Saturday, July 20, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদাওয়াবিশ্বাস, বিজ্ঞান ও যুক্তিঃ নাস্তিকতার অপনোদন ও স্রষ্টার অস্তিত্বের যৌক্তিক প্রমাণ- ৪র্থ...

বিশ্বাস, বিজ্ঞান ও যুক্তিঃ নাস্তিকতার অপনোদন ও স্রষ্টার অস্তিত্বের যৌক্তিক প্রমাণ- ৪র্থ পর্ব

বিজ্ঞান কি স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারে? 

আমরা একটি কল্পিত দ্বীপে বিচরণ করে আসি। এই দ্বীপে একদল মানুষ বাস করে,  যাদের গঠন প্রণালী আমদের মতনই কিন্তু তাদের দর্শনেন্দ্রীয় অর্থাৎ চক্ষু নেই, তারা জন্মান্ধ। এই দ্বীপের প্রতিটি মানুষ চক্ষু ছাড়া জন্ম হয়, তারা বড় হয়, সংসার ধর্ম পালন করে, কৃষি কাজ, মৎস্য আহরণ এবং পশু পালন এই তাদের জীবিকা। কোন সুদুর অতীতে তাদের এখানে বসবাস শুরু হয়েছিলো কেউ বলতে পারেনা এবং তখন থেকেই তারা বহির্জগত থকে বিচ্ছিন্ন। এই মানুষ গুলো সবাই চারটি ইন্দ্রিয়ের অধিকারী। ঘটনা ক্রমে এরা বহির্বিশ্বের সংস্পর্শে আসে। মনে করুন  আপনাকে তখন সেই দ্বীপে পাঠানো হলো তাদের রঙ  সম্মন্ধে ধারণা দিতে। সমুদ্রে সুর্যোদয় দেখতে কত সুন্দর, তার উপর আপনি কবিতা লিখে নিয়ে গেলেন। কিন্তু তাদের যে চারটি ইন্দ্রিয় যথাঃ চর্ম, কর্ণ, নাসিকা এবং জিহবা এই দিয়ে তাদের বর্ণ চেনাতে হবে, তাদের সুর্যোদয়ের সৌন্দর্যের ধারণা দিতে হবে। আপনি দিন-রাত তাদের সামনে  সুর্যোদয়ের কবিতা আবৃত্তি করুন, মোহনীয় লাল-গোলাপের সৌন্দর্য বর্ণনা করুন, আপনি কখনোই তাদের সুর্য চেনাতে পারবেন না, লাল- গোলাপের মোহনীয় রূপ দ্বারা তাদের মুগ্ধ করতে পারবেননা। সুন্দর দৃশ্যের গল্প বলে আপনি তাদের দর্শন বোঝাতে পারবেননা।  চর্ম স্পর্শের কাজ করবে, নাসিকা ঘ্রান নেবে, কর্ণ শুনবে, জিহবা স্বাদ নেবে। কিন্তু আপনে তাদের দর্শন কি জিনিস বোঝাতে পারবেননা। হয় তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলবে, অথবা তারা বিশ্বাস করবে, দর্শন নামের একটি জিনিসের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু তা তাদের বোধগম্যের বাইরে। শুধু যখন সুর্য ওঠে তখন তাদের বোঝাতে পারবেন সুর্যের আলোর কারনে তারা উষ্ণতা অনুভব করে, সুর্য ডুবে গেলে প্রকৃতি শীতল হয়, ত্বক শীতলতা অনুভব করে। তারা দিনে সুর্যের আলো আর রাতে চাঁদের আলোর মাঝে অবগাহন করে, কিন্তু আলো তাদের কাছে  অনস্তিত্বের বিষয়।  যারা আপনাকে বিশ্বাস করবে, তারা এই উষ্ণতা ও  শীতলতার মাঝে সুর্যকে চিনতে চাইবে। তাপের মাধ্যমেই তার অনুসিদ্ধান্তে উপনিত হবে, আলোর অস্তিত্ব আছে।

