Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের রায়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির সঙ্গে তিন উত্তর কোরীয় হ্যাকার জড়িত। ওই তিন উত্তর কোরীয় নাগরিক হ্যাকিং ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাঁরা এ পর্যন্ত ১৩০ কোটি ডলার চুরি বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আদায় করেছেন বলে রায়ে বলা হয়েছে। গত বুধবার এক রায়ে এসব কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। তবে এর আগে উত্তর কোরিয়াও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাইবার ক্রাইমের মাস্টারমাইন্ড’ হিসাবে অভিহিত করেছিল। এদিকে ৪৭ বারের মতো পিছিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ৩১ মার্চ পরবর্তি দিন ধার্য করেছেন আদালত।  
জানা যায়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে আট কোটি দশ লাখ ডলার চুরি যায় এবং এই অর্থ ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজাল ব্যাংকের শাখায় চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে যায় এবং সেখান থেকে দ্রুত অর্থ উত্তোলন করা হয়। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায় প্রমাণ হওয়ায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) এর প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপক মাইয়া দিগুইতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করে ফিলিপিন্সের আঞ্চলিক আদালত। এই অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৬ সালের অগাস্টেই আরসিবিসিকে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১শ কোটি পেসো অর্থাৎ ১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরসিবিসি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং যে শাখাটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল সেখানকার পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। এছাড়া সেখানকার আইন বিভাগ এ বিষয়ে প্রায় এক ডজন মামলা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, নিউইয়র্কের আদালতে কয়েকটি মামলা করেছিলো বাংলাদেশ যেগুলো খারিজের আবেদন করেছিলো রিজাল ব্যাংক কিন্তু আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে চারটি মামলা চালিয়ে যাওয়ার রায় দিয়েছিলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটান ডিসট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা করেছিলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মামলায় মূলত ফিলিপিন্সের রিজাল ব্যাংক এবং এর পদস্থ কর্মকর্তাসহ কয়েক ডজন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো। অভিযোগে বলা হয়েছিলো রিজার্ভের অর্থ চুরি করতে ‘অনেক বছর ধরে বড় আকারের ও অত্যন্ত জটিল পরিকল্পনা’র সাথে ব্যাংক এবং এসব ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অজ্ঞাত কিছু উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের সহযোগিতায় ওই অর্থ চুরি হয়েছে। হ্যাকাররা ‘নেসট্যাগ’ ও ‘ম্যাকট্রাক’ নামক ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে ঢুকতে পেরেছিলো। অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থ নিউইয়র্ক ও ফিলিপিন্সে রিজাল ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে এই অর্থ ক্যাসিনোর মাধ্যমে বেহাত হয়ে যায়।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে তিন উত্তর কোরীয় নাগরিক হ্যাকিং ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাঁরা ১৩০ কোটি ডলার চুরি বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আদায় করেছেন বলে রায়ে বলা হয়েছে। বুধবার এক রায়ে এসব কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির সঙ্গেও তাঁরা জড়িত বলে রায়ে বলা হয়েছে।
আদালত বলেছেন, তিনজন উত্তর কোরীয় নাগরিক জন চ্যাং হিওক, কিম ইল ও পার্ক জিন হিয়ক অনেক দিন ধরে দেশটির সামরিক গোয়েন্দা শাখার হয়ে কাজ করছেন। বস্তুত, উত্তর কোরিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তাঁরা গত কয়েক বছরে বড় বড় হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কখনো প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাঁরা হামলা চালিয়েছেন, কখনো কখনো স্রেফ আর্থিক কারণে হামলা করেছেন। তাঁরা বিশ্বের শীর্ষ ব্যাংক ডাকাত। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সংবাদে এই তথ্য জানানো হয়েছে।  মূলত সাইবার হামলার মধ্য দিয়ে তাঁরা বড় বড় অপকর্ম করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, মেক্সিকো, মাল্টা ও আফ্রিকা থেকে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তাঁরা ১২০ কোটি ডলার হ্যাকিং মারফত আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে হানা দিয়েও তাঁরা অনেক অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বলা হয়েছে, এই হ্যাকারদের হানা দেয়ার প্রিয় এক জায়গা হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। ম্যালিশাস বা ক্ষতিকর ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপ ছেড়ে দিয়ে এই অদৃশ্য ডিজিটাল মুদ্রার জগতে তাঁরা হানা দিত। ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডিজিটাল মুদ্রার জগতে হানা দিয়ে তাঁরা ১০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেন।
আদালতের রায়ের সঙ্গে এফবিআই অভিযুক্ত তিন হ্যাকারের বিরুদ্ধে ওয়ান্টেড নোটিশ জারি করেছে। সবার বিরুদ্ধেই ডিজিটাল জালিয়াতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে ষড়যন্ত্রের আরেক অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাইবার ক্রাইমের মাস্টারমাইন্ড’ হিসাবে অভিহিত করে কিম জং উনের দেশ উত্তর কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আমেরিকাকে সাইবার ব্যাংক ডাকাত বলে অভিহিত করেছে। বিশ্বজুড়ে ব্যাংক হ্যাক করার ক্ষেত্রে পিয়ংইংয়ের প্রচেষ্টা সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছে উত্তর কোরিয়া। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে উত্তর কোরিয়া সরকারের কোন যোগসূত্র নেই। উত্তর কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক যে ব্যাংক হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে সে সবের কোন সত্যতা নেই। এগুলো যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা প্রচারিত বে আইনী গুজব ছাড়া কিছুই নয়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এবং এফবি আই সহ তিনটি ফেডারেল এজেন্সি ২৬ আগস্ট জারি করা একটি সতর্কতায় বলেছিল যে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বিস্তৃত পরিসরে বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলা চালিয়ে একাধিক দেশের ব্যাংক থেকে প্রতারণামূলক ভাবে অর্থ স্থানান্তর এবং এটিএম থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করেছিল। এটা উত্তর কোরিয়ার ব্যাংক ডাকাতি প্রকল্প। মার্কিন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) এই কাজের জন্য দায়ী গোষ্ঠীটিকে ‘বিগলবয়েজ’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। উত্তর কোরিয়া এর প্রতিক্রিয়ায় বলে, সাইবার স্পেসে অপরাধমূলক কাজকর্মের প্রতিটি রূপ ও আকারের বিরোধিতা করা তাদের রাষ্ট্রীয় অবস্থান এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য আমাদের দেশে সংহত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। যাদের কাজ সাইবার ক্রাইম নির্মূল করা। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য ভন্ডামি করেছে এবং বিশ্বের অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সাইবার যুদ্ধ চালানোর জন্য ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে এ বিষয়ে সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিসানুল হক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় শ্রীলঙ্কা, জাপান, চীন, ফিলিপাইনসহ অনেক দেশের নাগরিক জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত করেছি। তবে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতেও মামলা চলছে। আমরা যদি এখনই এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করি তাহলে সেই টাকা ফেরত আনতে সমস্যা হতে পারে। তাই সেই মামলার অগ্রগতি দেখে আমরা চার্জশিট দাখিল করব। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে, বিদেশে যে টাকা চলে গেছে সেই টাকা দেশে ফেরত আনা।
এদিকে চলতি মাসে ৪৭ বারের মতো পিছিয়েছে রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ। ১৭ ফেব্রুয়ারি এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ৩১ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী নতুন দিন ধার্য করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার জিআর শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। ওই বছরের ১৫ মার্চ এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। ১৬ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য