Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদাওয়ামুসলিমদের প্রতিযশোরে চামড়ার ব্যবসায় পুঁজি হারিয়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী

যশোরে চামড়ার ব্যবসায় পুঁজি হারিয়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী

বাগেরহাট থেকে গরুর ৩৫০ পিচ চামড়া নিয়ে লাভের আশায় যশোরের রাজারহাটে এসেছিলেন পরিতোষ হালদার। কিন্তু লাভতো দূরের কথা, ১৫ হাজার টাকা পুঁজি হারিয়েছেন তিনি। এ কারণে এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিতোষ। কিভাবে মহাজনের ঋণ শোধ করবেন সেই চিন্তায় সময় পার করছেন তিনি। কেবল পরিতোষ না, এই অবস্থা রাজারহাটে আসা বেশিরভাগ চামড়া বিক্রেতার। তাদের বক্তব্য, সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন তারা। আসেননি বাইরের ব্যাপারিরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগটি নিয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে রাজারহাটে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চামড়া আসে। ক্ষুদ্র বিক্রেতারা লাভের আশায় হাটে আসেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তেমন কোনো ক্রেতা পাননি।

এদিন স্থানীয় দু’একজন ব্যবসায়ী কারো কারো চামড়া নাড়াচাড়া করে চলে যান। কেনা দামের অর্ধেকে কিনতে চান দু’একজনের চামড়া। কোনো কোনো ব্যবসায়ী দরদাম চূড়ান্ত করার পর ঠুনকো অজুহাতে চামড়া না কিনে চলে যান।

যশোরের কচুয়া থেকে গরুর ১০০ চামড়া নিয়ে হাটে আসেন পাগল চাঁন। সাথে ছিল ছাগলের ৫০টি চামড়াও। স্থানীয় ক্রেতারা ছাগলের চামড়ার দাম এতটাই কম বলেন যে, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ৫০টি চামড়াই ফেলে দেন।

গরুর ১৩৩ পিচ চামড়া নিয়ে রাজারহাটে আসেন মণিরামপুরের স্বদেব। তিনি বলেন, বাইরের কোনো ব্যাপারি নেই। স্থানীয় ক্রেতারা কেনা দামের অর্ধেক দামে চামড়া কিনতে চাচ্ছেন। অবস্থা যা তাতে অর্ধেক পুঁজি থাকবে না।

একই ধরনের কথা বলেন নড়াইলের সুজিত, গোপালগঞ্জের রমনী বিশ্বাস ও সুকুমার বিশ্বাস, মংলার নিতাই দাস ও আনন্দ মন্ডল, কলারোয়ার জিয়ারুল, বাগেরহাটের রুস্তমসহ অনেক ব্যবসায়ী।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে তেমন কোনো ক্রেতা আসেননি। স্থানীয় ক্রেতারা সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেকে চামড়া কেনার চেষ্টা করেন। তাও খুব আগ্রহ ছিল না।

জিয়ারুল নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, গরুর চামড়া কিনে লবণ দিয়ে হাটে আনা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ১২০০ টাকার মতো। স্থানীয় ক্রেতারা ওই চামড়ার দাম বলেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ছাগলের চামড়ায় তার খরচ পড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ছাগলের চামড়ার দাম ওঠে মাত্র ১০ টাকা।

বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, হাটে ব্যাপক পরিমাণ চামড়া উঠলেও বাইরে থেকে কম সংখ্যক ব্যাপারি আসায় দাম একটু কম। তবে, সব চামড়া বিক্রি হয়ে যাবে।

ইজারাদার চামড়া ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, হাটে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চামড়া উঠেছে। তবে, বাইরের ব্যাপারির সংখ্যা কম। এ কারণে বিক্রেতারা আশানুরূপ লাভ করতে পারবেন না।

ক্ষুদ্র বিক্রেতারা বলেন, রাজারহাটের যে অবস্থা তাতে আগামীতে বাইরের ব্যাপারিরা আর আসবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

20 − 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য