এটা তেলাপোকাকে ত্রি-মাত্রিক বস্তু চেনানো আর কুকুর কে রঙের ধারনা দেয়ার মতনই ব্যাপার। কারন তেলাপোকার পুঞ্জাক্ষি যে প্রতিকৃতি দেখে তা দ্বি-মাত্রিক, আর কুকুরের কাছে সাদা ও কালোর বাইরে কোনো রঙের অস্তিত্ব নেই, অর্থাৎ কুকুর বর্ণান্ধ। আল্লাহর সৃষ্টিতে সকল সৃষ্টিরই নানাবিধ সীমাবদ্ধতা রয়েছে, মানুষ ও এর ব্যাতিক্রম নয়। মানুষ অতি বেগুনী রশ্মি ও অবলোহিত রশ্মি দেখতে অপারগ।     

আমরা বিজ্ঞানের পরিচয় পর্বে জেনেছি যে, বিজ্ঞান হলো ভৌত বিষয় বা প্রকৃতি সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান। যদি স্রষ্টা ভৌত বিষয় বা প্রকৃতির মধ্য থেকে হয়, তাহলে অবশ্যই বিজ্ঞান স্রষ্টার অস্তিত্ত্ব প্রমাণ করতে পারবে। আর যদি স্রষ্টা ভৌত বিষয় বা প্রকৃতি বহির্গত কিছু হয়, তাহলে বিজ্ঞান দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্ত্বের প্রমাণ করা আর চর্ম দিয়ে আলোর অস্তিত্ব অনুভব  করা একই কথা হবে।

আমরা আরো জেনেছি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরন করে কিভাবে সত্য নির্ণয় করা হয়। ধরা যাক, কোনো এক ব্যক্তি  সোনালী রঙের এক খন্ড ধাতব পদার্থ পেলো, সে ভাবলো এটি স্বর্ন। কিন্তু তার এক বন্ধু বললো, এটি স্বর্ণ নয়, তবে স্বর্ণের মতো দেখতে পিতল। তারা এই সমস্যা সমাধানের জন্য একজন বিজ্ঞানীর শরনাপন্ন হলো। এখন বিজ্ঞানী কিভাবে পরীক্ষা করবেন? বিজ্ঞানীর কাছে আগে থেকেই নমুনা হিসাবে স্বর্ন খন্ড এবং পিতল খন্ড মজুদ ছিলো, তিনি সেখান থেকে এই দুটি ধাতুর ভৌত ধর্ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন, এবং পুর্বের পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলে এর রাসায়নিক ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। তিনি তার কাছে আনা স্বর্ণ খন্ড নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করলেন, প্রাপ্ত ফলাফল আগের নমুনার সাথে মেলালেন এবং নিশ্চিত হলেন ধাতব পদার্থটি আসলে স্বর্ণ নয়, পিতল। অথবা এমনো হতে পারত যে এইটি স্বর্ণ বা পিতল কিছুই নয়, তিনি সম্পুর্ণ নতুন আর একটি মৌল আবিস্কার করেছেন, পর্যায় সারণিতে যার অবস্থান এখনো হয়নি। তিনি এই পদার্থের পরমানুতে অবস্থিত ইলেক্ট্রন প্রোটনের সংখ্যা বিশ্লেষন করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন। অর্থাৎ এখানে আগের জ্ঞাত নমুনার সাথে তুলনা করেই ফলাফল পেলেন। কিন্তু এখানে পুরোটাই ছিলো ভৌত বিষয়। স্রষ্টা যদি ভৌত বিষয় হয়, তাহলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হবে। আর যদি উনি এর উর্দ্ধে হন, স্রষ্টাকে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তাঁর অস্তিত্ব নির্ণয় সম্ভব হবেনা।

