তাহকিক: আলবানি); সহিহ বুখারি, হা/৬২৭০; আবু দাউদ, হা/৪৮৫৫, সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি); আবু দাউদ, হা/৪৮৫৯, সনদ: হাসান/সহিহ (তাহকিক: আলবানি)।
[১৩]. সহিহ বুখারি, হা/২৪৬৫।
[১৪]. সুরা আরাফ: ২৬; আবু দাউদ, হা/৩৮৭৮, সনদ: হাসান (তাহকিক: আলবানি); সহিহ বুখারি, হা/৫৭৮৭; সহিহ বুখারি, হা/৫৮৫৫।
·
বি.দ্র.: শাইখের বুকলেটে কোনো টীকা নেই, সকল টীকা আমরা সংযোজন করেছি। আল্লাহ আমাদের এ থেকে উপকৃত করুন। আমীন।
·
উৎস: www.mimham(ডট)net/tan-2628-52।
.
অনুবাদক: মুহাম্মাদ ‘আবদুল্লাহ মৃধা
fb.com/SunniSalafiAthari

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 + twenty =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য