Thursday, April 18, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমবিবিধফ্রান্সের ভয়াবহ নির্মমতার ইতিহাস

ফ্রান্সের ভয়াবহ নির্মমতার ইতিহাস

ফ্রান্সের মুসলিম বিরোধী নগ্ন কর্মকাণ্ডে কেউ কেউ ভাবছেন, এর পেছনে হাল আমলের কয়েকটি ঘটনা দায়ী। অথচ ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। এর আড়ালে আছে তাদের ইসলাম বিদ্বেষের দীর্ঘ ইতিহাস।

ফ্রান্সের সাথে মুসলিমদের সংঘাতের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় বালাতুশ শুহাদা তথা টুরসের যুদ্ধের মাধ্যমে। উমাইয়া শাসনামলে মুসলিম বীর সেনাপতি আব্দুর রহমান গাফিকি ফরাসিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করেন।
.
একটানা ছয়-সাতদিন যুদ্ধ চলে। কোনো পক্ষই একক সুবিধা করে উঠতে পারছিল না। অষ্টম বা নবম দিনে একটা ঘটনা ঘটলো। কিছু খ্রিস্টান অশ্বারোহী উল্টো দিক থেকে মুসলিম তাঁবুতে অতর্কিতে হামলা করলো। আব্দুর রহমান গাফিকি তীরবিদ্ধ হলেন। মুসলিম সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল।
.
এ যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের কারণে, সামনে ইউরোপের দিকে আগে বাড়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতাপশালী উমাইয়া শাসকরাও কেন যেন সেদিকে আর পা বাড়াননি।
……

যাহোক, এবার ওদের কুকীর্তির ফিরিস্তি তুলে ধরা যাক।

এক: আন্দালুসে প্রথম অভিযান পরিচালনাকারী হলো ফরাসী সম্রাট শার্লাম্যান।

দুই: বার্সেলোনাকে মুসলমানদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলো ফরাসীরা।

তিন: ষষ্ঠ আলফেঞ্চো টলেডো দখল করেছিল। তাকে সাহায্য করেছিল ফরাসিরা।

চার: টলেডো শহর দখল করলো ষষ্ঠ আলফেঞ্চো। শহর হস্তান্তর করার সময় একটা শর্ত ছিল, শহরের বড় মসজিদটা চিরকাল মসজিদ হিশেবে থেকে যাবে। সেখানে মুসলমানরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারবে। দুই মাস পরে আলফেঞ্চো বিশপ বারনারকে শহরের ধর্মীয় দায়িত্ব দেয়। বিশপ মসজিদকে গীজায় রূপান্তরিত করেছিল। সে ছিল ফরাসী। ১০৮৫ সালে মসজিদ গীর্জায় রূপান্তরিত হয়।
১২২৬ সালে তৃতীয় ফার্ডিন্যান্ড মসজিদটিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে বলে। পরে সেখানে নির্মাণ করা হয় গথিক গীর্জা। ১৪৯৩ সালে আবার সংস্কার করা হয়।
আর টলেডো শহর দখলে আলফেঞ্চোকে ফরাসী সৈন্যরাও সাহায্য করেছিল। পরে মুরাবিতদের বিরুদ্ধেও তাকে ফরাসীরা সাহায্য করেছিল।

পাঁচ: আরাগন রাজ্য মুসলমানদের থেকে সারাকুস্তা শহর দখল করে নিয়েছিল। তখন খ্রিস্টান আরাগনকে সাহায্য করেছিল ফরাসীরা।

ইউসুফ বিন তাশাফীনের বিরুদ্ধে যাল্লাকার যুদ্ধেও তাকে ফরাসীরা সাহায্য করেছিল।

ছয়: তুরতুশা শহর দখলেও ফরাসীদের সহযোগিতা ছিল।

সাত: উকাব যুদ্ধে অষ্টম আলফেঞ্চোকে ৫০ হাজার সৈন্য দিয়ে ফরাসিরা সাহায্য করেছিল।

আট: বিভিন্ন ক্রুশেড হামলা বের হয়েছিল ফ্রান্সের ক্লেরমন্ট শহর থেকে।

নয়: আরবরা ইউরোপীয় খ্রিস্টানদেরকে ‘ফারানজা’ বলতো। এখনো বলে। কারণ, ক্রুশেড যুদ্ধে আগত বেশির ভার যোদ্ধাই ছিল ফরাসী।

