Wednesday, May 22, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

ফ্যাক্টরি

ফেইস বুকের পেইজ থেকে

আমরা দশ ভাই বোন।

হ্যাঁ, আমরা সত্যিই দশ ভাই বোন এবং আমাদের বাবা মা একজনই। আমাদের সবার মাঝে বয়সের পার্থক্য এক থেকে তিন বছরের মধ্যে। তবে সবচেয়ে ছোটজনের জন্ম হয়েছে বেশিদিন হয়নি। এই তো, তখন আমি মাত্র কলেজের ছাত্রী।

কলেজে ক্লাস শুরু করার দুই মাসের পর আমার তৃতীয় বোন আমার ক্লাসে এসে হাজির, হাপাচ্ছে। স্যারের কাছে বলল, “স্যার, আপুর সাথে জরুরী দরকার আছে!” স্যার আমাদের ভালোভাবেই চিনেন। স্কুল কলেজ দুটো এক সাথে হওয়ায় আমরা আর কিছু বদলাইনি। মেট্রিকের ফলাফল পেয়েই এই কলেজেই ভর্তি হয়ে  গিয়েছি।

আমার বোনকে দেখে স্যার আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। আমি উঠে বোনের কাছে যেতেই বলল, “আম্মু হাসপাতালে,তোমাকে বাসায় যেতে বলছে।” আমি দ্রুত ব্যাগ খাতা নিয়ে স্যারের দিকে ফিরে বললাম, “স্যার, আম্মু হাসপাতালে। আমাকে যেতেই হবে!” স্যার মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তবে ক্লাসের সীমানা পার হতে না হতেই স্যারের করা মন্তব্য আমার তীক্ষ্ণ শ্রবণশক্তিতে ধরা পড়ল, আর তাতে হাঁটার গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ল। আমি পেছন ফিরে স্যারকে বললাম, “স্যার, আমার মা বছর বছর বাচ্চা দেয় কারণ আল্লাহ তাকে দেয়। গিয়ে দেখেন, কোটি কোটি বাবা মা দশ বিশ বছরেও সন্তানের মুখ দেখে না!”

আমার বোন আমাকে টেনে ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে আসে। ও এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তবে ওর বুঝ, জ্ঞান, বুদ্ধি একটা ষষ্ঠ শ্রেণির মেয়ের চাইতেও বেশি। আমি যে স্যারকে আরও কয়েকটা কথা শুনাবো, সেটা বুঝতে পেরেই ও আমাকে টেনে বের করে এনেছে।

ঐদিন রাতের দিকে আমরা সবাই মিলে দল বেঁধে ছোট বোনকে দেখতে গেলাম। কি সুন্দর ফর্সা ছোট একটা লাল টসটসে মানুষ! গাল জোড়া দেখে মনে হচ্ছে টেনে দিলেই টুকুস করে সব রক্ত বেরিয়ে আসবে! বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে ও চোখ মেলে আমাদের দেখল। হাতটা টেনে দেখলাম হাতের নখ বড়। এই নখ দিয়ে ইতোমধ্যে নিজের চেহারায় সে কিছু কারুকার্যও করে ফেলেছে। আমার চোখে পানি চলে আসলো ওকে হাতে নিয়ে। ওদিকে দেখলাম আম্মুকে। সে টয়লেটে যাবে বলে খালামনির হাত ধরে অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়াচ্ছে। তার সমস্ত দেহে রাজ্যের ক্লান্তি। কিন্তু যখনই আমাদের দিকে আর তার নবজাতককে দেখছে, তখন তার মনে অফুরন্ত প্রশান্তি দেখতে পাচ্ছি। একটা মানুষ একই সাথে কি করে ক্লান্ত এবং প্রশান্ত হয়, কে জানে!

আমি ভাবনা, ভাই বোনদের মাঝে মেঝ। আমার আগে দুই ভাই আছে, তবে কোনো বোন নেই। বড় বোন হিসেবে সব ভাই বোনদের আদর করা, খাওয়ানো, ন্যাপি বদলানো, কাঁদলে পিছে পিছে ঘুরা, এসব করেছি। ওদের ভালোবাসা দিয়ে দিয়ে আমরাই একে অপরকে পেলেছি। আমার আম্মুর আমাদের পেছনে আলাদা করে দেয়ার মতো সময় কখনোই ছিল না। এমনকি আমরা কখনোই মায়ের একক ভালোবাসা দাবীও করিনি। আমাদের সংসারে আমার মায়ের পাশাপাশি আমরা সবাই কাজ করি, এমনকি আব্বুও। অথচ আমাদের বড় সংসার নিয়ে কি না আমাদের শুনতে হয়!

