Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধবাংলাদেশের মুসলিম সমাজে বিবাহ ও নারীবাদ

বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে বিবাহ ও নারীবাদ

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক “বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে বিবাহ ও নারীবাদ” গ্রন্থে বলেন, ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে ফিরে আসার সময় পথে মাগরিবের সময় হয়ে যায় ৷ এক আবাসিক মাদ্রাসায় তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করে, তাঁর স্ত্রীকে সালাত আদায়ের জন্য একটু জায়গা করে দিতে অনুরোধ করেন ৷ তাঁর কথা শোনে তারা এমনভাবে তাকালেন যেন এ ধরনের ঘটনা তারা জীবনে প্রথম শুনেছেন এবং দেখেছেন ৷ আমাদের চরমোনাইপন্থী ইমাম সাহেবের মতে, মহিলাদের মসজিদে নামায পড়ার সুযোগ করে দেওয়া ইয়াহুদী-নাসারাদের দোসর আহলে হাদীসের চক্রান্ত ৷ তারা সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করার জন্য মহিলাদের ঘর থেকে বের করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ৷ মাঝে মাঝে তিনি খুতবাতে আহলে হাদীসের বিরূদ্ধে কিছু না কিছু বক্তব্য দিয়ে থাকেন ৷

ইসলামী দলগুলোর মাঝে চরমোনাই পীরের “বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন”কে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বলা যায় ৷ এক সময় তারা ডাঃ জাকির নায়েকের প্রচুর বিরোধীতা করতো, এখন আহলে হাদীসের বিরোধীতা করে ৷ ২০১২ এর শেষ বা ২০১৩ এর শুরুতে চরমোনাইয়ের মাহফিলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল ৷ সেখানে মনসুর হাল্লাজ, রাবেয়া বসরীর অনেক মারেফতি বয়ান শুনেছিলাম ৷ মনসুর হাল্লাজের ভন্ডামি সম্পর্কে অনেক ওলামা মাশায়েখের বক্তব্য পাওয়া যায় ৷ মক্কা ইউনিভার্সিটির হাদীস বিভাগের শিক্ষক শায়খ জামীল যাঈনু বলেন, রাবেয়া বসরী ছিল একজন গায়িকা ৷ শায়খ জামীল যাঈনুর এই বক্তব্য জানার আগ পর্যন্ত রাবেয়া বসরীকে বিরাট তাপসী মনে করতাম, এখন মনে হয় বসরার মমতাজ ৷ মমতাজও কিন্তু তার মুরিদদের কাছে মারেফতের বিশাল কান্ডারী ৷

মারেফত সম্পর্কে যে শাখায় আলোচনা করা হয় সেটা হলো—সূফীবাদ ৷ উপমহাদেশের বর্তমান সূফীবাদীরা সাধারণত কওমী ও বেরেলভী এই দুই ধারায় বিভক্ত ৷ কওমীদের মতে উজানী, চরমোনাই এরা হক্কানী পীর; মাইজভান্ডারী, সুরেশ্বরী এরা ভন্ড ৷ আবার বেরেলভীদের মতে, কওমীরা ওহাবী ভন্ড ৷ আবার জামায়েত ইসলামীর মতে পীর উজানী, চরমোনাই, মাইজভান্ডারী, সুরেশ্বরী সব প্রকার পীরই ভন্ড ৷ মাওলানা মওদুদী দেওবন্দ বা আলিয়া থেকে সনদপ্রাপ্ত মাওলানা ছিলেন না ৷ তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ম্যাট্টিক বর্তমান এসএসসি সমমান ৷ তিনি কিভাবে “মাওলানা” উপাধি পেলেন এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা নেই ৷ মাওলানা মওদুদীর কন্যা হুমায়রা মওদুদী তাঁর “হামারে ওয়ালেদীন, শাজার হায়ে ছায়েদার” গ্রন্থে বলেন, চিশতীয়া তরিকার বংশধর মাওলানা আমদুস সালাম চিশতী ছিলেন মাওলানা মওদুদীর শিক্ষক ৷