দশ: আরনল্ড যে হজযাত্রীদেরকে উত্যক্ত করতো। ধরে ধরে হত্যা করতো, নবিজী (সা.)কে অশালীন ভাষায় গালি দিতো। এ নরাধম ছিল ফরাসী। সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহ. তাকে নিজ হাতে হত্যা করেছিলেন।

এগার: বর্তমানের স্পেনে রাজা চার্লল। তার মূলও ফরাসী। মনসুরার যুদ্ধে বন্দী হয়েছিল ফরাসী স¤্রাট নবম লুইস। রাজা চার্লস তারই বংশধর।

বারো: মিসরের মনসুরার যুদ্ধে নবম লুইস বন্দী হয়েছিল। তার সাথে একজন ঐতিহাসিকও বন্দী হয়েছিল। তার নাম গুয়ানফেল। সে লিখেছে:
-স¤্রাট যুদ্ধে পরাজয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করেছিল। শেষে কয়েকটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল:
ক: সামরিক ক্রুশেডের পাশাপাশি ‘শান্তিময় ক্রুশেডও চালাতে হবে। দুটোর লক্ষ্য হবে এক, কিন্তু অস্ত্র হবে ভিন্ন।
খ: পাশ্চাত্যের ধর্মপ্রচারকদেরকে ব্যবহার করতে হবে। তারাই শান্তি ক্রুশেডে নেতৃত্ব দিবে। তারা ইসলামি শিক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তার অগ্রগতি ঠেকাবে। তাদেরকে আত্মিকভাবে নিঃসাড় করবে।
গ: পাশ্চাত্যের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাচ্যের খ্রিস্টানদেরকে ব্যবহার করতে হবে।
ঘ: প্রাচ্যের ভেতরেই পাশ্চাত্যের জন্যে ঘাঁটি তৈরী করতে হবে।
কারণ মুসলমানদের সাথে শুধু যুদ্ধ করে পেরে ওঠা যাবে না। তাদের ধর্মে এক প্রচন্ড প্রতিরোধ শক্তি আছে। তারা এ শক্তিবলে বলীয়ান হয়ে জিহাদ করে। আত্মত্যাগ করে। সম্মান ও নিজেদের ভূমি রক্ষা করে।
তাদের মধ্যে এ-চেতনা থাকলে, হারানো মুশকিল। তাদের এই আত্মিক শক্তিকে নষ্ট করে দিতে হবে। বিকৃত করে দিতে হবে।

.
তেরো: সম্রাট নেপোলিয়ন মিসরে প্রবেশ করে জামে আযহারের মসজিদে ঘোড়াসহ ঢুকেছিল। মসজিদকে অপবিত্র করেছিল। কুরআন কারীমের বড় বেশি অবমাননা করেছিল। মসজিদের পেশাব-পায়খানা পর্যন্ত করেছিল। ছাত্রদের কিতাবপত্র-সামান সব তছনছ করে ফেলা হয়েছিল। জামে আযহারকে মদ্যপানের আখড়া বানিয়েছিল। তিন বছরে মিসরের এক তৃতীয়াংশ জণগনকে শহীদ করেছিল। শায়খুল আযহার শারকাবী-কে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল।

