Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeযুগ জিজ্ঞাসামাদক ও পর্ণ মস্তিষ্কে একই ধরনের আনন্দদায়ক রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণের জন্য দায়ী

মাদক ও পর্ণ মস্তিষ্কে একই ধরনের আনন্দদায়ক রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণের জন্য দায়ী

খোলা চোখে, কোকেন ও পর্ণের মধ্যে খুব বেশি মিল না পাওয়া গেলেও গবেষণায় দেখা যাচ্ছে মাদক ও পর্ণ মস্তিষ্কে একই ধরনের আনন্দদায়ক রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণের জন্য দায়ী। তার চেয়েও বড় ব্যাপার হল, এই কৃত্রিম উত্তেজক(পর্ণ)-এর প্রভাবে আপনার মস্তিষ্কের স্নায়বিক গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আসা শুরু করবে। শুনতে অবাক লাগছে? কিন্তু এটাই সত্য।
খোলা চোখে, কোকেন ও পর্ণের মধ্যে খুব বেশি মিল না পাওয়া যেতে পারে। একটার কেনাবেচা হয় জীর্ণ-শীর্ণ অন্ধকার সরু গলিতে, আর একটা ফ্রীতেই ডাউনলোড করা যায়। প্রথমটা খুব দ্রুতই ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, অন্যটার জন্য প্রয়োজন বড়োজোর একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ।

তাহলে মিলটা কোথায়?

  • মস্তিষ্কের ভিতরে।
    যারা নিউরোসার্জন নন, তাদের জন্যে মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে তার উপর একটা ক্র্যাশ
    কোর্স হয়ে যাক। আপনার মস্তিষ্কের গভীরে রয়েছে একটি ব্যবস্থা, যেটাকে বলা যেতে পারে “প্রেরণাদায়ী পুরষ্কার ব্যবস্থা”। এটার কাজই হল আপনাকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে বেঁচে থাকতে সাহায্য করা। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, যখন আপনি সুস্থতা/জীবনীশক্তি বৃদ্ধিকারক কোন কার্যকলাপ, যেমন খাদ্য গ্রহণ করেন, অথবা এমন কিছু অর্জন করেন যার জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, এই “প্রেরণাদায়ী পুরষ্কার ব্যবস্থা” আপনাকে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করার মাধ্যমে অনুপ্রেরণা যোগায়।
    কিভাবে এই “পুরস্কার ব্যবস্থা” কাজ করে?
    আপনার মস্তিষ্কে রাসায়নিক দ্রব্য– মূলতঃ “ডোপামিন” নামক একটি রাসায়নিক দ্রব্য, এবং এছাড়াও অন্যান্য যেমন “অক্সিটোসিন” – নিঃসরণের মাধ্যমে। সাধারণত, এই রাসায়নিক পদার্থগুলো খুবই উপযোগী। এগুলো আমাদের আনন্দ অনুভব করতে এবং সমাজে অন্যান্যদের সাথে সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে, এবং যেসব গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড আমাদের আনন্দ দেয় তা বারে বারে করতে অনুপ্রেরণা যোগায়। কিন্তু সমস্যা হল, এই প্রেরণাদায়ী পুরষ্কার ব্যবস্থার অপব্যবহার হতে পারে।

আফিম ও কোকেন জাতীয় মাদক দ্রব্য কোন প্রকার পরিশ্রম ব্যতীতই ব্যবহারকারীর প্রেরণাদায়ী পুরষ্কার ব্যবস্থাকে উত্তেজিত করে তোলে। যার ফলে বিপুল পরিমাণে ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে সুতীব্র আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। অনুমান করুন এই উত্তেজনা আর কিসের মাধ্যমে হতে পারে?
জি হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন । পর্ণ এর মাধ্যমে এই উত্তেজনা অনুভব করা যেতে পারে । ডোপামিনের এই ব্যাপক নিঃসরণ শুধুমাত্র তীব্র আনন্দদায়ক অনুভূতি সৃষ্টির মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায় না। ডোপামিন মস্তিষ্কে নতুন স্নায়বিক কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করে, যার মাধ্যমে যে কাজের ফলে প্রাথমিকভাবে ডোপামিন নিঃসরণ হয়েছিল, সেই কার্যক্রম পুনরাবৃত্তিতে অনুপ্রাণিত ও অভ্যস্ত করে তোলে।