এখন আমরা জানবো, স্রষ্টার প্রকৃতি কেমন। স্রষ্টা নিজের ব্যাপারে যা বলেন, সেটাই পুর্ণাংগ সত্য, এই ব্যাপারে তাঁর চেয়ে আর কেউ শুদ্ধ বলতে পারবেনা। আল্লাহই স্রষ্টা, তিনি কুরানুল কারীমে বলেনঃ

فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।

(সুরা শুরাঃ আয়াত নং- ১১)

তিনি অন্যত্র বলেনঃ

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,

اللَّهُ الصَّمَدُ

আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

(সুরা এখলাস)

উপরের আয়াত গুলো থেকে আমরা জানলাম, তিনি সৃষ্টির অনুরূপ নন, তিনি সৃষ্টি থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা। মহাবিশ্ব ভৌত বিষয় ও প্রকৃতির অন্তর্গত। বিজ্ঞান মহাবিশ্ব ও প্রকৃতি নিয়ে গবেষনা করতে সক্ষম, মহাবিশ্বের স্রষ্টাকে নিয়ে নয়। স্রষ্টা ব্যাতিত আর যা কিছু আছে, তিনি সকল কিছুরই স্রষ্টা, এমনকি বিজ্ঞানেরও। তিনি এক এবং একক।

উপরোক্ত বর্ণনাতে এটা নিশ্চিত, কল্পিত দ্বীপের অধিবাসীরা যেমন চর্ম, নাসিকা, কর্ণ এবং জিহবা দিয়ে আলোর প্রত্যক্ষ অস্তিত্বের সত্যায়ন করতে পারেনা, অনুরূপ ভৌত বিষয় নিয়ে গবেষনা করা যে বিজ্ঞানের কাজ, সে বিজ্ঞান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ সত্যায়ন করতে সক্ষম নয়।

এবার আসুন আমরা মানুষের  সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোকপাত করি। উপরে তেলাপোকার দৃষ্টি শক্তি বা কুকুরের বর্ণান্ধতার দ্বারা একটি ইঙ্গিত আগেই দেয়া হয়েছে।  এখানে আমরা আর একটি গল্পের অবতারনা করবঃ

ধরুন, সিনেমা হলের প্রোজেক্টরের পর্দার উপরের বাসিন্দা একজন দ্বি-মাত্রিক জগতের বিজ্ঞানী, যে তৃতীয় মাত্রার অস্তিত্ব বুঝতে সক্ষম নন। (যেমন আমরা তৃতীয় মাত্রার বাইরে বুঝতে সক্ষম নই)   একজন ত্রিমাত্রিক জগতের বন্দুক ধারী প্রতি ৫ সেকেন্ড পর পর  তিন ইঞ্চি দুরত্ব রেখে  গুলি করে একটি বৃত্ত আঁকলো। দুই মাত্রার জগতে অবস্থানকারী বিজ্ঞানী বন্দুক ধারীকে দেখেনা বা বুলেট দেখেনা, কিন্তু সে নির্দিষ্ট সময় ও দুরত্বে গুলির মাধ্যমে তৈরী হওয়া  বৃত্ত দেখতে পেল। তার পর্যবেক্ষণ থেকে সে একটি সুত্র দাঁড় করালো, আর সেই সুত্রের নাম দিলো বৃত্ত তত্ত্ব। তার এই তত্ত্বে বৃত্ত তৈরী কারী বন্দুক ধারীর কোনো অস্তিত্বই থাকেনা।

তেমনি ভাবে আমাদের বাস্তব জগতের বিজ্ঞানীরা সৃষ্টি জগতের নানা বিধ নিয়ম পর্যবেক্ষণ করে নানাবিধ তত্ত্ব ও সুত্রের অবতারনা করেন, কিন্তু সেই সুত্রে তারা বিশ্ব পরিচালনাকারী স্রষ্টাকে সংযোগ করতে ব্যার্থ হন। আর এটাই হলো মানবীয় সীমাবদ্ধতা। 

