Thursday, February 22, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমবিবিধপার্থিব জীবনে কি আল্লাহ্‌কে দেখা সম্ভব? ষষ্ঠ পর্ব - ইহসান কি?

পার্থিব জীবনে কি আল্লাহ্‌কে দেখা সম্ভব? ষষ্ঠ পর্ব – ইহসান কি?

“আল্লাহকে পার্থিব জীবনে দেখা সম্ভব কিনা” – এই আলোচ্য বিষয়ে এখন পর্যন্ত আল-কুরআনের সে সুস্পষ্ট বাণীসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, পার্থিব জীবনে আল্লাহ্‌কে দেখার যে দাবী সুফীবাদী মানুষগন করে থাকেন, তাদের সে দাবী নেহায়েৎ মানুষকে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই যারা এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, নিজের ঈমান এবং আকীদাকে প্রতারকগোষ্ঠীর সামান্য পার্থিব লালসায় ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছেন, তাদের প্রতি শুধু একটা শেষ কথাই বলার থাকে – জ্ঞান অন্বেষণ করুন, অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করুন, তা না হলে হয়তো মরণ চলে আসবে, কিন্তু তওবা করার মত পর্যাপ্ত সময় হয়তো পাওয়া যাবে না।

ইহ্‌সান কি?

“ইহ্‌সান হচ্ছে এমনভাবে একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা, যেন আপনি আল্লাহ্‌কে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন) তিঁনি আপনাকে দেখছেন।’

জিব্রাঈল (আঃ) এভাবেই আমাদের প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে ইহ্‌সানের সংজ্ঞা শিখিয়েছেন মুসলিম উম্মাহকে। আসুন হাদিসটি একবার পড়ে দেখি –

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَارِزًا يَوْمًا لِلنَّاسِ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ مَا الإِيمَانُ قَالَ ‏”‏ الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَبِلِقَائِهِ وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ ‏”‏‏.‏ قَالَ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ ‏”‏ الإِسْلاَمُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ، وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ ‏”‏‏.‏ قَالَ مَا الإِحْسَانُ قَالَ ‏”‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏”‏‏.‏ قَالَ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ ‏”‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رُعَاةُ الإِبِلِ الْبُهْمُ فِي الْبُنْيَانِ، فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ‏”‏‏.‏ ثُمَّ تَلاَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏{‏إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ‏}‏ الآيَةَ‏.‏ ثُمَّ أَدْبَرَ فَقَالَ ‏”‏ رُدُّوهُ ‏”‏‏.‏ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ هَذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ ‏”‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ جَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ مِنَ الإِيمَانِ‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন ‘ঈমান কি?’ তিনি বললেনঃ ‘ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, (ক্বিয়ামাতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইসলাম কি?’ তিনি বললেনঃ ‘ইসলাম হল, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, ফরয যাকাত আদায় করবেন এবং রমযান-এর সিয়ামব্রত পালন করবেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইহসান কি?’ তিনি বললেনঃ ‘আপনি এমনভাবে আল্লাহর ‘ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিয়ামত কবে?’ তিনি বললেনঃ ‘এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে ক্বিয়ামাতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছিঃ বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (ক্বিয়ামাতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।’ অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘কিয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই নিকট…….।’ (সূরা লুক্বমান ৩১/৩৪) এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেনঃ ‘তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন।’ তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ‘ইনি জিবরীল (‘আঃ) ; লোকদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।’ আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসব বিষয়কে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (৪৭৭৭; মুসলিম ১/১ হাঃ ৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৮) সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস Source: ihadis.com

প্রশ্ন হতে পারে – এই হাদিস অনুযায়ীতো পৃথিবীতেই আল্লাহ্‌কে দেখা সম্ভব। কিন্তু আসলেই কি তাই?

এ প্রশ্নের জবাব পেতে হলে, আমাদেরকে আরো কিছু তথ্যানুুসন্ধান করতে হবে। বুঝতে হবে, এই হাদিসে “আল্লাহ্‌কে দেখা” বলতে কি বুঝানো হয়েছে।

না, আমার আপনার নিজের মনের মত করে নয়, বুঝতে হবে – কুরআন আর সুন্নাহের পরিভাষাতেই।

আসুন প্রথমে জানার চেষ্টা করি, ইহ্‌সান (إِحسان) শব্দটির মানে কি?