জামায়েত ইসলামীর লোকদের চরমোনাই পীরের বিরূদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তৃতা শোনলে মনে হয় দ্বীনের জন্যই তাদের এই পীর বিরোধীতা ৷ খুব বেশি দিন হয়নি অধ্যাপক গোলাম আযম চরমোনাইয়ের সাথে ঐক্য করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু চরমোনাইয়ের বৈরি মনোভাবের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি ৷ কওমী মাদ্রাসার আলেমগণ কখনোই মাওলানা মওদুদীর রাজনীতিকে সঠিক মনে করেন নি ৷ চরমোনাই পীরের জামায়েত ইসলামী বিরোধীতার ফলে কওমী ও তাবলীগের লোকদের সমর্থন অনেকটা তাদের দিকে ৷ জামায়েত ইসলামীর লোকেরা কওমী সম্পর্কে কী পরিমাণ বিদ্বেষ পোষণ করে, কওমী আলেমগণ জামায়েত ইসলামী সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করে, তাদের সাথে একান্তভাবে না মিশলে তা উপলব্ধি করা যায় না ৷ মাঝে মাঝে বিভিন্ন ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিযার মাধ্যমে দুই গ্রুপের বিরোধ সামনেও চলে আসে ৷ যদিও উভয় পক্ষই ঐক্যের কথা বলে ৷

কওমী মাদ্রাসাগুলোতে যারই একটু প্রভাব বাড়ে তিনিই মোল্লা ওমর হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এবং নতুন রাজনৈতিক দল দাঁড় করিয়ে দেন ৷ যদিও কওমীদের দৃষ্টিতে গণতন্ত্র একটি কুফরী শাসন ব্যবস্থা কিন্তু দিন শেষে তাদের অনেক নেতাই কুফরীতন্ত্রের পদপ্রার্থী ৷ যেসব কওমী দলগুলো মহিলাদের মসজিদে নামায পড়তে যাওয়াকে ফিতনা মনে করে, তারাই ভোটের জন্য মহিলাদের মানুষের বাড়ি বাড়ি পাঠায় ৷ তাদের মাঝে কেউ কেউ এখন মহিলাদের নিয়ে মিছিল মিটিংও করে ৷ ভোট চাইতে গিয়ে এসব মহিলারা যদি কোন চরিত্রহীন পুরুষের লালসার শিকার হয়, তখন এরা বলবে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে ধর্ষিত হয়েছে ৷ মিছিলে গ্রেফতার হলে বলবে, সরকার ইসলাম প্রচারে বাধা দিচ্ছে ৷ এভাবেই ইসলামের নাম বিক্রি করে তারা ইসলামপ্রিয় জনগণের সহানুভূতি আদায় করে ৷ অথচ সে গিয়েছিল ভোট চাইতে, দলের পক্ষে মিছিল করতে ৷

জামায়েত ইসলামী গণতন্ত্রকে কুফরী মনে করে না এবং তাদের মাঝে প্রচুর তাবলীগের বিরোধীতা পাওয়া যায় ৷ যেহেতু তাবলীগ একটি দাওয়াতি সংঘঠন, তাদের দিয়ে হরতাল, আন্দোলন, জ্বালাও, পোড়াও সরকার পতন কিছুই হচ্ছে না সুতরাং তাদের দৃষ্টিতে তাবলীগ দ্বীনের জন্য কিছুই করছে না ৷ যদিও জামায়েত ইসলামী বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার ছিল তবুও তাদের অধিকাংশ নেতা কর্মীর মনোভাব হল— রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরাঊনকে রেখে দেশে ইসলাম কায়েম সম্ভব নয় এবং তাদের প্রায় আলোচনাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উচ্চাভিলাস ৷ সে লক্ষ্যেই তারা কখনো আওয়ামীলীগ, কখনো বিএনপির সাথে আছে ৷

সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থে বলেন, “আওয়ামীলীগের হাত ধরেই বাংলাদেশে সেক্যুলার মতবাদের আমদানি ৷” ডঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব “ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ” নামক গ্রন্থে সেক্যুলারিজমকে কুফরি মতবাদ বলেছেন ৷ জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি লোকেদেরকে জাতীয়তাবাদের/গোত্রবাদের দিকে আহবান করে অথবা জাতীয়তাবাদের/গোত্রবাদে উন্মত্ত হয়ে ভ্রষ্টতার পতাকাতলে যুদ্ধ করে নিহত হলে সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করলো ।” জামায়েত ইসলামের গায়ে সেক্যুলার ও জাতীয়তাবাদ উভয়েরই দূর্গন্ধ আছে ৷ তাদের কাছে এসব রাজনৈতিক কৌশল ৷ অথচ রাসূল (সাঃ) বলেছেন “আমার এক হাতে চন্দ্র ও আরেক হাতে সূর্য এনে দিলেও, আমি সত্য প্রচার থেকে বিরত হব না ৷”

ফেরাঊন নীল নদে ডুবে মরার পর মূসা (আঃ) তার সিংহাসন দখল করতে যাননি ৷ তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হিজরত করেছিলেন ৷ নবীদের মাঝে দাউদ (আঃ) ও সোলাইমান (আঃ) বাদশাহ ছিলেন ৷ ইউসুফ (আঃ) বাদশাহ হয়েছিলেন, তাঁর মনে কিন্তু বাদশাহ হওয়ার কোন মোহ ছিল না ৷ মোহাম্মদ (সাঃ) কে মদিনার লোকেরা নিজ থেকেই নেতা মেনে নিয়েছেন ৷ প্রচার, প্রচারণা, গণসংযোগ কোন কিছুরই প্রয়োজন হয় নি ৷ সারা জীবন ক্ষমতার রাজনীতি করেও আল্লাহ না চাইলে ক্ষমতার মুখ দেখা যায় না ৷ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন ৷ সাংগঠনিক দিক দিয়ে জামায়েত অনেক শক্তিশালী হলেও, কিন্তু দ্বীনের সেবায় কওমীদের তুলনায় তারা নাবালক ৷ মুক্তিযুদ্ধে চরমোনাই পীর সহ কওমী আলেমগণ এমনকি ভন্ড দেওয়ানবাগী যে ভূমিকা পালন করেছিল জামায়েত ইসলামীর ভূমিকা ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত ৷

ডঃ রাগেব সারজানী “তাতারীদের ইতিহাস” গ্রন্থে বলেছেন, তাতারদের সময়ে আরব মুসলমান আর অনারব মুসলমানদের ইসলামের মাঝে পার্থক্য ছিল, যার কারণে সংখ্যায় অধিক হয়েও সামান্য সংখ্যক তাতারীদের কাছে তারা ছিল অসহায় ৷ বর্তমান সময়েও আরব ও অনারব মুসলমানদের মাঝে পার্থক্য আছে ৷ আরব দেশগুলোতে রাতে তিনটা-সাড়ে তিনটায় মহিলারা তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য মসজিদের দিকে চলে যায়, কেউ তাদের নিয়ে কিছু বলারও সাহস করে না ৷ আমাদের এখানে দিনে-দুপুরে ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের শিরোনামও পড়তে হয় ৷ মহিলাদের মসজিদে নামায পড়তে দ্বীন ইসলামে বাধা নেই, কিন্তু আমাদের দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বাধা আছে ৷ চরমোনাইয়ের আহলে হাদীস বিরোধীতা যতটুকু না দ্বীনের জন্য তার চেয়ে অধিক দলের জন্য ৷ আহলে হাদীসের মতে, মুসলিম শাসকের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না ৷ এ নীতি যদি মানা হয়, তাহলে বাংলাদেশে কোন ইসলামী দলেরই অস্তিত্ব থাকে না ৷ কারণ, রাজনৈতিক দল গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ক্ষমতা দখল ৷

