Wednesday, February 28, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমযুগ জিজ্ঞাসাবাক স্বাধীনতা এবং ইসলাম

বাক স্বাধীনতা এবং ইসলাম

মগাচিপ গংরা মনে করেন যে যা খুশী তাই বলতে পারা, ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারার অপর নাম “বাক স্বাধীনতা”।

আসলেই কি তাই? দূঃখিত মগাচিপ গং! ইসলামের শত্রুদের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব করে হয়তো ইউরোপের ভিসা পাওয়া যায়, নিজেদের স্বার্থ কিছুটা আদায় করে নেওয়া যায়, কিন্তু তাতে আপনাদের মূর্খতার কালিমা ঢেকে রাখা যায় না।

তাহলে, বাক স্বাধীনতা আসলে কি?

প্রকৃতপক্ষে বাক-স্বাধীনতা এমন একটা অধিকার, যা মানুষকে মানুষ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার অধিকার দেয়। সমাজে অন্যায় অবিচার হলে, মানুষ কথা বলতে চায়, প্রতিবাদ করতে চায়, সংবাদপত্র বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা চায়, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার চায়। এটাই বাক স্বাধীনতার মূল অনুপ্রেরণা।

এই অধিকার, রাস্ট্রের প্রতিপক্ষে জনগনের অধিকার।  Public vs Government.

রাস্ট্র মানুষকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।

এটা অন্য ধর্মকে, অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কটাক্ষ করার অধিকার নয়।

মডেল হিসাবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংশোধনী (First Amendment) বিলের কথা আলোচনা করতে পারি।

সেখানে বাক-স্বাধীনতার কথা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

“Congress shall make no law…abridging freedom of speech.”

মানুষের বাক স্বাধীনতা খাটো করে, কংগ্রেস এমন কোন আইন প্রনয়ন করবে না।

অর্থাৎ মানুষ যদি সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায়, তা বলার অধিকার তাকে দিতে হবে। তাকে দমন পীড়ণ করা যাবে না। এমন অবস্থা করা যাবে না যে, তাকে জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে।

বাক-স্বাধীনতা সংরক্ষন বিল জনগণের যেসব অধিকার সংরক্ষন করবে তা হলোঃ

১) কথা না বলার অধিকার (বিশেষ করে পতাকাকে স্যালুট না করার অধিকার)।

কাউকে জোর-জবরদস্তি কথা বলতে বাধ্য করা যাবে না। কিছু না বলে নীরব থাকার অধিকার তার আছে। সরকার কাউকে জোর করে কিছু বলানোর অধিকার রাখেন না। কোন স্লোগান দিতে বাধ্য করতে পারেন না। কেউ যদি পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন করে স্যালুট দিতে না চায়, এ বিষয়ে তাকে বাধ্য করা যাবে না, বা তার বিরুদ্ধে আইনি বিচার কার্যক্রম চালানো যাবে না।

West Virginia Board of Education v. Barnette, 319 U.S. 624 (1943).

২) প্রতিবাদ স্বরূপ ছাত্রদের কাল ব্যাজ ধারন করার অথবা কালো আর্মব্যান্ড পরিধান করার অধিকার। (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশকালে জোর করে তা খুলে নেয়া যাবে না)।

Tinker v. Des Moines, 393 U.S. 503 (1969).

৩) রাজনৈতিক বক্তব্য সাধারনের মাঝে পৌছে দেবার জন্য,  প্রয়োজনে, সাধারণভাবে গ্রহনযোগ্য কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করার অধিকার।

আর এ কারনেই আমেরিকার জনগণ তাদের রাস্ট্রপতিকে নিয়ে ঠাট্টা মশকারা করতে পারে, তাদের টেলিভিশন মিডিয়াতে।

Cohen v. California, 403 U.S. 15 (1971).

৪) যে কোন রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য অর্থ সাহায্য প্রদান করার অধিকার।

Buckley v. Valeo, 424 U.S. 1 (1976).