ইহ্‌সান হচ্ছে কোন কিছু সামঞ্জস্যপূর্ন করে তোলা। যেমন, কোন পরিবারে বা সমাজে যদি যোগ্য নেতৃত্বের অভাব থাকে, কোন মানুষের শক্তি বা সামর্থে যদি কমতি থাকে বা ভাটা পড়ে, তাহলে সেই অভাবটুকু পূরন করাই হচ্ছে ইহ্‌সান। ইহ্‌সান দু’ধরনের হতে পারে, ১) কোন কিছুর অভাব পূরন করে তা সুসামঞ্জস্যপূর্ন করে তোলা, ২) নিজের চরিত্রকে সুসামঞ্জস্যপুর্ন করা বা হাসান চরিত্রের অধিকারী হওয়া। ইহ্‌সান (إِحسان) আর আদ্‌ল্‌ (عدل) অনুরূপ গুনাবলী হলেও এদের মধ্যে সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আদ্‌ল্‌ হচ্ছে কোন কিছু পরিমাপ অনুযায়ী আদায় করা, অর্থাৎ যতটুকু দেবার ঠিক ততটুকু দেওয়া, আর যতটুকু নেবার ঠিক ততটুকু নেওয়া। অন্যদিকে ইহ্‌সান হচ্ছে, নিজেকে উজার করে দেওয়া, নিজের পাওয়াটুকু খানিকটা কম করে হলেও অপরপক্ষকে বেশী দেওয়া। কতটুকু দিলাম – কতটুকু পেলাম, সেটা যাচাই করা ইহ্‌সানের মূল উদ্দেশ্য নয়, ইহ্‌সানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তরিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্নভাবে এমন কিছু আদায় করা,যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করা যায়। [সুত্র – লুগাতুল কুরআন।]

এখন আসুন দেখা যাক ইবাদতের ক্ষেত্রে ইহ্‌সান বলতে কি বুঝানো হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আমরা সালাতে কিয়ামের কথা আলোচনা করতে পারি। কিয়াম শব্দটি এসেছে মূল ক্রিয়াপদ “ক্ক-মা” (كَامَ) থেকে, কিয়াম শব্দটির অর্থ হচ্ছে একাগ্রতার সাথে, দৃঢ়তার সাথে, সুসামঞ্জস্যপূর্নভাবে দাঁড়ানো। এ বিষয়ে আরো দীর্ঘ আলোচনা করা সম্ভব, কিন্তু আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার তাগিদে বিস্তারিত আলোচনা করছি না।

একই মূল ধাতু থেকে আল-কিয়ামাহ্‌ বা কিয়ামত শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ – একটি নির্দিষ্ট সময়, যখন মানুষকে তার রবের সামনে হাজির হতে হবে, দাড়াতে হবে। আর এই দিনটির কথা আল-কুরআনে অসংখ্যবার বর্নিত হয়েছে। অবিশ্বাসীদের পাশাপাশি, মু’মীনদেরকেও এই বলে বারবার সতর্ক করা হয়েছে যে, তারা যেন জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে, প্রতিটি ক্ষনে, প্রতিটি কাজে এই বিশেষ সময়ের কথা স্মরন রাখে এবং আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে সেই দিনের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রান কামনা করে।

তাক্কওয়ার সাথে (আল্লাহ্‌ ভীরুতার সাথে) জীবন অতিবাহিত করা, আর আল্লাহর ইবাদত করা, সেটাই হচ্ছে ইহ্‌সান। সুতরাং, যে সালাত আদায় করার জন্য কিয়াম করলো – সে যেন এমনভাবে একাগ্রতার সাথে সালাত আদায় করে, যেন সে কিয়ামত দিনের কিয়ামে দাড়িয়ে আছে, আর আল্লাহ্‌কে দেখতে পাচ্ছে। এটাই ছিল হাদিসে জিব্রাঈল (আঃ) এর মূল বক্তব্য। আরো স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোন মানুষ যদি এমন একাগ্রতার সাথে ইবাদত না করতে পারে, তাহলে অন্তত সে এতটুকু মনে রাখে – সে আল্লাহ্‌কে দেখতে না পারলেও, আল্লাহ্‌, আল-বাসীর্‌, ঠিকই তাকে সবসময় দেখছেন। তার অন্তরের একাগ্রতার খবর আল্লাহ্‌ , আল-লতিফুল-খবীর, ঠিকই জানেন।

