Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমযুগ জিজ্ঞাসাবাল্যবিবাহ নিরোধ আইন" জাতির জন্য "অভিশাপ" নাকি "আশীর্বাদ

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন” জাতির জন্য “অভিশাপ” নাকি “আশীর্বাদ

“বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন” জাতির জন্য “অভিশাপ” নাকি “আশীর্বাদ” আসুন বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপ ও যুক্তির মানদন্ডে পর্যালোচনা করে দেখি।

বাল্যবিবাহ কি?
”””””””””””””””””””””””
অপ্রাপ্ত বয়সে ছেলে এবং মেয়েদের বিবাহ দেয়া হচ্ছে বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ একটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ১৯২৯ সালে ২৪শে সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতে এ আইন প্রতিষ্ঠা করা হয়। উল্লেখ্য এই আইনে মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪ বছর ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বাতিল করে, ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। ২০১৭ সালের বাংলাদেশের “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন”পুনরায় পাশ করা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়।

বাল্যবিবাহের কুফলসমূহ
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””
১. শারীরিক অপরিপক্কতা।
২. নারীর শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া।
৩. মাতৃ মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়া।
৪. শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়া।
৫. বিবাহ বিচ্ছেদ।
৬. প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হওয়া।
৭. পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্র ক্ষতির মুখে ধাবিত হওয়া ইত্যাদি।
উপরোল্লেখিত কুফল গুলোর কারণে “বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন” পাস করা হয়।
আসুন দেখি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপ, এবং যুক্তির মানদন্ডে কারণগুলো উত্তীর্ণ হয় কিনা।

১.শারীরিক অপরিপক্কতা।
“”””””””””””'”””””””””””””””'”””””””””””
চিকিৎসা বিজ্ঞান এর গবেষণা অনুযায়ী বয়সন্ধিকালের   পর ছেলে এবং মেয়ে শারীরিকভাবে পরিপক্ক হয়ে ওঠে।

“The United States national library of medicine”
( NML) এর গবেষণা অনুযায়ী মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৫ বছর আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ৯ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয়।

আমাদের দেশে মেয়েদের ১২ থেকে ১৭ বছর এবং ছেলেদের  ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বিবাহ দেয়া হয়ে থাকে।
তাহলে, ছেলেমেয়েদের এই বয়সকে শারীরিক অপরিপক্কতা বলা এটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক এবং অযুক্তিক।
 আসুন দেখি , সারা বিশ্বে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সে ছেলেমেয়েদের যৌনতার হার।
“Sexual activity and contraceptive use among teenagers in the United States 2015 “এর গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল নিচে আলোকপাত করা হলো।

“Just Friend”এর সাথে শারীরিক সম্পর্কের হার:
____________________________________________

বয়স অনূর্ধ্ব ১৪-১৪: ২১.৯% মেয়ে, ৩৮.৭% ছেলে।

বয়স ১৫-১৬: ৮.৮% মেয়ে ১৮.৩%ছেলে।

বয়স ১৭-১৯: ১৩.৬% মেয়ে ২৯.৩% ছেলে।

প্রথম পরিচয়ে শারীরিক সম্পর্কের হার:
___________________________________
বয়স অনূর্ধ্ব ১৪-১৪: ৩.৪% মেয়ে ৮.২% ছেলে।

বয়স ১৫-১৬: ১.৮% মেয়ে ৪.০% ছেলে।

বয়স ১৭-১৯: ১.৫% মেয়ে ১৩% ছেলে।

প্রথমবার বেড়াতে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কের হার:
___________________________________________
বয়স অনূর্ধ্ব ১৪-১৪: ৩.২% মেয়ে ১০.৫% ছেলে।

বয়স ১৫-১৬: ৯.৩% মেয়ে ১৪.৬% ছেলে।

বয়স ১৭-১৯: ৬.২% মেয়ে ৯.৬% ছেলে।

প্রেমের সম্পর্ক বজায় রেখে শারীরিক সম্পর্কের হার:
______________________________________________
বয়স অনূর্ধ্ব ১৪-১৪: ৬৬.৯% মেয়ে ৪০.১% ছেলে।

বয়স ১৫-১৬: ৭৬.৭% মেয়ে ৬০.৫% ছেলে।

বয়স ১৭-১৯: ৭৫.৩% মেয়ে ৪৭.৫% ছেলে।

* CDC- এর “youth risk behaviour surveillance system” নামে ২০১৭ সালের একটি জরিপ থেকে আরও কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।
_______________________________________________
১৩ বছরের পদার্পণের আগেই কমপক্ষে একজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করছে উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এমন ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা।

