Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরযেভাবে তৈরি হয় চীনের সর্বোচ্চ মিনার

যেভাবে তৈরি হয় চীনের সর্বোচ্চ মিনার

চীনের সর্বোচ্চ মিনার ‘দ্য এমিন মিনারেট’কে স্থানীয় ভাষায় ‘এমিন তা’ ও ‘সুগং তা’ বলা হয়। চীনা ভাষায় ‘তা’ অর্থ উঁচু ভবন। ‘সু’ শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে সুলাইমানকে আর ‘গং’ অর্থ আমির বা সর্দার। সুতরাং ‘সুগং তা’-এর অর্থ হলো আমির সুলায়মানের ভবন।

মিনারটি আমির সুলায়মান তাঁর পিতা আমির এমিনের (আমিন) সম্মানে নির্মাণ করেছিলেন। আমির এমিন মক্কায় গমন করেছিলেন এবং ‘কিং সাম্রাজ্য’কে একটি বিদ্রোহ দমনে সাহায্য করেছিলেন। এমিন মিনারেট মাটির ইট দিয়ে তৈরি হলেও যেভাবে ২৩২ বছর টিকে আছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। ধারণা করা হয়, মরুভূমির শুষ্ক আবহাওয়া এবং স্বল্প বৃষ্টি টিকে থাকার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।


অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য : দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ ও স্থাপনাশৈলী ‘এমিন মিনারেট’কে মরূদ্যানের বিরল ফুলের মর্যাদা এনে দিয়েছে। মিনারটি উচ্চতা ৪৩ মিটার (প্রায় ১৪০ ফুট)। ভিত্তিটি ১০ মিটার চওড়া। মিনারের পাশেই একটি বর্গাকার মসজিদ আছে। যেখানে এক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। স্থপতি মসজিদ ও মিনারের মধ্যে চমৎকার অনুপাত রক্ষা করেছেন। যেন একটির কারণে অপরটি আড়াল হয়ে না যায়, উভয়টি মিলে ভারসাম্য তৈরি হয়। চারপাশের নৈস্বর্গিক দৃশ্যের সঙ্গে সাদৃশ্য প্যাটার্ন ও কালারগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পুরনো মিনার, মসজিদ ও নৈস্বর্গিক দৃশ্য তুরপানের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এমিন মিনারেট চীনের উইঘুরের (আধুনিক জিংজিয়াং) তুরপানে অবস্থিত। তুরপানের মূলকেন্দ্র থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে এর অবস্থান। তুরপান শহর ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের পাশেই গড়ে উঠেছিল। ফলে এখনো এই শহরে বহু প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

নির্মাণশৈলী : চীনের সর্বোচ্চ মিনার এমিন মিনারেট একটি মিশ্র সভ্যতার স্মারক। কাদা মাটির ইট ও সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে এমিন মিনারেট। কিন্তু এর শিল্পগুণ অসাধারণ। মিনারের পাতলা-সরু জানালাগুলো এলোমেলোভাবে স্থাপন করা হয়েছে। যেন তা কোনো পাহাড়ের ফাটল বা গুহার মুখ। দেয়ালের ফুল ও জ্যামিতিক প্যাটার্নগুলো চারপাশে ঘোরানো। মিনারের নির্মাণশৈলীতে চীনা, আরবীয় ও আফগানি সভ্যতার মিশ্রণ পাওয়া যায়। কেননা মিনারের অবয়বে আফগানি মিনারের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এতে আরবদের মতো জ্যামিতিক প্যাটার্ন ও চীনাদের মতো ফুল ব্যবহার করা হয়েছে। সত্যি বলতে, মিনারের শৈল্পিক সৌন্দর্য দর্শকের দৃষ্টি মসজিদ থেকে ফিরিয়ে নেয়। মিনারটি নির্মাণশৈলী থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত এই অঞ্চলের মুসলমানরা স্থানীয় চীনা সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছিল আরব, আফগান ও মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংস্কৃতি আত্মস্থ করার মাধ্যমে।

যেভাবে নির্মিত হয় : ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলিয়ার ‘জুংগার সম্প্রদায়’ কিং সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং উইঘুরের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। তখন উইঘুর মুসলিমরা তাদের পরাজিত করতে রাজকীয় বাহিনীকে সাহায্য করে। উইঘুরদের সংঘবদ্ধ করেন এবং তাদের নেতৃত্ব দেন এমিন খোজা। স্বদেশ রক্ষায় মুসলিম অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমিন খোজাকে তুরপানের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তুরপানের ইতিহাসে তিনি আজও একজন বিশিষ্ট বীর ও মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে সুলায়মান প্রশাসক নিযুক্ত হন। তিনিই পিতার সম্মানে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে মিনারটি নির্মাণ করেন। ১৭৭৮ সালে মিনানের নির্মাণকাজ শেষ হয়।

ব্যতিক্রম মসজিদ : মিনারটি মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত। মসজিদ সাধারণ মসজিদগুলো থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। আয়তকার মসজিদের আছে পৃথক দুটি অভ্যন্তরীণ ও বাহির হল। বাইরের হলটি উষ্ণ মাসগুলোতে ব্যবহারের জন্য। এটি পাতলা কাঠের স্তম্ভের ওপর ছাউনি দিয়ে বড় ও প্রশস্ত আয়তনে গড়ে তোলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ হলটি সম্পূর্ণরূপে আবদ্ধ এবং তা শীতকালে ব্যবহারের জন্য। অভ্যন্তরীণ হল তুলনামূলক ছোট। মসজিদের বাইরে বেশ কিছু প্রাচীন সমাধিও দেখা যায়।

তথ্যসূত্র : এশিয়া কালচারাল ট্রাভেল ও চায়না হাইলাটস

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

14 − 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য