আজ আমি দুই সন্তানের জননী। আমার বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয় আমাকে বলল, “তোমাদের তো বিশাল ক্রিকেট দল! তোমার আম্মুর তো দেখি অনেক দম!”

আমি হাসিমুখে তার দিকে চেয়ে বলেছিলাম, “জ্বী, আম্মুর অনেক দম। দুয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাকেও দম দেয়!”

ছোট থেকে অনেকের অনেক মন্তব্য শুনেছি। কারণ দুই তিন বছর পর পর আমাদের একজন ভাই কিংবা বোন হত। ছোট বাচ্চা আমাদের জন্য আনন্দের হলেও আমার কিশোরী মনে এক সময় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করল আমার চাচাতো বোনের এক মন্তব্যের কারণে। সে আমাকে বলেছিল, “চাচী তো একেবারে ফ্যাক্টরি খুলে বসেছে! ভালোই চলছে ফ্যাক্টরি। দেখিস, সেঞ্চুরি করে ফেলতে পারিস কিনা! সেঞ্চুরি না হলেও হাফ সেঞ্চুরি যে করবি তোরা, এটা নিশ্চিত!”

আমি তখন পুরো কথার মর্ম না বুঝলেও এটুকু বুঝে ছিলাম, ঘন ঘন সন্তান জন্ম দেয়া একটা পাপ। আর এত গুলো সন্তানের মাঝে একজন হওয়া আরেকটা অভিশাপ! আমি তখন ছোট ভাই বোনদের উপর রেগে থাকতাম। আমার ইমিডিয়েট ছোট বোন আল্পনা আর কল্পনা তখন ছোট দের খেয়াল রাখতো বেশি। আমি উদাস হয়ে গেলাম। বান্ধবীরা যখন নাক ফুলিয়ে ফুলিয়ে বলত যে ওদের আম্মু ওদের কিভাবে বুকে জড়িয়ে ঘুম পাড়ায়, ওদের নিয়ে বিভিন্ন শহরে, পাহাড়ে সমুদ্রে বেড়াতে যায়, তখন আমার অভিমানী কিশোরী মন স্মৃতি হাতড়ে বের করার চেষ্টা করত শেষ কবে মায়ের পাশে রাতে শোয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমরা ফ্যামিলি ট্যুরেও সেভাবে যেতে পারিনি দাদী নানীর বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছাড়া। তাও আবার আমরা ছাড়া ছাড়া ভাবে যেতাম। দেখা যেত এক সাথে দুজন কিংবা তিন জন গিয়েছি। পুরো পরিবার ঘুরব, সেই সৌভাগ্য আমাদের হয় নি।আর আম্মু তো কখনোই কোথাও যেতে পারত না! কারণ আমাদের কোনো না কোনো ভাই বা বোন ছোট থাকত, তাদের পেটে অসুখ লেগে থাকত, নাক বেয়ে বেয়ে পানি পড়ত। আম্মুর কোথাও আর যাওয়া হতো না।

আমার ভেতর অভিমান ভারী হতে হতে পাহাড় জমে যায়। বড় ভাইয়া দুজন অন্য শহরে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে ছোট চাচুর কাছে থাকায় আমিই ঘরের বড় ছিলাম। আর ঘরের বড় হয়ে ছোটদের উপর লাঠি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমার না পাওয়া আদরের কারণে রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতাম। একটা ঘটনা তখন আমার জীবন পাল্টে দিল।