আর এটাই হচ্ছে হাদীসে জীব্রাঈল (আঃ) এ “ইহ্‌সানের” মূল সংজ্ঞা। এই হাদিসে আল্লাহ্‌কে দেখা বলতে এটাই বুঝানো হয়েছে, আল্লাহ্‌কে চাক্ষুস দেখার কথা বলা হয়নি। তাক্কওয়ার সাথে অর্থাৎ আল্লাহ্‌র ভয়কে স্মরণ রেখে, কিয়ামতের কিয়ামের ভয়াবহ মূহুর্তের কথা স্মরণ রেখে, নিজের ইবাদতকে সুসামঞ্জস্যপূর্ন বা হুসনে ইবাদতে পরিনত করাই হচ্ছে ইহ্‌সান।

এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না আমার কথা। প্রমান চান?

তাহলে আসুন একই হাদিস আমরা সহীহ মুসলিম থেকে পড়ি। সহীহ বুখারীর পাশাপাশি সহীহ মুসলিমেও একই সনদে এই হাদিসটি বর্নিত হয়েছে।

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، – وَهُوَ ابْنُ الْقَعْقَاعِ – عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ سَلُونِي ‏”‏ فَهَابُوهُ أَنْ يَسْأَلُوهُ ‏.‏ فَجَاءَ رَجُلٌ فَجَلَسَ عِنْدَ رُكْبَتَيْهِ ‏.‏ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ ‏”‏ لاَ تُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِيمَانُ قَالَ ‏”‏ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكِتَابِهِ وَلِقَائِهِ وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِحْسَانُ قَالَ ‏”‏ أَنْ تَخْشَى اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ قَالَ ‏”‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا رَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَلِدُ رَبَّهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا رَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الصُّمَّ الْبُكْمَ مُلُوكَ الأَرْضِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا رَأَيْتَ رِعَاءَ الْبَهْمِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ مِنَ الْغَيْبِ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَرَأَ ‏{‏ إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَىِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ‏}‏ قَالَ ثُمَّ قَامَ الرَّجُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ رُدُّوهُ عَلَىَّ ‏”‏ فَالْتُمِسَ فَلَمْ يَجِدُوهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ هَذَا جِبْرِيلُ أَرَادَ أَنْ تَعَلَّمُوا إِذْ لَمْ تَسْأَلُوا ‏”‏ ‏.

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) তিনি বলেন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সহাবাদের) বললেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর। কিন্তু লোকেরা তাঁকে প্রশ্ন করতে সংকোচবোধ করল। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে হাঁটুর কাছে বসে বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! ‘ইসলাম’ কি? উত্তরে তিনি বললেনঃ “তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করবে না, সলাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং রমাযানের সওম পালন করবে।” সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! ‘ঈমান’ কি? তিনি বললেন, ‘তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাব, আখিরাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি ঈমান রাখবে। মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার প্রতি ঈমান রাখবে এবং তাকদীরের উপরও পূর্ণ ঈমান রাখবে।’ সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! ‘ইহসান’ কি? তিনি বললেন, “তুমি এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো, আর যদি তুমি তাঁকে না দেখো, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করো”। সে বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। এবার সে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! কিয়ামাত কখন হবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানে না। তবে আমি তার নিদর্শন ও লক্ষণসমূহ তোমাকে বলে দিচ্ছিঃ “যখন তুমি দেখবে কোন নারী তার মনিবকে প্রসব করবে’ এটা কিয়ামাতের একটি নিদর্শন। যখন তুমি দেখবে, জুতাবিহীন, বস্ত্রহীন, বধির ও বোবা পৃথিবীতে শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, এটা একটি নিদর্শন। আর যখন তুমি দেখবে মেষ চালকরা সুউচ্চ দালান-কোঠা নিয়ে গর্ব করছে, এটাও কিয়ামাতের একটি নিদর্শন। যে পাঁচটি অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, কিয়ামাতের জ্ঞান তাঁরই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াত পাঠ করলেন, “অবশ্যই আল্লাহর নিকটই কিয়ামাতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। মাতৃগর্ভে কী আছে তা তিনিই জানেন। কোন জীবই আগামীকাল কী উপার্জন করবে তা জানে না এবং কোন স্থানে সে মরবে তাও জানেনা”-(সূরাহ লুক্‌মান ৩১ : ৩৪) তিনি সূরাহর শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর লোকটি চলে গেলো। তখন তিনি [রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ] সহাবাদের বললেন, তোমরা লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। অথচ অনেক খোঁজা-খুজি করা হলো কিন্তু তাঁরা তাকে আর পেলো না। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইনি জিবরীল (‘আঃ) তোমরা প্রশ্ন না করায় তিনি চাইলেন যেন তোমরা দ্বীন সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ কর। (ই.ফা. ৭; ই.সে. ৭) সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস Source: ihadis.com