.
চৌদ্দ: ফ্রান্স আলজেরিয়াতে ১০ মিলিয়ন মুসলমানদেরকে শহীদ করেছিল।
.
পনেরো: ফরাসি পত্রিকা শার্লি এবদো। নবিজী (সা.)কে ব্যঙ্গ করে কার্টুট ছাপিয়েছিল। প্রতিবাদ করার পর, তারা দম্ভভরে ঘোষণা দিয়ে আরও ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ফরাসি সরকার ও জণগন এটাকে স্বাগত জানিয়েছিল।
.
ষোল: ফরাসীরা গণহত্যা চালিয়েছিল লিবিয়ায়। সিরিয়ায়। তিউনিসিয়ায়। আফ্রিকার অনেক দেশে। বর্তমানে মালিতে। ইরাকে। সিরিয়াতে। এখনো প্রতিদিন হত্যা করছে।
.
সতেরো: ফ্রান্সের আনফালিদ (আরবী উচ্চারণ) জাদুঘরে দুইটা মাথার খুলি উপর-নীচ করে রাখা হয়েছে। উপরেরটার নাম জেনারেল ক্লেয়ার। তাকে হত্যা করা হয়েছিল মিসরে। লক্ষ্য ছিল নেপোলিয়ন। ভুলে ক্লেয়ার মরেছে। মুজাহিদের নাম সুলাইমান হালাবী। মিসরবাসীর প্রতি অপমান সহ্য হয়নি তার। প্রতিশোধ নিতেই এটা করেছিলেন। তার ডানহাতকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তারপর সূচালো দন্ডেরও ওপর রেখে শহীদ করা হয়েছে। সে জাদুঘরে নিচের তাকে রাখা খুলিটা এ মহান মুজাহিদের। পাশে নেমপ্লেটে লেখা: কুখ্যাত খুনি সুলাইমান হালাবী।
.
আঠারো: ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল অর্ধশতাব্দীরও বেশি মুসলমানদের শাসনে ছিল। ফ্রান্সের ‘রন’ নদীর তীর এক সময় মুসলিম মুজাহিদদের পদভারে প্রকম্পিত থাকতো।
.
উনিশ: ১৯৩৮ সালের আগস্ট মাসে, আলজেরিয়ার আওরাস অঞ্চলে ‘কুরআনি মাদরাসা’গুলো এক সরকারী ঘোষণায় বন্ধ করে
দেয়। প্রায় ৮ লাখ শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার গভীর ষড়যন্ত্র রচনা করা হয়েছিল।
.
বিশ: ১৯৫২ সালে ফরাসি পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মী বলেছিল:
-সমাজতন্ত্র পাশ্চাত্যের জন্যে কোনো হুমকি নয়। ইসলাম ও মুসলমানরাই প্রকৃত হুমকি। তারা স্বতন্ত্র একটা সভ্যতার দাবীদার। আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য। মৌলিক ও যৌক্তিক। তারা নিজেরাই স্বতন্ত্র বিশ্ব গঠন করতে সক্ষম। নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই তারা এটা পারবে। পাশ্চাত্য সভ্যতার বিন্দুমাত্র সাহায্য না নিয়েই। আর তারা যখন শিল্প-উৎপাদনে স্বতন্ত্র হয়ে পড়বে, তাদের ঐতিহ্যটাকে তারা অন্যদিকে ছড়িয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠবে। বিলুপ্ত করে দিবে পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল ভিত। সেটাকে ছুঁড়ে ফেলবে ইতিহাসের জাদুঘরে।
.
একুশ: ২০১৩ সালের কথা। মধ্য আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসো বুযিযি ফ্রান্সের কাছে সাহায্যের আবেদন করলো। বিদ্রোহীরা তার রাজধানী দখল করে নিচ্ছে। ফ্রান্স ২৫০ সৈন্য পাঠাল। শুধু বিমানবন্দর রক্ষা করার জন্যে। কারণ ওখানে ফরাসী স্বার্থ জড়িত।
ঠিক একই দিন জানুয়ারির ১১ তারিখ ২০১৩ সালে, ফ্রান্স মালিতে ২৫০০ সৈন্য পাঠিয়েছিল। কারণ সেখানে ইসলামি দল ক্ষমতা দখল করতে এগিয়ে আসছে।
এখন প্রশ্ন হলো: দুটি রাষ্ট্রই ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ। দুই দেশের খনিজ সম্পদও সমান। কিন্তু দুই নীতি কেন?
.
বাইশ: ১৯৬৭ সালে ইহুদি সৈন্যরা কুদসে অনুপ্রবেশ করে। প্যারিসে বসবাসরত ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আনন্দ মিছিল বের করেছিল। তাদের হাতে ছিল ইসরাঈলের জন্যে দানবাক্স। ওপরে লেখা ছিল:
-মুসলমানদেরকে হত্যা করো।
মাত্র চারদিনে চাঁদা উঠেছিল এক হাজার মিলিয়ন ফ্রাংক।