আমাদের বাসায় এক দুর্সম্পর্কের ফুপু আসলো। সে আজকে আঠারো বছর যাবৎ নিঃসন্তান। এমন কোনো মানুষ নেই যার কাছে যায় নি, এমন কোনো চিকিৎসা নেই যা সে করেনি। সে মাঝে মাঝে বাসায় আসে, আমাদের জন্য ব্যাগ ভর্তি করে নানা মিষ্টি, লজেন্স নিয়ে আসে। এসব কারণে সে আমাদের অনেক প্রিয়। ফুপু আম্মুর পাশে বসে বলছিল, “ভাবী, আপনারা কত ভাগ্যবান! আল্লাহ আপনাদেরকে দশটা রত্ন দিয়েছে যার মাঝে সাতটাই মেয়ে। আপনারাও ওদেরকে কি সুন্দর মানুষের মত মানুষ বানিয়েছেন। কায়েস আর কামরুলের তো অনেক প্রশংসা শুনি। আবার মেয়েরাও নিজেদের কাছে রেখে সোনার টুকরো বানিয়েছেন! কিভাবে যে এত সুন্দর করে সবাইকে সামলান! অথচ দেখেন, আল্লাহ আমাকে একজনও দিল না! আল্লাহ তো একজন হলেও দিতে পারত, তাই না?”

আম্মু বলেছিল, “আপা, আপনাকে দেয় নাই এটা একটা পরীক্ষা, আমাকে দিয়েছে এটাও একটা পরীক্ষা! আল্লাহর অনেক রহমত আছে আমার উপর। তানাহলে এত গুলো বাচ্চাকে পালা চাট্টিখানি কথা না। তারপরও মাঝে মাঝে খুব পাগল পাগল লাগে।এত এত বাচ্চা বিরক্ত লাগে! শুরুতে তো আপনার ভাইয়ের সাথে রাগারাগি করতাম। আমি চাচ্ছিলাম না তিনটা বাচ্চার পরে আর বাচ্চা নিতে। অনেক রাগ লাগত। কিন্তু একদিন স্বপ্ন দেখলাম, আমার অনেকগুলো বাচ্চা আমার চারপাশে। আমি কাঁদছি কারণ আমার একপাশে বিরাট আগুনের কুন্ডুলি। আমাকে বলা হচ্ছে, আমাকে ঐ আগুনেই যেতে হবে। কিন্তু আমার সব গুলো বাচ্চা যখন আমাকে চেপে ধরল, তখন ওরাই আমাকে টেনে টেনে অতি সুন্দর এক বাগানে নিয়ে গেল। আমার যখন ঘুম ভাঙলো, আমি দেখলাম ফযরের আযান দিচ্ছে। আমি সেদিন প্রথম আল্লাহর কাছে নামায পড়ে তিনটা বাচ্চার জন্য শুকরিয়া আদায় করে বলেছিলাম আমাকে আরও বাচ্চা দিতে এবং তাদের লালন পালনের ক্ষমতা দিতে। বিশ্বাস করেন, তখন আমার বড় মেয়েটাই তাদের মা হয়ে গেল! আমি দেখলাম, স্কুলে যাওয়ার সময় ও নিজে তৈরি হয়ে ওর বোনদেরকেও তৈরি করে দেয়, মাঝে মাঝে খাওয়ায়, মাঝে মাঝে চুল বেঁধে কাপড় বদলে দেয়। আমি কিন্তু ছোট গুলাকে পালি নি জানেন। আমার এত সময় আছে? রান্না বান্না,কাপড় ধোয়া, গোছানো, ওদের পড়তে বসানো এসব করতে করতে ছোট বাচ্চাগুলোর দিকে আলাদা নজর কখন দিব? তাছাড়া সবাইই তো ছোট!”

ফুপু বললেন,”সত্যিই তুমি অনেক সুন্দর করে ওদের পালছ। আর ভাই শুরুতে কত কম বেতন পেত। মাশাল্লাহ, এখন উনার বেতনও তো বেড়ে গেছে!”

আম্মু বললেন, “আপা, আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটা বাচ্চা তার রিযিক নিয়ে আসে। আমার এত গুলো বাচ্চা হওয়ার পরও বড় ছেলের রিযিক কিন্তু কমে নাই। ওর যা খাওয়ার কথা, যা পাওয়ার কথা সব ও পাচ্ছে। আর এই রিযিক আল্লাহ ওর বাবার হাত দিয়ে দেয়াচ্ছে। আল্লাহ কতই না মহান! অথচ কত মহিলারা বাচ্চা মেরে ফেলে, নষ্ট করে ফেলে! এই বাচ্চাগুলোও আল্লাহর পরীক্ষা, আবার আপনার সন্তান ছাড়া বেঁচে থাকাও পরীক্ষা। আসলে আমাদের আল্লাহ যাইই দেক না কেন, আমাদের তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত”

