Sunday, June 23, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধসবাই চায় সহীহ আকীদায় ছাড়!

সবাই চায় সহীহ আকীদায় ছাড়!

সবাই চায় সহীহ আকীদায় ছাড়!!!

আসসালামু আলাইকুমআজকে একটি বিষয় আলোচনা করতে চাই, যা নিয়ে ক্ষতবিক্ষত আমার হৃদয়!আর তা হচ্ছে, সকলেই তার মতকে ঠিক রেখে আপনার কাছ থেকে ছাড় পছন্দ করে।

এ দেখুন, ইয়াহূদী খৃষ্টানরা তাদের ধর্মের ব্যাপারে ছাড় দিবে না, আপনার কাছে চায় মডারেট ইসলাম, সূফী ইসলাম বা তাদের শিখানো ইসলাম। একজন গোঁড়া হিন্দু চায় আপনার দেশে এসে মন্দির উদ্বোধন করবে, কিন্তু আপনি যখন তার দেশে যাবেন আপনি যাবতীয় সহীহ আকীদা বিরোধী কাজ করতে পারবেন, তবে কোনোভাবেই মুসলিমদের স্বার্থে একটি কথা বলতে পারবেন না, বললে আপনি হবেন সাম্প্রদায়িক।

একজন মানব ধর্মের অনুসারী চায়, আপনি ইসলামের ব্যাপারে ছাড় দিয়ে তার অনুসরণ করুন। একজন জাতীয়বাদী ও দেশাত্ববাদী চায় আপনি ইসলামকে একটু ছাড় দিয়ে তার জাতীয়তাবাদ ও দেশাত্ববাদ মেনে নিন, তাহলে সে খুশি, সে চায় আপনি জেনে শুনে দেশের স্বার্থে সব কিছু করে যাবেন যদিও আপনার ইসলাম তা সমর্থন না করে।

একজন সেক্যুলারের দিকে তাকান, তারা আাপনাকে দীন মানতে দেখতে চায় না, তারা চায় আপনি ছাড় দিয়ে তাদের দলে যান। তাহলে তারা খুশী। একজন কাদিয়ানী চায়, আপনি আপনার দীনের মৌলিক নীতির তোয়াক্কা না করে তার দলে ভিড়েন তাহলে সে আপনাকে লিবারাল বলে সুনাম করবে, কিন্তু সে আপনার যৌক্তিক কথা মোটেও মানতে নারাজ।

একজন শিয়া চায় আপনি তার মতাদর্শ গ্রহণ করুন, আপনার দেশে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় করার সুযোগ করে দিন, তাহলে সে আপনার জন্য সব করতে রাযী হবে। যদি আপনি তার দেশে সহীহ দীনের দাওয়াতের জন্য সামান্যতম কিছু করতে চান তবে সে রাযী হবে না।

একজন কবরপূজারী চায় আপনি ওলিআল্লাহদের তথাকথিত মাজারগুলোর ব্যাপারে একটু ছাড় দিয়ে তাদের গুণগান করুন, কিন্তু তারা সহীহ আকীদার এক দণ্ডও মেনে নিবে না। আপনাকে যে কোনোভাবে ওহাবী, ইয়াহূদীর দালাল, ইত্যাদি বলতে সামান্যতম ছাড় দিবে না।

একজন চরমোনাই মতাদর্শের লোক চায় আপনি কোনোভাবেই পীরতন্ত্রের সমালোচনা করবেন না, আপনি এ ব্যাপারে যত ছাড় দিবেন ততই তারা খুশী।

একজন শর্ষিনার অনুসারী লোক চান, আপনি সহীহ আকীদা ছেড়ে তার মন মত কথা বলুন, কিন্তু যতক্ষণ একশত ভাগ মনঃপুত না হবে ততক্ষণ আপনাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করবে না।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন এসব লোকেরা কোনো বিশেষ জায়গায় বসে যায় তখন তারা সহীহ আকীদার লোকদের কোনোভাবেই তাদের আশেপাশে ঘেঁষতে দেয় না, তারা সহীহ আকীদা ঠেকানোর জন্য যাবতীয় জটিলতা তৈরী করে আমৃত্যু তাদের মিশন পরিচালনা করে যায়। অথচ তাদের মৃত্যুর পর তারা বা তাদের লোকেরা আশা করে সহীহ আকীদার লোকেরা তাদের পক্ষে বলুক বা লিখুক।