যারা সাধারণত ইসলামী দল করেন, তাদের অনেকে দল করাকে ইবাদতের মত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং আরো মনে করেন দল না করলে ইসলামের সেবা হয় না ৷ দল না করেও যে ইসলামের জন্য কাজ করা যায়, তার সর্বোৎকৃষ্ট ঊদাহরণ ডঃ খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিঃ) এবং তাঁর লেখা বই গুলো ৷ এক সময় চরমোনাইয়ের মুরিদেরা প্রতি বৃহস্পতিবার “ইল্লাললাহ” জিকির করতে করতে মসজিদ কাঁপিয়ে তুলতো ৷ স্যারের বয়ানে প্রথম শুনেছিলাম, এ ধরনের জিকির করা “শয়তানের সুন্নাত ৷” চরমোনাইয়ের এসব জিকির বন্ধ হয়েছে এবং তারা পীর উপাধি ত্যাগ করে “শায়খ” উপাধি ধারণ করেছে, ডাঃ জাকিরকে নিয়ে সমালোচনাও আগের চেয়ে অনেক কমেছে, মনসুর হাল্লাজ রাবেয়া বসরীর কাহিনীও অনেক হ্রাস পেয়েছে ৷ আমরা আশাবাদি আস্তে আস্তে তাদের আরো পরিবর্তন হবে ৷

যে কারণে জামায়েত ইসলামী তাবলীগকে অপছন্দ করে, ঠিক একই কারণে তারা আহলে হাদীসকেও অপছন্দ করে ৷ শরঈ বিভিন্ন মাসআলার ক্ষেত্রে জামায়েত ও আহলে হাদীসের আলেমদের বর্ণণা প্রায় একই হলেও শাসক ও শাসন ব্যবস্থা সংক্রান্ত মাসআলার ক্ষেত্রে তাদের মতামত ভিন্ন ৷ আহলে হাদীসের আলেমগণ শাসকের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করতে নিষেধ করেন, আনুগত্য বজায় রাখতে বলেন, হরতাল-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের মত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নিষেধ করেন ৷ ইসলামের নামে রাজনৈতিক কর্মসূচীর বাস্তবায়নে আহলে হাদীস একটি বিরাট বাঁধা ৷ আহলে হাদীসের আলেমগণ শাসকের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করতে নিষেধ করলেও, শাসকের অবৈধ কাজকে সমর্থন করতে হবে বা শাসকের অপকর্মের বিরূদ্ধে সাফাই গাইতে হবে এমন কেন নির্দেশনা প্রদান করেননি ৷ সাম্প্রতিক সময়ে আলজাজিরার ডকুমেন্টারি নিয়ে আহলে হাদীস দাবীদার কিছু ভাইয়ের মনোভাবই এমনটা ফুটে উঠেছে, যেন শাসকের অবৈধ কাজ ও অপকর্মের সাফাই গাইতে হবে ৷

আলজাজিরা সম্পর্কে “বাঙালির সৌদি বিদ্বেষ” বইয়ে বলেছিলাম, আল জাজিরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইয়াহুদি সংবাদ সংস্থা বিবিসি’র আরবী বিভাগের সাংবাদিকদের দিয়ে ৷ নাইজেল প্যারাসন, স্টিভ ক্লার্ক, গ্যারি ন্যাপিয়ার, লিন্ডসে অলিভার, ওয়েন্ডি ফাগান, কলিন শেরিফ, অল আনস্টি, এলান মার্কার, কলিনা রেইড, ক্লেইটন সুইশার এর মত লোকেরা আলজাজিরার বোর্ড অব ডিরেক্টর এর আসনে বসে আছে ৷ এরা ইসলামের চরম শত্রু! যে দুই, একজন মুসলিম সাংবাদিক আছে তাদের মতাদর্শই কি সেটা যাচাই করা সম্ভব না৷ মেহেদী হাসান নামে বৃটিশ বংশোদ্ভুদ এক বাংলাদেশী সাংবাদিক অনেকের কাছে পরিচিত ৷ তাকে দেখেছি ব্রুনাইয়ে সমকামীদের পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদন্ড প্রদানকে বর্বর আইন বলে নিন্দা করেছে ৷ এই ধরনের সমকামী মানসিকতার মুসলমানরাই আল জাজিরার সাংবাদিক ৷