৯ম শ্রেনী (বয়স ১৪): ২.২% মেয়ে, ৫.৭% ছেলে।

১০ম শ্রেনী (বয়স ১৫) ২.২% মেয়ে ৪.৬% ছেলে।

১১শ শ্রেনী ( বয়স ১৬) ১.৯ মেয়ে ৩.৫% ছেলে।

১২শ শ্রেনী ( বয়স ১৭) ১.৯% মেয়ে ৫.১% ছেলে।

অর্থাৎ গড়ে ২% মেয়ে এবং ৪.৮% ছেলে ১৩ বছরের আগে শারীরিক সম্পর্ক করছে।

CDC- এর অন্য এক জরিপ অনুযায়ী গড়ে ৭.৯% মেয়ে এবং ১১.৬% ছেলে ১৪-১৭ বছর বয়সের মধ্যেই চারজন বা ততদিক ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছে।

“The national survey of family growth”( NSFG)
এর জরিপ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যে সকল ছেলেমেয়েরা ১৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে তাদের মধ্যে_

* ৫৪.৬% অবশিষ্ট ছেলে মেয়ে স্বীকার করেছে যে এ কাজটি তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছে।

* ৮.৫% ছেলেমেয়ে বলেছে এ কাজটা তারা অনিচ্ছাকৃত ভাবে করেছে।

* ৩৭ শতাংশ ছেলেমেয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

বার্তা সংস্থা “The Economists”২০১৮ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে ২০১৫ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী,৯ম শ্রেণী থেকে ১২শ শ্রেণী এর অধ্যায়নরত অবস্থায় ৪১% ছেলেমেয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এই ৪১% এর মধ্যে থেকে আবার ১২% ছেলেমেয়ে কমপক্ষে ৪ জনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

স্কুল কলেজ গুলোতে যৌনতার হার এত বেশি হওয়ার কারণ হলো সহশিক্ষা। সহ শিক্ষার ফলে ছেলেমেয়েদের যৌনতা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।

তবুও সুশীল নামধারী এসব বর্ণচোরা দুশ্চরিত্ররা ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদের বিয়ে নিয়ে সমালোচনা করবে, সভা করবে, মানববন্ধন করবে, আলোচনা করবে গোল টেবিলে বসবে। ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদের বিয়েকে “বাল্যবিবাহ” নাম দিয়ে এর বিরুদ্ধে অফ আইন বানিয়ে এ বিয়ে কি অবৈধ ঘোষণা করেছে। এখন তাহলে আমার প্রশ্ন হল_

*বাল্য পতিতাবৃত্তি বা যৌনাচারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় না কেন?

*বাল্য প্রেমকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় না কেন?

*ছেলেমেয়ের অবাধ খোলামেলা মেলামেশা কে অবৈধ ঘোষণা করা হয় না কেন?

*বাল্য পর্ণগ্রাফি বা ওয়াশ্লীল ছবিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় না কেন?

*স্কুল কলেজ গুলোতে সহশিক্ষা ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় না কেন?

*১২ থেকে ১৪ থেকে ১৫ বছর ছেলেমেয়েদের যৌন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কেন?

বাল্যবিবাহের জন্য পারিবার সমাজ রাষ্ট্র ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছে না।  বরং বাল্য যৌনতার জন্য পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্র ক্ষতির দিকে সম্মুখীন হচ্ছে। এজন্য দায়ী কিছু সুশীল নামধারী মুখোশধারী কিছু দুশ্চরিত্র মানুষ দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও বর্তমান জাতীয়সহ আন্তর্জাতিক সকল দেশগুলো তাদেরকে সমর্থন করছে।
বাল্যবিবাহের যেসব কুফল দেওয়া হয়েছে সবগুলো অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিক এগুলোই একটিও যুক্তির মানদন্ডে উন্নীত নয়। সবগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অনেক বড় পোস্ট হয়ে যাবে এজন্য এখানে সীমাবদ্ধ রাখলাম।

সর্বশেষ বলি এই অযৌক্তিক অবৈজ্ঞানিক,ন্যাক্কারজনক, জঘন্য আইন রহিত করা হোক।


(লেখক মন্তব্য মাহমুদ আলী)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

10 + ten =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য