যারা পথভ্রষ্ট আকীদা বিশ্বাসের লোক তারা যত জঘন্য রকমের গোঁড়ামী করে প্রকাশ্যে আকীদা ও মানহাজের ক্ষতি করে যাচ্ছে সেখানে তারা একটুও ছাড় দেয় না, তার বিপরীতে আমরা যাদেরকে সহীহ আকীদা ও বিশ্বাসের মনে করি, তাদের মধ্যে দেখা যায় সুযোগ বুঝে অবস্থান পরিবর্তন করে ঐসব বিদ‘আতী আকীদার লোকদের জন্য কান্নাকাটি করতে। অথচ তাদের মুখ থেকে আপনি কোনোদিন সহীহ আকীদা ও বিশ্বাসের কারও জন্য কিছু করতে দেখবেন না। সে কারও প্রশংসা তো দূরের কথা, তার জীবদ্দশায় তার আশেপাশে সহীহ আকীদার কারও আসার সম্ভাবনা থাকলে সেটা বন্ধ করার শত চেষ্টা করে যায়।

আমার কথা হচ্ছে, এটাই দুনিয়ার বাস্তবতা। প্রত্যেকেই তার মাবদা বা আদর্শের উপরে থাকে, প্রত্যেকে তার বিশ্বাসের ওপর খুশি থাকবে ও সেটা থেকে প্রতিরোধ করবে সেটাই স্বাভাবিক; কিন্তু আমি একজন বিশুদ্ধ আকীদা-বিশ্বাসের ধারক হয়ে এমন কিছু কাজ কেন করি যাতে সাধারণ লোকদের মাঝে এটা বদ্ধমুল হয় যে ইচ্ছা করলে এগুলোতে ছাড় দেয়া যায়?

যখন আপনি শির্ককারীর ব্যাপারে বলবেন, লোকটি খুব ভালো ছিল বা তার প্রশংসা করবেন তখন কিন্তু একটি ম্যাসেজ আসে যে, শির্কের ব্যাপারে কিছু ছাড় দেয়া যায়। যখন কোনো বিদ‘আতকারীর প্রশংসা করবেন তখন কিন্তু আপনি নিজের মূলনীতিতে কুঠারাঘাত করলেন, আপনি তার প্রশংসা করার অর্থ আপনি ভুলের উপর ছিলেন আর সে সত্যের উপর ছিল।

বিদ‘আতীকে আপনি কখনও দেখবেন না সহীহ আকীদা-বিশ্বাসের লোকদের কোনোরূপ সুনাম করতে কিংবা সহীহ আকীদা বিশ্বাসের অধিকারী কারও মৃত্যুর পর কোনো বক্তব্য দিতে। যখন আপনি কোনো অন্যায়কারীর অন্যায় জানার পরও তার পক্ষ নিবেন তখন প্রকারান্তরে আপনি সে অন্যায়কে হাল্কা করে দিলেন।

আপনি যখন দেখবেন একজন মানুষ আকীদা বা মানহাজে বিভ্রান্ত, কিন্তু আপনি তার সাথে গোপন অন্তরঙ্গতা রাখবেন তার অর্থ হচ্ছে আপনি আপনার আকীদা-বিশ্বাস ও মানহাজের সাথে প্রতারণা করছেন। সেজন্য আমাদের উচিত, একজন মানুষের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে, মন্তব্যের ক্ষেত্রে, চলাফেরার ক্ষেত্রে দাওয়াহ বেগবান করাই হয় মূল উদ্দেশ্য।

যদি আপনার দাওয়াতকে তার মধ্যে প্রচার বা প্রসার করতে না পারেন, যদি তার ভ্রান্ত দাওয়াতে আপনি প্রভাবিত হতে বা ন্যূনতম পক্ষে সেটাকে মেনে নিতে হয় তাহলে তার থেকে দূরে থাকা ফরয। তার প্রশংসা করা, তার ব্যাপারে চুপ থাকা একেবারেই বেমানান। কারণ তখন বুঝা যাবে যে আপনি দুনিয়ার জন্য দীনকে বিক্রি করছেন। সহীহ আকীদা বিশ্বাস ও সহীহ মানহাজ আপনার কাছে এখনও মূল্যবান বিবেচিত হয়নি।

আপনার ও আমার জন্য উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরামের নীতিতে চলা। তাঁরা কখনও আকীদাতে ছাড় দিয়ে কোনো প্রকার ঐক্য কিংবা দুনিয়াবী স্বার্থ গ্রহণ করেননি। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন্। আকীদা ও মানহাজ বুঝা ও তার যথাযথ হিফাযত করার সমর্থ দিন। আমীন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

1 × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য