তাহলে কি বিজ্ঞান স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কখনোই পারেনা? অবশ্যই পারে, তবে তা প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, তবে অকাট্য। আর তাহলো অনুসিদ্ধান্ত মূলক, যুক্তি নির্ভর। স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করলে, বিজ্ঞানের অনেক সুত্রকেই অস্বীকার করা হয়। এরকম দুটি দিক আমরা এখানে আলোচনা করব।

বিজ্ঞান নিয়ে সামান্য পড়াশোনা করেছে, এমন যেকোনো ব্যাক্তি, দিকপাল বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের গতির ১ম সুত্র সম্মন্ধে জানে। সুত্রটি হলোঃ

“ বাহির হতে কোনো বল প্রযুক্ত না হলে স্থিতিশীল বস্তু স্থিতিশীল থাকে এবং গতিশীল বস্তু একই গতিতে চলতে থাকে”।

 কোনো ব্যাক্তি যদি এই সুত্রকে অস্বীকার করে, তাহলে  তিনি বিজ্ঞান সচেতন মহলে অপাঙ্কতেয় হিসাবে বিবেচিত হবেন, বা সবার কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হবেন। কিন্তু এই বিজ্ঞান মনস্ক মহল যদি নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী হন, তাহলে তারা সচেতন  বা অসচেতন ভাবে এই সুত্রকেই অস্বীকার করেন।

এই সুত্রটিই প্রমাণ করে স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে। এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির যে তত্ত্ব সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য, সেখানে বলা হয়েছে, অতুলনীয় ভর ও ঘনত্বের একটি বস্তু এককতা (Singularity) থেকে বেলুনের মত ফুলে উঠে ( আগে বিস্ফোরণ বলা হতো) এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বেলুনের মতো ফুলে ওঠার বল কে প্রয়োগ করলো?  ইদানিং বিজ্ঞানীরা মহা বিশ্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়া কে আরো পিছনে নিয়ে বহু মহাবিশ্ব তত্ত্ব প্রস্তাব করছেন। কিন্তু এই বহু মহাবিশ্ব সৃষ্টির যে প্রক্রিয়া সেখানেও বল প্রয়োগের মাধ্যমে শুরুর প্রশ্ন আসবে।

এখানে নিউটনের গতির ১ম সুত্রই বলে, এই সৃষ্টি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য কোনো উৎস্য হতে বল প্রয়োগ হয়েছে। এখানে যুক্তি বিদ্যা প্রয়োগ করে আমরা  এই কথাটি এভাবে বলতে পারি, “ একটি সত্ত্বা অতুলনীয় ভর ও ঘনত্বের বস্তুর এককতা অবস্থাতে বাহির হতে বল প্রয়োগ করেছেন, এই বল প্রয়োগের ফলে  বেলুনের মত সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়।

আমরা বিশ্বাস করি, এই সত্ত্বাই স্রষ্টা, স্রষ্টাই আল্লাহ।

আর আল্লাহ বলেনঃ     

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ [٢١:٣٠]

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা কি দেখে না যে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী উভয়ে একাকার ছিল, তারপর আমরা তাদের দুটিকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম, আর পানি থেকে আমরা সৃষ্টি করলাম প্রাণবন্ত সবকিছু। তারা কি তবুও বিশ্বাস করবে না?

(সুরা আম্বিয়াঃ আয়াত নং- ৩০)

তিনি আরো বলেনঃ

وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ [٥١:٤٧]

আর মহাকাশমন্ডল — আমরা তা নির্মাণ করেছি হাতে, আর আমরাই একে সম্প্রসারন করছি।  

(সুরা আদ্দারিয়াতঃ আয়াত নং- ৪৭)

বিজ্ঞানের সুত্রের মধ্যে আমরা তাপ-গতিবিদ্যার ২য় সুত্রের অবতারনা করতে পারিঃ 

ক্লসিয়াসের বিবৃতি অনুসারে,

 বাইরের শক্তির সাহায্য ছাড়া কোনো স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পক্ষে নিম্ন উষ্ণতার বস্তু থেকে উচ্চতর উষ্ণতার বস্ততে তাপের স্থানান্তর সম্ভব নয়৷

