Wednesday, June 19, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমসীরাতসর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেন যে সাহাবি

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেন যে সাহাবি

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আবু হুরায়রা আদ-দাউসি (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের আগে নাম ছিল আবদু শামস। ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসুল (সা.) তাঁর নাম রাখেন আবদুল্লাহ বা আবদুর রহমান। ‘আবু হুরায়রা’ উপনামেই তিনি প্রসিদ্ধ। তিনি ‘দাউস’ গোত্রের সন্তান। (আল ইসাবাহ : ৭/৩৪৮-৩৪৯)

‘আবু হুরায়রা’ উপনামের কারণ : ইমাম তিরমিজি (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ‘আবু হুরায়রা’ উপনামে কেন ভূষিত হলেন? তদুত্তরে তিনি বললেন, (ছোটবেলায়) আমি আমাদের ছাগল চরাতাম। বিড়ালের একটি বাচ্চা ছিল আমার। আমি তাকে রাতের বেলা গাছের ওপর ছেড়ে দিতাম। আর দিনের বেলা সঙ্গে রাখতাম; তাকে নিয়ে খেলা করতাম। লোকজন তা দেখে আমাকে ‘আবু হুরায়রা’ ডাকতে শুরু করল। (একসময় এতেই আমি প্রসিদ্ধ হয়ে গেলাম।) (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৪০)

অপর বর্ণনামতে ইসলামগ্রহণের পর একবার তিনি বিড়ালের একটি বাচ্চা জামার হাতার মধ্যে রাখলেন। রাসুল (সা.) তা দেখে বলেন, তুমি ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়াল-ওয়ালা)। এরপর তিনি এ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। (আল-ইসাবাহ : ৭/৩৪৮- ৩৪৯)

ইসলামগ্রহণ ও রাসুল (সা.)-এর সাহচর্যে ইলম অর্জন

আবু হুরায়রা (রা.) প্রসিদ্ধ সাহাবি তুফাইল ইবনে আমর আদ-দাউসি (রা.)-এর দাওয়াতে ইসলামগ্রহণ করেন। ইসলামগ্রহণের পর তিনি নিজ গোত্রে অবস্থান করেন। এরপর সপ্তম হিজরির শুরুর দিকে স্বগোত্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মদিনায় আসেন। তখন রাসুল (সা.) খাইবারে। সেখানে গিয়ে রাসুল (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হন। যুদ্ধ শেষে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ফিরে আসেন মদিনায়। (আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা : ৪/২৪৪, ১৮১পৃ., ক্র.৫২০, ৪৩৩)

এরপর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে রাসুল (সা.)-এর সাহচর্যে ও খেদমতে লেগে থাকেন এবং তাঁর তালিম ও তারবিয়তে নিজেকে গড়তে থাকেন। তিনি ছিলেন মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘সুফফা’ মাদরাসার অন্যতম ছাত্র, যেখানে খাবারের ব্যবস্থা হলে খেতেন, অন্যথায় উপবাস থাকতেন। খাবারের ফিকির করতে গেলে রাসুল (সা.)-এর তালিম থেকে অনুপস্থিত থাকবেন, সে কথা ভেবে খাবার নিয়ে কোনো চিন্তা করতেন না। রাসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য ও সাহচর্যই ছিল তাঁর প্রধান খাদ্য।

স্মৃতিশক্তি ও হাদিস বর্ণনা

একদা তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে এ মর্মে অভিযোগ করলেন যে হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার থেকে অনেক হাদিস শুনেছি, তবে তা ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। রাসুল (সা.) ইরশাদ করলেন, তোমার চাদর বিছাও। তিনি বিছালেন। অতঃপর রাসুল (সা.) চাদরে হাত বুলিয়ে দিয়ে তা বুকে জড়িয়ে নিতে বললেন। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তা বুকে জড়িয়ে নিলাম। এরপর থেকে আমি কোনো কিছু ভুলিনি। ইমাম বুখারি (রহ.) বলেন, আট শরও বেশি সাহাবি ও তাবেঈন তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। (আত-তাবাকাতুল কুবরা : ৪/২৪৫, ২৪৬)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে ৫৩৭৪টি হাদিস বর্ণিত আছে। ইবনে কাসির (রহ.) ইমাম বুখারি (রহ.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি ও তাবেঈনদের সংখ্যা ৮০০ থেকেও বেশি। তাঁর শিষ্যদের তালিকায় হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহ.) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/১০৩)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য