Thursday, February 22, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরমডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের বাইরের অংশের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটিতে প্রকল্প কর্মকর্তারা পছন্দের প্রতিষ্ঠান বেঁধে দিচ্ছেন। টেন্ডার বহির্ভূত এই সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের বেশিরভাগ অর্থ পরিশোধ হবে অগ্রিম ও নগদে। এই কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ভ্যাট ও অগ্রিম কর পরিশোধ করবে না। সরাসরি কাজ না করেও ঠিকাদারদের ভ্যাট ও অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে। এমনকি বিদ্যুৎ খরচও ঠিকাদারদের বহন করতে হবে। মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছর ১৫০টি মসজিদ উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী এপ্রিল পরবর্তী সময়ে ৫০টি এবং বছরের শেষ নাগাদ আরো ১০০টি মসজিদ উদ্বোধন হতে পারে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে মসজিদ ভবনের বাইরের অংশসহ মসজিদের বিভিন্ন অংশে এমএস ফ্যাব্রিকেশন বক্স গ্রিল, মিনার এবং সীমানা প্রাচীর স্থাপনের জন্য ফেরোসিমেন্ট দ্বারা নির্মিত ব্লক এবং মসজিদের ভেতরে মেহরাব এর উপরের অংশে লাগানোর জন্য সিএনসি কাটিং এমএস প্লেট লাগানোর কাজ চলমান। এসব কাজের নকশার হার্ডকপি ও সফট্‌কপির জন্য সেপ্টেম্বর মাস থেকে ঠিকাদাররা তাড়া দিয়ে আসছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ তাগাদা উপেক্ষা করে নকশা হস্তান্তরে গড়িমসি করেন প্রকল্পটির উপ-প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস-উজ-জামান। তিনি গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বিভিন্ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন উল্লিখিত কাজের নকশার কোনো রকম হার্ডকপি ও সফটকপি সরবরাহ করা হবে না। তাদের নির্ধরিত দু’টি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এমএস ফ্যাব্রিকেশন বক্স গ্রিল নির্মাণ এবং রঙের কাজ করাতে হবে। ওই দুটো প্রতিষ্ঠানকেই নকশার হার্ডকপি ও সফট্‌কপি দেয়া হবে। প্রতিষ্ঠান দুটোকে তাদের বেঁধে দেয়া মূল্যের সবটুকু নগদ প্রদান করতে হবে। কোনো প্রকার একাউন্ট পে-চেক দেয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের মাধ্যমে মসজিদ নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে যেনো উপ-প্রকল্প পরিচালকের মনোনীত নামসর্বস্ব দু’টি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করার জন্য টাকা দিয়ে দেয়া হয়। উপ-প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলীদের মাধ্যমে এও জানিয়েছেন, ওই দুই প্রতিষ্ঠান বাদে বাংলাদেশের আর কোনো প্রতিষ্ঠান এমএস বক্স গ্রিল নির্মাণ এবং পিইউ পেইন্ট করতে পারে না। স্যান্ড ব্ল্যাস্টিং টেকনোলজি বাংলাদেশে কেউ জানে না। শুধু তাই নয়, ফেরোসিমেন্ট ব্লক এবং সিএনসি কাটিং প্লেট কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করাতে হবে তা নির্ধারণ করে পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত পেতে দেরি হওয়া নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাপ্তের বিষয়ে শঙ্কায় আছেন ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের বলা হয়েছে, এই কাজগুলোর মান উপ-প্রকল্প পরিচালক নিজেই তদারকি করবেন। ফলে কাজের মান খারাপ হলেও মসজিদ নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কিংবা সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগের কিছুই করার থাকবে না। আবার এর দায় নির্মাণ সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে। মসজিদ নির্মাণের দরপত্র বহির্ভূত এই তিন কাজ যদি মৌখিকভাবে বেঁধে দেয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে করাতে হয় তাহলে কোনো রকম ভ্যাট, অগ্রিম কর এবং বিদ্যুৎ খরচ না করেই প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা নিয়ে যাবে। আর এসব খাতের খরচ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। এই বিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কবে পাবে তাও নিশ্চিত নয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পটির উপ-পরিচালক ফেরদৌস-উজ-জামান ছুটির দিনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। প্রকল্প পরিচালক নজিবুর রহমান বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটির জন্য যারা যোগ্য তাদের দিয়েই করা হচ্ছে। এ যাবৎ ৩/৪টি প্রতিষ্ঠান এই কাজে নিয়োজিত হয়েছে। এটি টেন্ডার বহির্ভূত কিনা তা গণপূর্তই বলতে পারবে। আর বিদ্যুৎ বিল খুব নগণ্য আসতে পারে। এটা নিয়ম মেনে করা হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) সূত্র জানায়, মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে তিন ক্যাটাগরিতে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ৭৯টি চারতলা মডেল মসজিদ হবে ৬৪টি জেলা শহর ও ৪ সিটি করপোরেশন এলাকায়। প্রতিটির আয়তন হবে প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজার বর্গমিটার। প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার বর্গমিটার আয়তনের ‘বি’ ক্যাটাগরির মসজিদ হবে ৪৭৬টি। আর ৬১ হাজারের বেশি আয়তনের ‘সি’ ক্যাটাগরির মসজিদ হবে ১৬টি। মসজিদে প্রতিদিন ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ জন নারীর নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। লাইব্রেরিতে প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক একসঙ্গে কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামী বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। মসজিদগুলো থেকে বছরে ১৪ হাজার হাফেজ বের হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইসলামিক নানা বিষয়সহ প্রতিবছর ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে এসব মসজিদে। ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য করা হবে ৫০ শতাংশ ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে ফাঁকা থাকবে নিচতলা। এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

ten + 13 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য