আমরা যদি মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে একটি স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসাবে অভিহিত করি, তাহলে সেখানে বাহিরের শক্তির সাহায্য অবশ্যই প্রয়োজন। অর্থাৎ স্রষ্টা ছাড়া মহাবিশ্বের অস্তিত্বে আসা সম্ভব নয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা কি পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা- নিরীক্ষা থেকে লব্ধ ফলাফল ব্যাতিত কিছুই বিশ্বাস করেনা? এর উত্তরও অবশ্যই হ্যাঁ হবে। যেমন একজন বিজ্ঞানী কি তার জন্মের সময়ের কথা মনে রেখেছেন যে কার গর্ভ থেকে তিনি প্রসূত হয়েছেন। শুধুমাত্র জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেখেছেন কোনো মহিলা তাকে বলছে আমি তোমার মা, কিংবা মা বলেছেন উনি তোমার বাবা। জীবনের সবচেয়ে কাছের দুটি সম্পর্ক মা ও বাবা সন্তানের কাছে বিশ্বাসের উপরই ভিত্তি করে বেঁচে থাকে। ( অধুনা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা করাটা অবশ্যই ব্যাতিক্রম)

কিংবা একজন পদার্থ বিজ্ঞানী যিনি কখনো প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হন, তিনি কি ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের আগে পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে ব্যবস্থাপত্রটি সঠিক? ( এ ব্যাপারে তিনি মোটেই দক্ষ নন, কারন তাঁর দক্ষতার ক্ষেত্র ভিন্ন) কখনোই নয়, এ ব্যাপারে যার দক্ষতা রয়েছে, অর্থাৎ চিকিৎসক,  তিনি তার কথাকেই বিশ্বাস করেন। এই বিশ্বাস যুক্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

কিংবা একজন বিজ্ঞান মনস্ক মানূষ, যিনি নিজেকে নাস্তিক দাবী করেন, তিনি কি বিজ্ঞানীদের সকল তত্ত্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বিশ্বাস করেন? আলোর গতি  ৩ x ১০ মিটার/সেকেন্ড, কত জন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে যাচাই করেছেন? কতজন মেপে দেখেছেন সুর্য পৃথিবী থেকে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরে? 

তবে স্রষ্টার বিশ্বাসের ব্যাপারে কেন এই বিপরীত আচরণ? এখানে আছে মানসিক বন্ধ্যাত্ব। স্রষ্টার এত নিদর্শন নিজেদের ভেতরে এবং বাহিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার পরও তারা অবিশ্বাসের সাগরে ডুবে থাকে।

তবে সকল বিজ্ঞানীই নাস্তিক নন। দুই জন সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানীর একজন হলো স্যার আইজ্যাক নিউটন অপরজন হলো আলবার্ট আইন্সটাইন।

নিউটনের জীবনী অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, তিনি একজন একত্ববাদী ছিলেন, বিজ্ঞানের উপর তিনি যত না লিখেছেন তার চেয়ে লিখেছেন ধর্মের উপরে বেশী। কিন্তু মানুষ আজ বিজ্ঞানী নিউটনকে জানে, একত্ববাদী নিউটনকে চিনেনা। এখানেও আছে কায়েমী স্বার্থবাদীদের হস্তক্ষেপ। অপর পক্ষে আইন্সটাইনের সেই বিখ্যাত উক্তি আজও মানুষ স্মরণ করে, “ God does not play dice” অর্থাৎ “ঈশ্বর পাশা খেলেন না”

আস্তিকতার পক্ষে এমন দুইজন বড় বিজ্ঞানীর ঘোষনা, নাস্তিক বিজ্ঞানীদের অবস্থানকে অনেক দুর্বল করে ফেলে।     

(চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four + fourteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য