যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী তেল আবিবের প্রধান সড়কে ইসরাইলি সামরিক সদর দপ্তরের কাছে সমবেত হয়েছেন। হারেৎজ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারির বিরোধিতাকারী একটি কর্মীগোষ্ঠী ‘লুকিং দ্য অকুপেশন ইন দ্য আই’-এর একটি স্ট্যান্ড ইসরাইলি পুলিশ জোর করে সরিয়ে দিয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে যে স্ট্যান্ডটি সেনাবাহিনীর মার্চের পরিকল্পিত পথকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এদিকে, ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে গাজায় আটক থাকা পাঁচজন নিহত বন্দির লাশ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তে একটি রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান কমিশন গঠনের দাবিতেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় এক মাস পরও গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এ ছাড়া ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৬৯ জনে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করায় এই সংখ্যা আরো বেড়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরো ২৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবারও নতুন করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উত্তর গাজায় এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে, যিনি কথিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে সেনাদের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। এই ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা হচ্ছে একটি নির্ধারিত সীমারেখা, যেখানে পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পিছু হটার কথা ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজাতেও তারা আরেকজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যিনি ওই সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন এবং সেনাদের ভাষ্য মতে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ সৃষ্টি করেছিলেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, ইসরাইলি বাহিনী প্রায়ই ওই সীমারেখার কাছে গেলে ফিলিস্তিনিদের এমনকি পরিবারসহ সাধারণ মানুষকেও লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। হারেৎজ।
