Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরপরিচয় লুকিয়ে মক্কায় ইহুদি সাংবাদিকের প্রবেশ

পরিচয় লুকিয়ে মক্কায় ইহুদি সাংবাদিকের প্রবেশ

পবিত্র মক্কা নগরী ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র শহর। ইসলামী বিধান মতে এখানে কোনো অমুসলিমের প্রবেশের অনুমতি নেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ইসরাইলি এক ইহুদি সাংবাদিক নগরী ও সেখানকার আরাফাতের পাহাড়গুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিষয়টি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করেছেন তিনি। গিল তামারি নামের ওই ইসরাইলি সাংবাদিক ভালোভাবেই অবগত ছিলেন, মক্কা ইসলামের একটি পবিত্র শহর এবং অমুসলিমদের জন্য এতে প্রবেশের অনুমতি নেই। তারপরও তিনি গোপনে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করেন এবং আরাফাতের পাহাড় পরিদর্শন করেন।

সোমবার ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১৩ একটি প্রতিবেদন প্রচার করেছে। সেখানে এ গণমাধ্যমটির বিশ্ব সংবাদ সম্পাদক গিল তামারি পবিত্র শহরটির চারপাশে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান ও অবকাঠামোগুলোকে দেখাচ্ছিলেন।

খিলানযুক্ত মক্কা গেট, যা শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত এবং সেখানে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মসজিদ আল হারাম, ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এসব পবিত্র স্থানের পাশ দিয়েও গাড়ি চালিয়ে পথ অতিক্রম করেছেন তামারি। তিনি আরাফাত পর্বতে একটি সেলফিও তুলেছেন। এটা ওই পর্বত যেখানে মহানী হজরত মোহাম্মদ সা: বিদায় হজের খুতবা প্রদান করেছিলেন। মক্কার উপকণ্ঠে থাকা এ স্থানে মুসলিমরা বার্ষিক হজ যাত্রার সময় সমবেত হন।

মক্কা ও পবিত্র মদিনার কিছু অংশে অমুসলিমদের প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রবেশের চেষ্টা করলে জরিমানা বা নির্বাসনসহ জরিমানা হতে পারে। গত সপ্তাহে তিনজন ইসরাইলি সাংবাদিককে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আঞ্চলিক সম্মেলন কভার করার অনুমতি দেয়া হয়। অমুসলিম (ইহুদি) তামারি ছিলেন ওই তিন সাংবাদিকের একজন।

এরপর অনলাইনে হ্যাশট্যাগ ‘ইহুদি ইন দ্য হারাম’ (মুসলিমদের মসজিদ আল হারাম ও অন্যান্য পবিত্রস্থানের মধ্যে ইহুদির অনুপ্রবেশ) ব্যবহার করে কিছু মুসলিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সফরের ব্যাপক নিন্দা করেছেন। টুইটার ব্যবহারকারী এক ব্যক্তি তার টুইটে বলেছেন, ‘মক্কার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং (আটককৃত ইসলামিক স্কলার) ড. মুসা আল-শরিফের মতো মহান পণ্ডিতরা সৌদি কারাগারে আছেন, কিন্তু এক জায়নবাদী ইহুদি মক্কায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’

ইসরাইলপন্থী অনেক ব্যক্তিও ওই ইহুদি সাংবাদিকের গোপন সফরের নিন্দা করেছেন। যেমন: ইসরাইলপন্থী সৌদি ব্লগার মোহাম্মদ সৌদ, যিনি ইসরাইল (!) সফর করেছেন এবং তেল আবিব ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণকে সমর্থন করেছেন। তিনিও বলেছেন, ‘ইসরাইলে অবস্থানকারী আমার প্রিয় বন্ধুরা, আপনাদের একজন সাংবাদিক পবিত্র মুসলিম নগরী মক্কায় প্রবেশ করেছেন এবং কোনো লজ্জা ছাড়াই ছবি প্রকাশ করেছেন। এটা আমার কাছে সিনাগগে (ইহুদি মন্দির) প্রবেশ করা এবং তাওরাত পড়ার মতো মনে হয়েছে। আপনাদের চ্যানেল-১৩-এর জন্য এটা লজ্জাজনক। এভাবে ইসলামকে অসম্মান করতে তামারির লজ্জা হওয়া উচিত ছিলো।

বেশ কিছু ইসরাইলিও তামারির সমালোচনা করেছেন এবং তাকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। অনেকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র : আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট আই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

fourteen − thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য