ইসরাঈল থেকেও কার্ড ছাপানো হয়েছিল। লেখা ছিল ‘চাঁদের পরাজয়’। এসব কার্ড বিক্রির জন্যে পাঠানো হয়েছিল ফ্রান্সে। সংগৃহীত হয়েছিল আরও মিলিয়ন মিলিয়ন ফ্রাংক।
.
তেইশ: ১৭ অক্টোবর, ১৯৬১ সাল। প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হলো। আলজেরিয়ান অভিবাসী মুসলমানরা ছিল উদ্যোক্ত। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। ৩০০রও বেশি মুসলিমকে সেদিন শহীদ করে দেয়া হয়েছিল। আর অগণিত আহতকে জীবিত অবস্থায় সীন নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। নদীর পানি লাল হয়ে গিয়েছিল। দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ভেসে ওঠা লাশ দেখা গিয়েছিল।
.
চব্বিশ: ১৯২৯ সাল। এক ফরাসি পত্রিকা একটা অঙ্কিত কাল্পনিক ছবি ছাপলো। তাতে দেখানো হয়েছে, ফিলাস্তীনে একদল মুসলমান ইহুদিদেরকে তলোয়ার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে। অথচ তখন এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
.
পঁচিশ: ১৮১৮ সালে দাই হাসান পাশা আলজেরিয়ার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি খুবই যোগ্য লোক ছিলেন। যে কোনও উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হতো।
২৯ এপ্রিল, ১৮২৭ সালে, ঈদুল ফিতরের দিন। সবাই এসেছে। ফরাসি দূতও উপস্থিত। এক পর্যায়ে ফরাসি দূতের কথাগুলো অপমানজনক মনে হলো পাশার কাছে। তিনি ফরাসী দূতকে দরবার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বললেন। দূর বৈঠক থেকে নড়লো না। পাশা তাকে রুমাল উঁচিয়ে চূড়ান্ত হুমকি দিলো।
দূর সেখান থেকে বের হয়ে, বানিয়ে-ফেনিয়ে দেশে দেশে একটা চরমপত্র লিখলো। চিঠির সূত্র ধরে ফরাসী সৈন্য এসে আলজেরিয়া দখল করে নিল। ১৩০ বছর সে দখল স্থায়ী হয়েছিল।
.
ছাব্বিশ: নেপোলিয়ন মিসরে আসার পর মিসরবাসী বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তখন অসংখ্য আলিম-ওলামা ও নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। বড় বড় ব্যক্তিদেরকেও অত্যন্ত অপমানজনকভাবে হত্যা করা হয়। সে বিদ্রোহ দমনে ২৫০০-রও বেশি মানুষতে হত্যা করা হয়।
নেপোলিয়ন এক চিঠিতে ফরাসী দার্শনিক ‘রেনে’-কে গর্বভরে লিখেছিল:
-প্রতি রাতেই ৩০ জন নেতার শিরোশ্চেদ করি। আশা করি তাদের উচিত শিক্ষা হবে।
.
সাতাশ: ১৭৯৮ সালে মিসরীরা নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। অক্টোবরে। ফরাসী সেনার যতভাবে নিরীহ মানুষকে দমন করা সম্ভব, সব পন্থা অবলম্বন করলো।
অসহায় মানুষগুলো জামে আযহাবে আশ্রয় নিলো। নেপোলিয়ন আদেশ দিলো, দুর্গের ওপর কামান রেখে, জামে আযহার উড়িয়ে দিতে। ভেতরে যারা আছে তাদেরকে হত্যা করতে।
কামানের আঘাতে শুধু আযহার নয়, আশেপাশের ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেলো। নেপোলিয়ন জানতো, মিসরীরা আযহারকে সম্মানের চোখে দেখে। সে সম্মান ধূলোয় মিশিয়ে দিলে, তাদের মনোবল ভেঙে যাবে। আর আন্দোলনের নেতাগুলো আযহার থেকেই বের হয়।
.
আঠাশ: ক্রুশেড হামলা শুরু হয়েছিল ১০৯৬ সালে। শেষ হয়েছে ১২৭০ সালে। প্রথম ক্রুশেড পরিচালনা করেছিল বুতরুস। সে ছিল এক মিথ্যাবাদী ফরাসী। চরমভাবে পরাজিত হয়েছিল।
শেষ দুই ক্রুশেডও চালিয়েছিল নবম লুইস। প্রথমটাতে বন্দী হয়েছিল মিসরে। পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছিল।
পরে আবার ১২৭০ সালে ক্রুশেডে এসেছিল। আক্রমণ করেছিল তিউনিসিয়ায়। সেটা দখল করা সহজ বিধায়। কিরতাজ এলাকার বীরসা নামক পাহাড়ের কাছে সে এবং তার সৈন্যরা মহামারীতে আক্রান্ত হয়। সবাই মারা পড়ে। লুইসকে পুড়িয়ে দেয়া হয়। তখনকার রীতি অনুযায়ী।
