Thursday, July 25, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরনামাজ চলাকালেই মাসজিদের ভেতর আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের তাণ্ডব

নামাজ চলাকালেই মাসজিদের ভেতর আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের তাণ্ডব

সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পাইনাদী কবরস্থান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা চালিয়েছে ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান পাপ্পু, মাহবুব, মাহমুদ ভাতিজা জাহাঙ্গীর, বাদল মেম্বার, নাতি মুন্না ও টাইগার ফারুকের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীরা। এ সময় মুজিবুর রহমান মসজিদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জুম্মা নামাজ চলাকালীন সময়ে মসজিদের ভিতরেই এ ঘটনাটি ঘটে।

ওই সময় মসজিদের ভিতর মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন মুসল্লিদের অনেকেই আত্মরক্ষা করতে দৌড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। তবে মসজিদের ইমাম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় মুসল্লিরাসহ এলাকাবাসী মসজিদের ইমামকে সাধুবাদ জানালেও ধিক্কার জানান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ও তার সব ছেলেদের। এবং সন্ত্রাসী টাইগার ফারুকের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মসজিদের ভিতরেও চলে আসায় এ ঘটনার প্রকৃত বিচার দাবি করে এলাকাবাসী।

মুসল্লিরা জানান, খুতবার আগে মসজিদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান। এ সময় তিনি মসজিদের উন্নয়ণ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজ হোসেন (মজু) সভাপতির বক্তব্য শেষে বক্তব্য দেবেন বলে জানান। এ সময় মসজিদের পেছনের কাতারে থাকা সভাপতির ছেলে পাপ্পু সাধারণ সম্পাদক মজুকে হুমকি দিয়ে বলে এখানে তোর কোনো কথা চলবে না। এ কথা বলেই দৌড়ে এসে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মজিবুর রহমানের অপর দুই ছেলে মাহবুব, মাহমুদ ভাতিজা জাহাঙ্গীর, বাদল মেম্বার, নাতি মুন্না ও টাইগার ফারুকের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়ে মজুকে মারধর করে।

এ বিষয়ে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ হোসেন মজু বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে, ভাতিজা ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমার ওপরে হামলা চালায়। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর ক্রয়ের জন্য মুসল্লিদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা তোলা হয়। কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান অনুমতি না দেওয়ায় কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া আরো সভাপতি অনুমতি না দেওয়ার কারণে আরো কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। অথচ বার বার উনাকে জানানোর পরেও তিনি মুসল্লিদের বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এই বিষয়গুলো নিয়ে মুসল্লিদের সাথে বিভিন্ন সময় কমিটির লোকজনদের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। আমি প্রকৃত ঘটনাটি সভাপতির বক্তব্যের পর বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে কথা বলতে সুযোগ না দিয়ে উল্টো মসজিদের ভেতরেই হামলা চালিয়ে মজিবুর রহমানের তিন ছেলে, ভাতিজা ও মাদক কারবারিরা আমাকে মারধর করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান মসজিদের ভিতরে মারামারির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাকে মজু ও তার পরিবারের লোকজন চোর বলায় এ বিষয়টি আমি মসজিদে উপস্থাপন করলে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। মজু তার লোকজন নিয়ে এ হামলার ঘটনাটি ঘটায়। 

এ বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতে থানায় যাবেন। আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

এ দিকে একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের মে মাসে মসজিদ কমপ্লেক্স পরিচালনার ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করার ৫ বছর অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে এ কমিটি পূর্নগঠিত হয়নি। থানা আওয়ামী লীগ সভাপতির একক আধিপত্যে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। জররি ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজগুলো সম্পন্ন করা হলে রোষানলে পড়তে হয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ক্যাশিয়ার ও মোতওয়াল্লীকে। সভাপতির অনুমতি ছাড়া কোন কাজ করা হলে সভাপতি তাদের সাথে অশালীন আচরণ করে থাকেন। তাদের এই মতভেদের কারণে মসজিদ কমপ্লেক্সে উন্নয়ণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

মুসল্লিদের দাবি, ধর্মীয় এই উপাসনালয় নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি ও দলাদলী বন্ধ করে নিস্বার্থভাবে এর সকল উন্নয়ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে।   

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four − 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য