আমি বদলে গেছি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে শুনে। আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। আমি এতদিন তবে কি ভাবতাম! আমি যখন অভিমানে আমার বঞ্চিত হওয়ার কথা চিন্তা করতাম, তখনও আমি একবারও ভাবিনি যে এই মহিলাটা কি কষ্টটা করছে! নয়টা মাস একটা মানব দেহ নিজের ভেতর ধারণ করে ওদের জন্ম দেয়া এবং এক এক করে দশবার একই যন্ত্রণার মুখোমুখি হওয়া শুধুই আল্লাহর ইচ্ছায়- এ তো চাট্টিখানি কথা নয়! অথচ আমার মাও তো পারত অন্যান্য মাদের মতো পেটে থাকতেই আমাদের মেরে ফেলতে। এতে হয়ত আজকে আমরা দুই বা তিন ভাই বোন থাকতাম। তখন হয়ত কেউ জানতেও পারত না যে আমার মা তার গর্ভে থাকা সন্তানকে মেরে ফেলেছেন! অথচ আজ এমন অপরাধে অপরাধীরা আমার আর আমার আম্মুর দিকে আঙুল তুলে! তার মানে পৃথিবীতে জন্ম দেয়াকেও একটা অপরাধ ভাবা হয়। অথচ মেরে ফেলাকে কোনো পাপের কাজ মনে করাই হয় না!

এরপর থেকে আমি আম্মুর কষ্ট যতটা পারি কমানোর চেষ্টা করেছি। দশ ভাই বোনের জন্য মানুষের কাছে অনেক মন্তব্য শুনেছি, কিন্তু তবুও আমার মন ওদের প্রতি বিষিয়ে উঠেনি। বরং আমি পরম যত্নে আমার বিশাল পরিবারের দিকে চেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছি যিনি আমাদের আশীর্বাদ স্বরুপ এত ভালো বাবা মায়ের সন্তানরূপে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছোট ভাই আর সবচেয়ে ছোট বোন দুজনেই হাফেজ এবং মাদ্রাসাতে পড়ছে। আমার বড় ভাই এখন অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করছেন, মেঝ ভাই একটা বট মাদ্রাসার এসিস্ট্যান্ট প্রিন্সিপাল। আল্পনা এবার সাইকোলজির উপর মাস্টার্স করেছে, পাশাপাশি ও আর কল্পনা দুজনেই প্রতিযোগিতা করে হেফয করার চেষ্টা করছে।ওদের দুজনেরই বিয়ে হয়েছে।আল্পনার এক মেয়ে আর কল্পনার এখনও বাচ্চা হয়নি। আর বাকি দুই বোনের একজন এবার ঢাবিতে মাইক্রোবায়োলজি ভর্তি হলো,এর ছোট জন কলেজে পড়ছে।

আর আমি?

আমি ডক্টর ভাবনা। সন্তানদের নিয়েও আমি সংসারের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার ধরে রেখেছি কেবল এজন্য যে, আমি মানুষের সেবা করতে পৃথিবীতে এসেছি। এত গুলো ভাই বোনের পেছনে সফলকাম বাবা মা, যাদেরকে অনেকেই “পাওয়ারফুল” “দমওয়ালা” “ভালো ফ্যাক্টরি” বলত, তারা কেমন আছে?

তারা ভালোই আছে। কারণ আজ আমরা সবাই বাড়িতে যাচ্ছি ইদের তৃতীয় দিনে ভাই বোনদের মিলনমেলায় যোগদান করতে। বড় ভাবী আর মেঝ ভাবী মিলে সব রান্না করছে, তার তদারকি করছে আমার আম্মু। আর আব্বু আছে তার নাতি-নাতনীদের নিয়ে। সে অপেক্ষা করছে শুধু তার মেয়েরা কখন আসবে। ছোটবেলার মতো এখনো সে আমাদের সব বোনদের ইদের সালামি হিসেবে দুই টাকার নোট দেয়। কালে কালে আমাদের দুই টাকার পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু দুই টাকার নোট বদলায় নি। আমাদের সালামি না বাড়ুক, আমরা তো জানি আমরা আমাদের বাবা মায়ের জন্য কত রহমত, বরকত আর নিজেদের রিযিক নিয়েই এসেছিলাম!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

17 − ten =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য