একজন মাদক দ্রব্য ব্যবহারকারী যত বেশি পরিমাণে মাদক ব্যবহার করবে অথবা একজন পর্ণএর দর্শক যত বেশি পরিমাণে পর্ণ দেখবে, মস্তিষ্কের স্নায়বিক গঠনতন্ত্র তত বেশি করে এই কৃত্রিম আনন্দ অনুভূতি নির্ভর হয়ে গড়ে উঠবে। আর ব্যবহারকারী (মাদক/ পর্ণ) আরও বেশি মাত্রায় এই কর্মকাণ্ডের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, এই কর্মকাণ্ডের দিকে বেশি পরিমাণে ঝুঁকে পড়বে, হোক তা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।
মস্তিষ্কে এই মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের (ডোপামিন) উপস্থিতির কারণে অন্যান্য পরিবর্তনও ঘটতে শুরু করে। ঠিক যেভাবে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির আনন্দ পাওয়ার জন্য (এমনকি স্রেফ স্বাভাবিক বোধ করার জন্য) দিনে দিনে আরও বেশি পরিমাণে মাদক প্রয়োজন পড়ে, ঠিক সেভাবে পর্ণ দর্শকরাও মস্তিষ্কে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ডোপামিনের উপস্থিতির ব্যাপারে সংবেদনশীলতা হারাতে শুরু করবে।[১১] সহজ ভাষায় বললে, যদিও পর্ণ দেখার কারণে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ হতে থাকবে, কিন্তু পর্ণ দর্শক এই ডোপামিনের প্রভাব অনুভব করবে না।
এটা এজন্য যে, মাত্রাতিরিক্ত ডোপামিনের প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য মস্তিষ্ক নিজের কিছু “রাসায়নিক গ্রাহক স্নায়ু” (receptor nerve) বিসর্জন দেয়। গ্রাহক স্নায়ুর কাজই হল – বেসবলে যেমন ক্যাচার মোটা গ্লোভস পরে বল ধরেন, ঠিক সেভাবেই – ডোপামিন অণু গ্রহন করা, আক্ষরিক অর্থেই ক্যাচ ধরার ন্যায়। মস্তিষ্কের গ্রাহক স্নায়ুর সংখ্যা হ্রাস পেলে, মস্তিষ্ক ধরে নেয়, ডোপামিনের পরিমাণ কম এবং ব্যবহারকারী (মাদক/ পর্ণ) আরাম বোধ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সংবেদনশীল বোধ করেন না। ফলে, বেশিরভাগ পর্ণ ব্যবহারকারীকে আরও পর্ণ খুঁজে বের করতে হয়, আরও বেশি ঘন ঘন খুঁজতে
হয়, বরং আরও শিহরণ জাগানো/কুৎসিত মাত্রার পর্ণ খুঁজে বের করতে হয় – অথবা তিনটাই – যাতে আরামবোধ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ডোপামিন উৎপাদিত হয়।

আর যখন পর্ণ ব্যবহারকারী মস্তিষ্কে এই সব রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, তখন এই অভ্যাস ছেড়ে দেয়ার ফলে, প্রত্যাহার-পরবর্তী-উপসর্গ (withdrawal symptom) দেখা দেয়, ঠিক যেমন মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সমস্যায় ভোগে।
কিছু মানুষের ধারনা পর্ণ এমন কিছু যা সবসময়েই ছিল – কিন্তু সত্য কথা হল, আজকের দিনে
যে মাত্রার পর্ণ পাওয়া যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণরূপেই অতীতকালে অনুপস্থিত ছিল। ইন্টারনেটের সুবাদে, পর্ণ এখন শরীরের সবচাইতে শক্তিশালী ডোপামিন উৎপাদকের সাথে আরও নানা ধরনের উপাদান যেমন – সীমাহীন নতুনত্ব, বিস্ময়, হতভম্ব করে দেয় এমন কিছু – এর মিশ্রন ঘটাচ্ছে, যার ফলাফল আরও অধিক হারে ডোপামিন উৎপাদন। আর যেহেতু ইন্টারনেট পর্ণে বিরামহীন বৈচিত্র উপস্থিত, ডোপামিনের অনুভূতি ম্লান হতে শুরু করলেই ব্যবহারকারী স্রেফ নতুন বৈচিত্র খুঁজে বের করে, ফলে ডোপামিনের প্রভাব অব্যাহত থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে।

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ড. জেফ্রি, ইউ.এস সিনেটের কাছে পর্ণের প্রভাব ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, “ব্যাপারটা এমন যেন আমরা এক নতুন ধরনের হেরোইন (এক প্রকার মাদক) তৈরি করে ফেলেছি … যা একজন মানুষ তার নিজের বাড়ির গোপনীয়তায় ব্যবহার করতে সক্ষম এবং সরাসরি চোখের দ্বারা মস্তিষ্কে নিঃসরিত হয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য