Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরভারতীয় গরু না আসায় বাংলাদেশের ‘লাভ’

ভারতীয় গরু না আসায় বাংলাদেশের ‘লাভ’

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী কয়েক দিন আগেই দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ এখন গবাদি পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ঈদের পশুর হাটে সত্যিই এবার ভারতীয় গরু নজরে পড়ছে না।

শুক্রবার মন্ত্রী বলেছেন, আমাদের জানা মতে একটি ভারতীয় গরুও এবার আসেনি। ভারত থেকে গরু আমদানির কোনো অনুমতি নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করে দেয়। আর সেটাই হয়েছে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ। এখন বাংলাদেশ গবাদি পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গরুর গোশত রফতানিও শুরু করেছে।

এবার কুরবানির ঈদে গবাদি পশুর যে চাহিদা তার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার চেয়ে কুরবানির পশু বেশি।

সরকারি হিসেব বলছে, দেশে এবার কুরবানির জন্য ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার গরু-ছাগলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু প্রস্তুত আছে এক কোটি ২৫ লাখ ২৪ হাজার।

বিবিএসের জরিপ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ যে হিসেব দিয়েছে তাতে দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। গত মাসে তারা কৃষি শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন গরু-ছাগলে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।

শুমারির ফল থেকে জানা যায়, দেশে এখন গরুর সংখ্যা দুই কোটি ৪০ লাখ ১৪ হাজার ১৪৪, ২০০৮ সালে যা ছিল ২ কোটি ৫৭ হাজার ৮৫৩। এক যুগের ব্যবধানে গরু বেড়েছে ৪০ লাখের বেশি। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে ছাগলের সংখ্যা এক কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ২০০, যা এক যুগ আগে ছিল এক কোটি এক লাখ ৫৯ হাজার ৫০৯। এক যুগে ছাগল বেড়েছে প্রায় ৬১ লাখ।

২০২০ সালে বিবিএস এই কৃষি শুমারি পরিচালনা করে, যার প্রাথমিক রিপোর্ট চলতি বছরে তারা প্রকাশ করে। বিশ্লেষকরা বলেছেন গত দুই বছরে পশু সম্পদের আরো উন্নতি হয়েছে।

গত এক যুগে ভেড়ার উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ। বর্তমানে ভেড়ার সংখ্যা ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৬১৯টি। ২০০৮ সালে ছিল চার লাখ ৭৮ হাজার ১৭। মহিষের সংখ্যাও বেড়েছে শতকরা ৩০ ভাগ। এখন ছয় লাখ ২৯ হাজার ৬৪০টি মহিষ আছে। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল চার লাখ ৩১ হাজারের মতো। আর সব মিলিয়ে দুধ দেয় এমন গরু, মহিষ ও ছাগল আছে ১৮ লাখের মতো।

যেভাবে আসে সাফল্য
গাজীপুরের গিয়াসউদ্দিন সরকার ২০১৫ সালে মাত্র একটি গরু দিয়ে শুরু করেন তার গরুর ফার্ম ‘সাফ গ্রিন অ্যাগ্রো’। তার খামারে এখন ১৬০টিরও বেশি গরু রয়েছে। তিনি একই সাথে গোশত এবং দুধ উৎপাদন করেন তিনি। প্রতিদিন দুধ পান ৭০০ লিটার।

তিনি বলেন, একটি খামার দুই-তিন বছরের মধ্যেই লাভে চলে যায়। এইরকম সাফল্যের কাহিনী বাংলাদেশে এখন প্রত্যেক এলাকায়ই পাওয়া যাবে।

তার কথা, সরকার যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে এখন ছোট খামারিরাও দুধ এবং গোশত দেশের বাইরে রফতানি করতে পারবে।

২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে সেখান থেকে গরু আসা বন্ধ করে দেয়। আর সেটাই বাংলাদেশের জন্য শাপে বর হয়েছে। চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশে গবাদি পশুর লালনপালন বেড়ে যায়। আর সেটাই বাংলাদেশকে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। বাংলাদেশে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ২০ লাখ খামার আছে।

এর আগে প্রতি বছর ভারত থেকে প্রতি বছর ৩০ লাখের মতো গরু-ছাগল আসতো বৈধ এবং অবৈধ পথে। শুধু কুরবানির ঈদেই আসতো ২০-২২ লাখের মতো। মিয়ানমার থেকেও আসতো। ২০১৮ সালেও ভারত থেকে এক লাখ ৫০ হাজার গরু আসে। কিন্তু এখন চিত্র পুরোই পাল্টে গেছে। উল্টো প্রতি বছর দেশী গরুরই একটি অংশ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

three × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য