Tuesday, July 16, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরফিলিস্তিনে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের উদ্যোগে হামাস-ফাতাহর বৈঠক

ফিলিস্তিনে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের উদ্যোগে হামাস-ফাতাহর বৈঠক

হামাস ও ফাতাহ নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ নিরসনে একটি যৌথ কমিটি গঠনের শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তুরস্ক এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সমস্যা নিরসনের জন্য উৎসাহিত করেছে।

তুরস্কের উদ্যোগে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের দুই পক্ষ হামাস ও ফাতাহ নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ফের আলোচনায় বসছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনির ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

সোমবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানকে ফোন করে, এ উদ্যোগের জন্য তার প্রশংসা করেন। এছাড়াও তিনি এ ব্যাপারে  আঙ্কারার সহায়তা চান এবং সমঝোতা করার জন্য আহ্বান করেন।

সরকারি প্রটোকলের কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরস্কের একজন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানায়, আঙ্কারা সরাসরি এই সমঝোতার ব্যাপারে যুক্ত নয়। তবে ফিলিস্তিনি সরকার পরিচালনায় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের জন্য উৎসাহ দিয়ে আসছে।

এরদোয়ানের সঙ্গে আব্বাসের মধ্যে সম্পর্কে দূরত্ব থাকলেও ফিলিস্তিন সরকার বর্তমানে আঙ্কারাকে পাশে চায় বলে অভিমত পর্যবেক্ষকদের একাংশের। এর মূল কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় এমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। যা ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তুরস্কের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা বৈরুতের মতো ভিন্ন কোনো শহরে বৈঠকে বসে সাধারণত। আলোচনার ভেন্যু হিসেবে ইস্তাম্বুলকে আমরা কোনো গুরুত্ব দিই না। তবে এই বৈঠক কোথায় হবে সেই সিদ্ধান্ত তাদের (হামাস-ফাতাহ)। যাই হোক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত।’

সূত্র জানায়, ফিলিস্তিনের দুই অংশে ক্ষমতায় থাকা হামাস ও ফাতাহ নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ নিরসনে কৌশলগত সমাধান এবং পরবর্তী নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণে একটি যৌথ কমিটি গঠনের জন্য আলোচনা করছে।

২০০৭ সাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। যখন ফাতাহ ও আব্বাসের অনুসারীদের হটিয়ে হামাস ঐ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

তবে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলোর চুক্তির পর হামাস-ফাতাহসহ ফিলিস্তিনের ১৪টি রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের অবসান ঘটাতে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আগ্রহী।

আঙ্কারার সাথে হামাস বাহিনীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ঐক্য আলোচনায় হামাসের পক্ষ থেকে উপ-নেতা সালেহ আল-অরোরি প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফাতাহ, মহাসচিব জিব্রিল রাজউব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাহি ফাত্তোহকে নিয়ে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনে সৌদি আরব ও আমিরাত অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুপ থাকলেও এরদোয়ান ছিলেন বরাবরই সরব।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে হামাস নেতৃত্বের সাথে এরদোগানের ঘন ঘন আন্তঃসংযোগ ও হামাস কর্মকর্তাদের তুর্কি পাসপোর্ট প্রদানের রিপোর্টসহ অন্যান্য ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইস্রায়েল এরদোগানকে তিরস্কার করে আসছে।

ইস্রায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসাবে আখ্যা দেয়। অন্যদিকে আঙ্কারা সবসময় হামাসকে ফিলিস্তিনের অন্য আরেকটি দল হিসাবে গণ্য করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য