Wednesday, May 22, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদাওয়া••• মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন ! •••

••• মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন ! •••

*** একটি লম্বা সময় ধরে মুসলমানদের একটি বড় অংশ রবিউল আউয়াল মাসে ধুমধাম করে মহানবী সা: ‘র জন্ম বার্ষিকী পালন করে থাকেন ! এ জন্মদিবসকে তাঁরা বিভিন্ন নামে নামকরণ করেন ! মীলাদুন্নবী সা : ! জশনে জুলুসে মীলাদুন্নবী সা: ! ঈদে মীলাদুন্নবী সা: ! সবচে’ বড় ঈদ ঈদে মীলাদুন্নবী সা: ! ইত্যাদি ইত্যাদি ! লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষেরা ঐ দিন মিছিল , শোভা যাত্রা বের করে ! পথভ্রষ্ট অসংখ্য পীর / হুজুরগণ ঐ সব শোভা যাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন ! ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে শতভাগ জাহেল ও অজ্ঞ অসংখ্য মিডিয়া এসব চরম বেদাত ও বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসৃত এই মীলাদুন্নবী সা: উদযাপনকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ফোকাস করে থাকেন ! যেমন তাঁরা ১০ মুহররমের আশুরাকে ইমাম হুসাইন রা:’র কারবালা দিবস বানিয়ে ছেড়েছেন ! ফলে এই বেদাত আমলটি একটি স্হায়ী বেদাত হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো !


*** এখন রবিউল আউয়াল মাস ।

বেরেলভী সম্প্রদায় মীলাদুন্নবী সা: পালনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নিশ্চয়ই ! অন্যদিকে ভিন্ন মতাদর্শীরা সীরাতুন্নবী সা: নামেও প্রোগ্রাম তৈরী করে থাকেন !
*** খুব কম সংখ্যক ছহীহ আলেম ও মুসলিমগণ রয়েছেন, যাঁরা এসব বেদাতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার । আর তাই আমাকেও আমার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে ।
*** মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে ইসলাম ধর্ম কি বলে ? এ কাজটি কতোটুকু শরিয়ত সম্মত ? আসুন জেনে নিই
*** মহানবী সা: মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন ৮ রবিউল আউয়াল । নবুয়ত লাভের ১৩ তম বর্ষে সোমবার দিবসে তিনি হিজরত করেন ।
রেফারেন্স :
الأغصان الندية شرح الخلاصة البهية ١٣٣/١
*** হিজরী সন প্রতিষ্ঠার সময়ে মহানবী সা: ‘র জন্ম তারিখটি নির্বাচন করার প্রস্তাব করেছিলেন কিছু সাহাবী রা: । খলীফা উমর রা:, সাইয়্যিদুনা ওসমান রা: ও আলী রা: প্রস্তাবটি এই বলে বাতিল করে দেন যে, মহানবী সা:’র জন্ম তারিখ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি । সুতরাং নবী সা:’র জন্ম তারিখ দ্বারা আরবী বছরের প্রথম মাস ও প্রথম তারিখ নির্ধারণ করা যাবেনা ।
*** এখন প্রশ্ন : ১২ রবিউল আপনি মীলাদুন্নবী সা: কিভাবে উদযাপন করবেন ? তাঁর জন্মদিনটি মাত্র নির্ধারিত । অর্থাৎ সোমবার । জন্ম তারিখ ও মাস নিয়ে অসংখ্য মত পাওয়া যায় ! অতএব, মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা নিছক বোকামি মাত্র !
*** কোন মানুষের জন্মদিন পালন করা কি কখনো কোন কালে ইসলাম ধর্মে ছিলো ? মহানবী সা: কি সাইয়্যিদুনা আদম আ: সহ কোন নবী/ রসুলদের আ: জন্ম বার্ষিকী পালন করেছিলেন ? খোলাফায়ে রাশেদীন রা: ও সাহাবীগণ রা: কি মহানবী সা:’র জন্ম বার্ষিকী পালন করেছিলেন ? সহজ উত্তর হলো “ না ।”
*** যে কাজটি মহানবী সা: করেননি এবং করতে বলেননি তা’ করা মানে এডভান্স হওয়ার অপচেষ্টা মাত্র ! যে কাজটি তিনি করেননি এবং করার অনুমতি দেননি, তা’ করা নিষেধ , বেদাত, হারাম ও কবিরা গুনাহ ।
দলীল : সূরা আল হুজুরাত ১
ছহীহ মুসলিম ।
*** জন্মদিন পালন করা খ্রীষ্টান ও অন্যান্য অমুসলিম জাতির বৈশিষ্ট্য । মহানবী সা: বলেছেন “ যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে, সে তাঁদের দলভুক্ত হবে ।”
সুনানে আবু দাউদ মিশকাত
*** সূরা ইউনুসের ৫৯ আয়াতে উল্লেখিত فضل অর্থ কুরআন এবং رحمة অর্থ ইসলাম বা তওফিক । বলেছেন বিশ্বনবী সা: ।” রসুল সা:’র জন্মদিন উদ্দেশ্য নয় ।
تفسير / روح المعاني
*** সোমবার দিনে রোজা রাখা প্রসঙ্গে মহানবী সা: বলেছেন “ এদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি ।”
ছহীহ মুসলিম ।
*** সোমবার দিবসে রোজা রাখার জন্য রসুল সা:’র জন্মদিন হওয়াটা একমাত্র কারণ নয় । বরং তিনি বলেছেন “ এদিন মানুষের আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় । আমি চাই যে, রোজাদার হিসেবে আল্লাহর সামনে আমার নামটি উপস্হাপন করা হোক ।”
তিরমিযি মিশকাত
*** অন্য এক বর্ণনায় এসেছে “ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহপাক মুসলমানদের গুনাহ ক্ষমা করে থাকেন । সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি সমঝতায় না আসা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়না ।”
ابن ماجه
الترغيب
*** মহানবী সা: আরো বলেন “ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় এবং একমাত্র মুসলমানদেরকে ক্ষমা করা হয় ।” ছহীহ মুসলিম ৬৪৩৮
*** সুতরাং সোমবারে রোজা রাখাটা মহানবী সা:’র জন্মদিনের সংগেই সুনির্দিষ্ট করে নেবেন না ।
১২ রবিউল রোজা রাখা স্পস্ট বেদাত ও একটি গর্হিত আমল !
*** দলীল বিহীন ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয় । বলেছেন বিশ্বনবী সা: । তিরমিযি মিশকাত ৩৭৬৯
*** মহানবী সা: বলেছেন
خالفوا اليهود و النصري
“ ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বিপরীত করো ।”
ছহীহুল বোখারি
*** মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন ও পালন করা বেদাত ও হারাম ।

MQM Saifullah Mehruzzaman

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

twelve + 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য