আলহামদুলিল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি কুরআনের বিভিন্ন ভাবে ফিতনার প্রকারভেদ জানিয়ে দিয়েছেন।
সালাত ও সালাম রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ সাঃ এর উপর। যিনি আমাদের সবাইকে জানিয়েছেন ফিতনা থেকে বেচে থাকার উপায়।
ফিতনা শব্দটি আরবি। এর অর্থ নৈরাজ্য, অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, অন্তর্ঘাত, চক্রান্ত, বিপর্যয়, পরীক্ষা প্রভৃতি।
আমদের প্রথমে জানা দরকার ফিতনা কি? মানুষের মধ্যে যে বিষয়, কথা, যুক্তি যাইহোক না কেন বিভেদ সৃষ্টিকরে ফলে মানুষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি, দ্বন্ধ-সংঘাত, ঝগড়া-বিরোধ-তর্ক-বিতর্ক, মত-বিরোধ, মারামারি-দলাদলি, অবিশ্বাস, অনাস্থার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ বা দলাদলি সৃষ্টি করে তাই ফেতনা।
বর্তমান জামানায় পরিবার জীবন থেকে শুরু করে গোষ্ঠি, সমাজ ,দেশ বিদেশ, ধর্ম,আচার, অনুষ্ঠান, শিক্ষা, লেন-দেন, সম্পর্ক, বিশ্বাস সর্বক্ষেত্র ফিতনা দ্বারা আক্রান্ত।
নবিজি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে এমন একটা সময় আসবে ইসলাম পুর্বের মত অপিরিচিত হয়ে যাবে।
বাস্তবতা আসলে তাই, নবিজির হাদিস অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে।
এখনকার সমাজে মুসলিম মুসলিম কে উপহাস করে, তার দ্বীন মানার জন্য।
যেমন কারো মেয়ে হঠাৎ পর্দা শুরু করলে বাবা, মা দুশ্চিন্তা গ্রস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটার কি হয়েছে ভেবে।
তারা বুঝেই না ইসলাম কি?
ছেলে দাড়ি রাখলে বাবা,মা সহ সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
এখন সমাজে এমনও উদাহরণ আছে যে, স্ত্রী স্বামীকে ঘরে ঢুকতে দেয়না স্বামীর দ্বীন পালন এর জন্য।
এরা বুঝেই না প্রকৃত ইসলাম কি?
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“ইসলামের শুরু হয়েছে অপরিচিত অবস্থায় এবং অচিরেই তা অপরিচিত হয়ে যাবে পূর্বের মত। সুতরাং এই অপরিচিত অবস্থায়ও যারা ইসলামের উপর কায়েম থাকবে তাঁদের জন্য সুসংবাদ।” (তিরমিযী – ২৬৩০)
এই হাদিস যখন সাহাবিদের মাঝে বর্নিত হল তারা বুঝতেই পারেনি এটা কিভাবে সম্ভব! কিন্তু এখন আমরা দেখছি কত টা সম্ভব।
আজ মুসলিমরা দলাদলি করছে আর মনে করছে এটাই ইসলাম। অনেক আলেমরাও জানেই না কোথায় কি বলতে হবে।
এই সর্বগ্রাসী ফিতনা মুকাবেলা করতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান দ্বারা।
ইবলিস মুর্খের কাছে তার সওদা বিক্রি করতে পারে, জ্ঞানীর কাছে পারেনা আমাদেরকে ইসলাম এর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
ফিতনা ও অন্তর্কলহ সম্পর্কে মহানবী (সা.) সতর্ক করে গেছেন।
এক হাদিসে এসেছে, ‘সামনে এমন ফিতনা আসবে, যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি থেকে উত্তম হবে। দণ্ডায়মান ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি থেকে উত্তম হবে। চলমান ব্যক্তি ওই ব্যক্তি থেকে উত্তম হবে, যে দৌড়াচ্ছে। ফিতনা যে কাউকেই গ্রাস করবে। তাই যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয় পায়, সে যেন তা গ্রহণ করে—অর্থাৎ ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৩৬০১)
যুব সমাজকে শয়তান টার্গেট করে সবচেয়ে বেশি তাদের কে ফিরিয়ে আনতে হবে, আবেগ আর বিবেক না শরিয়াহ দিয়ে ইসলামকে মানতে হবে।
মুসলমানদের পারস্পরিক রক্তপাতের বিরুদ্ধে হাদিসে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া গুনাহর কাজ। আর তাকে হত্যা করা কুফরি। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৬০৪৪)
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, একদল মুসলিম অন্য দলের ওপর অস্ত্রাঘাত করছে।
অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ওপর অস্ত্র উঠাবে, সে আমাদের (ধর্মের) দলভুক্ত নয়। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৬৮৪৪)
বর্তমান ফিতনার যুগে ইসলামের সঠিক শিক্ষার উপরে থাকতে হলে এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা সর্বস্তরের জনগণের সামনে স্পষ্ট ও বাধাহীনভাবে উপস্থাপন করতে হলে ইলমী-আমলী উভয় ক্ষেত্রে অগ্রসরতা ও অবিচলতার কোনো বিকল্প নেই।
এককথায় দাঈ-মাদউ উভয় শ্রেণির মাঝে ইলম ও তাকওয়ার ব্যাপক চর্চাই হচ্ছে ফিতনার যুগে ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার প্রধান উপায়।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদাপদ থেকে হিফাযত করুন। আমাদের অভাব দূর করে দিন।
আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকর্মে বরকত দিন। আমাদেরকে হালাল রিযক অন্বেষণ করার তাওফীক দিন।
আল্লাহ আমাদের ফিতনাহ থেকে রক্ষা করুন।