১৮৮১ সালে যখন ফরাসীরা তিউনিসিয়া দখল করতে এল, তখন তারা বীরসা পাহাড়ে একটা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করলো।
ফরাসীর তাদের ক্রুশেডীয় চিন্তা নিয়েই লিপ্ত ছিল। ১৯৩০ সালে তারা ক্রুশ উঁচিয়ে ঘোষণা তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে অভিযান চালাবে!
.
উনত্রিশ: ১৯৩০ সালে ফরাসীরা তাদের আলজেরিয়া দখলের একশ বছর পূর্তি উৎসব পালন করে। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভ দূমার্গ বলেছিল:
-এসব অনুষ্ঠান উদযাপনের মূল রহস্য হলো, আলজেরিয়াতে ইসলামের জানাযার আয়োজন করা।
.
ত্রিশ: ১৯৪৫ সালে মিত্র বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করে। আলজেরিয়ার অধিবাসীরাও এর আনন্দে বিজয়মিছিল বের করে। পাশাপাশি তারাও স্বাধীনতার স্লোগান দেয়। ফরাসীরা বিষয়টাকে গুরুতরভাবে গ্রহণ করলো।
তারা সাথে সাথে ভারী অস্ত্র, কামান, ট্যাংক, সজোঁয়া যান, বিমান নিয়ে মিছিলের ওপর হামলা করলো। ফ্রান্স দাবী করলো: তিনশ লোক নিহত হয়েছে।
একদিন পর অবস্থা বেগতিক দেখে স্বীকার করতে বাধ্য হলো: ১০০০ লোক নিহত।
একমাস পর স্বীকার করলো: দুই হাজার লোক নিহত।
বিশ বছর পর ফ্রান্স স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে: ৪৫ হাজার নিরপরাধ মানুষকে তারা হত্যা করেছে।
কিন্তু আলজেরিয়ার স্থানীয় পরিসংখ্যান হিশেব করে বের করেছে: নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
.
একত্রিশ: আলজেরিয়ায় নারীদের সবচেয়ে নিম্নতম শাস্তি ছিল: ট্রাকের পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে, অনেক দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া।
.
বত্রিশ: ফরাসীরা মরক্কোতে, মুসলমানদের হত্যা করে রাস্তার পাশে লাশ বা কর্তিত খুলি ঝুলিয়ে রাখতো। একেকটা শাল-খুলি চল্লিশ বছর থাকার নজিরও আছে।
.
তেত্রিশ: ১৯১৭ সাল। ফ্রান্স আফ্রিকার চাদে আক্রমণ করেছে। এক পর্যায়ে ৪০০ আলিমকে জড়ো করলো। সবার মাথা গিলোটিকে কেটে ফেলা হয়েছিল।
.
চৌত্রিশ: ১৮৫২ সালে ফ্রান্স আলজেরিয়ার আগওয়াত শহরে প্রবেশ করেছিল। একরাতেই তারা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল শহরের দুই তৃতীয়াংশ মানুষকে।
.
পঁয়ত্রিশ: ১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ফ্রান্স সর্বমোট ১৭ বার আণবিক বোমা পরীক্ষা করেছে আলজেরিয়াতে। এর রাসায়নিক তেজক্রিয়ায় নিহতের সংখ্যা ফ্রান্স কখনোই প্রকাশ করেনি। ধারণা করা হয় ২৭ হাজার হতে পারে। কারো কারো মতে একলাখের কম নয়।
.
ছত্রিশ: ফ্রান্স ১৯৬২ সালে আলজেরিয়া ছাড়তে বাধ্য হয়। আসার আগে তারা সেখানে অসংখ্য মাইন পুঁতে রেখে আসে। বলা হয়, মাইনের প্রকৃত সংখ্য মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। প্রায় ১১ মিলিয়ন মাইন। বিষয়টা অবিশ্বাস্য মনে হলেও, সত্যি। ফরাসিরা স্রেফ জানোয়ার।
.
সায়ত্রিশ: ফ্রান্স আলজেরিয়াতে ছিল ১৩২ বছর। প্রথম সাত বছরেই তারা শহীদ করেছিল এক মিলিয়ন মুসলমান। শেষ সাত বছরে শহীদ করেছিল দেড় মিলিয়ন।
.
আটত্রিশ: ফ্রান্স তিউনিসিয়াতে ছিল ৭৫ বছর। মরক্কোতে ছিল ৪৪ বছর। মৌরিতানিয়ায় ছিল ৬০ বছর। সেনেগালে ছিল তিনশ বছর।

(তথ্য- শায়খ আতিকুল্লাহ)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

4 + seventeen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য