যখন এসব লিখেছিলাম তখন সরকার সমর্থক অনেকেই উপহাস করেছিল, পেট্টোডলারখোর অপবাদ দিয়েছিল ৷ আজ যখন আলজাজিরা তাদের বিরূদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, এখন তারাই আলজাজিরার পোস্টমর্টেম শুরু করেছে ৷ কাল যদি আলজাজিরা তাদের পক্ষে রিপোর্ট পেশ করে, তখন এরাই আবার তাদের বন্দনা শুরু করবে ৷ কারণ, ওরা দলকেই দ্বীন বানিয়ে নিয়েছে ৷ দল যেদিকে, ওরাও সেদিকে ৷ আলজাজিরা সম্পর্কে এখনো মনোভাব পরিবর্তন হয়নি, আবার সব বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়েও দেই না ৷ বিরোধীদলের মত সরকার পতনের স্বপ্নও দেখি না ৷ সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা সুশাসনের স্বপ্ন দেখি ৷ দেশে কি হচ্ছে সেটা দেখার জন্য বিদেশি মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না ৷ দেশের পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখলেই বোঝা যায় ৷

আলজাজিরা প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে ৫ অক্টোবর ২০২০ সালের এক লেখায় বলেছিলাম, দেশে মাফিয়াতন্ত্র চলছে ৷ বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ওয়ার্ডে আজিজ আহমেদের পরিবারের মত অস্ত্রধারী গ্যাংস্টার আছে ৷ এই অস্ত্র কোন অমুসলিমদের সাথে জিহাদ করছে না, দেশকেও রক্ষা করছে না, দেশের সাধারণ জনগণকে জিম্মি করার জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে ৷ কোন কোন জায়গায় এসব গ্যাংস্টাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চেয়েও ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী ৷ সরকার দলের প্রায় কমিটিতে অস্ত্রবাজ আর ইয়াবাখোরদের দৌরাত্ম্য ৷ ভদ্রলোকদের রাজনীতিতে আসার পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ৷ এভাবে না সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, না সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা যায়, না স্থিতিশীল দেশ তৈরি করা যায় ৷

আহলে হাদীস সমর্থকরা যারা দ্বীনের দোহাই দিয়ে আলজাজিরাকে তুলোধুনো করে, সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করছেন, তারা কি এসব গ্যাংস্টারদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করার জন্য কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? দ্বীনি ভাইয়েরা কি এদের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে, দ্বীনি বইয়ের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবেন? ক্ষমতার জোরে এরা মানুষের উপর যে জুলুম করছে তার প্রতিকার করতে পারবেন? যদি না পারেন তাহলে কেন আপনাকে শাসকের পক্ষে সাফাই গাইতে হবে? কেউ যদি অবৈধ কর্ম করে গর্ভবতী হয়ে যায়, আপনি কি তার বাচ্চার পিতৃত্ব দাবি করেন? তাহলে শাসকের অপকর্মের দায়ভার কেন আপনার ঘাড়ে নিবেন?

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক সম্পর্কে যতটুকু জানি, তিনি বিভিন্ন মতাদর্শ নিয়ে গবেষণা করে শেষে আহলে হাদীস হয়েছেন ৷ এরকম অনেককেই পাওয়া যাবে যারা এক সময় জামায়েত ইসলামী, চরমোনাই, বিএনপি সহ বিভিন্ন দল ও মতের পথে ঘুরে আহলে হাদীসে এসে থিতু হয়েছেন ৷ অনেকে একে একটি দ্বীনি প্ল্যাটফর্মের নজরে দেখছেন, আর আপনারা একে দলের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন! শিকড়ের টান মানুষ সহজে ভুলতে পারে না ৷ সেজন্য বলি, দ্বীন প্রচার করতে চাইলে, দ্বীন প্রচার করুন ৷ রাজনীতি করতে চাইলে, রাজনীতি করুন ৷ দ্বীন আর দল দু’টো একত্র করতে গিয়ে দ্বীনের বিকৃিতিই ঘটানো হয়, দ্বীন পালন হয় না ৷

©️Sayedur Rahman

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

fourteen − three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য