৫) বানিজ্যিক পন্য বা সেবা বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালানোর অধিকার (কিছু শর্ত সাপেক্ষে)

Virginia Board of Pharmacy v. Virginia Consumer Council, 425 U.S. 748 (1976); Bates v. State Bar of Arizona, 433 U.S. 350 (1977).

৬) প্রতীকী প্রচারণা চালানোর অধিকার, (যেমন প্রতিবাদ স্বরূপ পতাকা পুড়ানোর অধিকার)।

Texas v. Johnson, 491 U.S. 397 (1989); United States v. Eichman, 496 U.S. 310 (1990).

এবার আসুন দেখি বাক-স্বাধীনতা বিল কি কি অধিকার সংরক্ষন করে না, অর্থাৎ কোন কাজ বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে করা যাবে নাঃ

১) এমন কোন কাজ করা, যা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবে। (যেমন বিনা কারনে, জনপূর্ণ সিনেমা হলে “আগুন আগুন” বলে চিৎকার করা, কেননা হুড়োহুড়ি করে বেড়িয়ে আসতে গিয়ে অনেক মানুষ আহত হবে, বা নিহতও হতে পারে)।

Schenck v. United States, 249 U.S. 47 (1919).

২) অশ্লীল পন্য নির্মান ও বিতরণ করা।

Roth v. United States, 354 U.S. 476 (1957).

৩) যুদ্ধের প্রতিবাদ স্বরূপ “ড্রাফট-কার্ড” পুড়ানো।

United States v. O’Brien, 391 U.S. 367 (1968).

৪) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্কুল ম্যাগাজিনে ছাত্রদের কোন আর্টিক্যাল প্রকাশ করা।

Hazelwood School District v. Kuhlmeier, 484 U.S. 260 (1988).

৫) স্কুলের অর্থায়নে আয়োজিত কোন অনুষ্ঠানে অশ্লীল বক্তব্য প্রদান করা।

Bethel School District #43 v. Fraser, 478 U.S. 675 (1986).

৬) স্কুলের অর্থায়নে আয়োজিত কোন অনুষ্ঠানে অবৈধ নেশা-দ্রব্যের পক্ষ্যে সাফাই গাওয়া।

Morse v. Frederick, __ U.S. __ (2007).

তো বাক স্বাধীনতা বিষয়ে সাধারণ একটা ধারনা নিশ্চয়ই পাওয়া গেলো।

অন্যের ধর্মকে কটাক্ষ করে কিছু বলা যাবে, এমন কোন অধিকারের কথা কি এখানে বলা হয়েছে?

আবারো দূঃখিত মগাচিপ গং! আপনাদের সংজ্ঞায়িত উদ্দেশ্য প্রনোদিত বাক স্বাধীনতা, আর প্রকৃত বাক-স্বাধীনতার মাঝে বিস্তর ফারাক।

আপনারা যা করছেন, তা বাক-স্বাধীনতা না, অসভ্যতা। আপনাদের মত অসভ্যদের জন্যই, ইউরোপের মত দেশে নতুন করে আইন-প্রনয়ন করতে হয়েছে যে, ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে কটাক্ষ করে কিছু বলা বাক-স্বাধীনতা নয়।

https://www.dw.com/en/calling-prophet-muhammad-a-pedophile-does-not-fall-within-freedom-of-speech-european-court/a-46050749

উপসংহারে আমরা বলতে পারি যে, অন্যদের ধর্মকে কটাক্ষ করার জন্য বাক-স্বাধীনতা অধিকারের জন্ম হয়নি। বাক স্বাধীনতা অধিকারের জন্ম হয়ে সরকারের দূর্নীতির বিরুদ্ধে, শোষনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য।

Its a right preserved for public against the government.  Don’t use it for wrong cause!

আপনারা যারা মগাচিপ গংদের আইডল মনে করে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছেন, আরেকটু পড়াশোনা করে, অসভ্যতা ছেড়ে মানুষ হয়ে যান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two + three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য