একটু লক্ষ্য করে দেখুন, এখানে পরিস্কার ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে, “‏ أَنْ تَخْشَى اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏‏ –তুমি এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো, আর যদি তুমি তাঁকে না দেখো, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করো” – অর্থাৎ তাক্কওয়ার সাথে ইবাদত বা ‘আমল করাই হচ্ছে ইহ্‌সান, আল্লাহ্‌কে চাক্ষুস দেখা নয়। আর আল-কুরআনের বাণীর সাথে – এই সংজ্ঞাটাই সামঞ্জস্যপূর্ন। সুরাহ ফাতিরে বলা হয়েছে,

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ وَإِن تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۗ إِنَّمَا تُنذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ ۚ وَمَن تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّىٰ لِنَفْسِهِ ۚ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ

কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না; যদি সে নিকটবর্তী আত্নীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের রব্বকে না দেখেও ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে নিজেকে সংশোধন করে শুধুমাত্র স্বীয় কল্যাণের জন্যেই, আর আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন। – [সুরাহ ফাতির ৩৫, আয়াত ১৮]

উপরোক্ত আয়াত থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সালাত কায়েমের সাথে আল্লাহকে চাক্ষুস দেখার কোন সংযোগ নেই, বরঞ্চ তাক্কওয়ার সাথে ইবাদত বা ‘আমল করাই মূখ্য উদ্দেশ্য।

ইহ্‌সানপূর্ন ইবাদত আর ‘আমল করার তৌফিক অর্জনের জন্য চাই আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলার অনুগ্রহ। আর সেই তৌফিক অর্জনের আবেদনটুকুও করতে হবে ঠিক তেমনিভাবে, যেমনভাবে শিখিয়েছেন, আমাদের প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ), প্রতি সালাতে – শেষ তাশাহুদের পরে সালামের আগে,

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

নিকটতম উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা আঈন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিকা

নিকটতম অনুবাদঃ হে আল্লাহ! আপনার স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং ইহ্‌সানের সাথে আপনার ‘ইবাদাত আদায়ে আমাকে সাহায্য করুন।

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيُّ، عَنِ الصُّنَابِحِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِهِ وَقَالَ ‏”‏ يَا مُعَاذُ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لاَ تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ تَقُولُ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ ‏”‏ ‏.‏ وَأَوْصَى بِذَلِكَ مُعَاذٌ الصُّنَابِحِيَّ وَأَوْصَى بِهِ الصُّنَابِحِيُّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏.‏

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, হে মু‘আয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সলাতের পর এ দু‘আটি কখনো পরিহার করবে না : “আল্লাহুম্মা আঈন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিকা” (অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ‘ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)। অতঃপর মু‘আয (রাঃ) আস-সুনাবিহী (রহঃ)-কে এবং আস-সুনাবিহী ‘আবদুর রহমানকে এরূপ দু‘আ করার ওয়াসিয়াত করেন। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫২২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস Source: ihadis.com

এ পরও কি গোমরাহীর পথ ছেড়ে – অজ্ঞতার অন্ধকার ছেড়ে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া-তা’আলার নির্দেশিত, রাসুল (সাঃ) কর্তৃক প্রদর্শিত আলোকিত সীরাতুল মুস্তাকীমে – সরল পথে ফিরে আসবেন না?

আল্লাহ্‌ আল-কুরআনে কার নির্দেশের আনুগত্য করার আদেশ করেছেন? প্রতারক সুফীবাদি মানুষদের, নাকি আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া-তা’আলা ও তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর? এই প্রশ্নের জবাব আপনাদের উপরেই ছেড়ে দিলাম।

اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ

আল্লাহ উত্তম বাণী নাযিল করেছেন, একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন (পথ প্রদর্শন করেন)। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। – [সুরাহ আয-যুমার ৩৯, আয়াত ২৩]

আল্লাহ্‌ আমাদের তৌফিক দান করুন, আমরা যেন দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণ্যের নিমিত্তে ইহ্‌সানের সাথে আমাদের ইবাদত ও ‘আমলগুলো আদায় করতে পারি। আ-মী-ন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

16 + twelve =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য