Wednesday, June 19, 2024
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরসৌদিতে অবস্থিত ইথিওপীয় অভিবাসীরা অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে

সৌদিতে অবস্থিত ইথিওপীয় অভিবাসীরা অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে

সৌদিতে অবস্থিত ইথিওপিয়া থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসীদের নোংরা আটক পরিস্থিতির নতুন নতুন বিবরণ প্রকাশিত হচ্ছে।

সৌদি আরবে অবস্থিত এক ইথিওপীয় অভিবাসী দেশটির একটি নোংরা সেল থেকে পাচার হওয়া একটি ফোনের মাধ্যমে কথা বলেছিল। তিনি তার নাম প্রকাশে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি জানান, প্রায় ৩০০ জন ইথিওপীয়বাসী তার সাথে কারাবরণ করছেন। এবং ইথিওপিয় সরকার কখন তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিবে তারা কেউ জানে না।

”আমরা খুব অমানবিক অবস্থায় আটকা আছি। কাছাকাছি টয়লেট থেকে বয়ে যাওয়া বর্জ্যের উপর ঘুমাতে হচ্ছে। আমরা সত্যিই দেশে ফিরে যেতে চাই। তবে কেউ আমাদের সহায়তা করছে না, এমনকি ইথিওপিয়ান কর্মকর্তারাও না।”- তিনি সৌদি রাজধানী রিয়াদের বাইরের একটি আটক কেন্দ্র থেকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন।

”আমাদের প্রতিদিন মারধর করা হয়। আমাদের একমাত্র অপরাধ ছিল বিদেশের মাটিতে আরও উন্নত জীবন চেয়েছিলাম।”

ইথিওপিয়া থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসী- পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের নোংরা আটক পরিস্থিতির নতুন নতুন বিবরণ প্রকাশিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের কিছুকে এ বছর ইয়েমেন থেকে সৌদি আরব সীমান্ত-এর দিকে ধাওয়া করা হয়েছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক শুক্রবার প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে, সৌদি আটক কেন্দ্রগুলিতে মারধর এবং বৈদ্যুতিকরণ সহ অভিবাসীদের উপর ব্যাপক নির্যাতন এর কথা উল্লেখ করা হয়। অমানবিক অবস্থায় জনাকীর্ণ সেলে অবস্থান এবং সেলের ফ্লোরকে পায়খানা হিসাবে ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয় বলে বর্ণনা করেছেন আটককৃতরা।

”সেখানকার পরিস্থিতি মৃত্যু এবং রোগ দ্বারা আবৃত ছিল। এতটাই মারাত্মক অবস্থা যে, কমপক্ষে দু’জন লোক আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল।”- প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টির গবেষক মেরি ফরস্টিয়ার বলেন।

”আটককৃতদের মধ্যে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বাচ্চা রয়েছে বলে জানা যায়, যাদের সকলকেই ভীষণরকম বাজে অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে। এবং তিন জন বন্দী তাদের পরিচিত শিশুদের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন।”

নির্যাতন এর ঘটনাগুলি অভিবাসী অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে সবার দৃষ্টিগোচর করেছে। সৌদি সরকারে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য প্রকাশ করেনি।

প্রতি বছর হাজার হাজার ইথিওপিয়ান, সোমালিয়া বা জিবুতি থেকে লোহিত সাগর বা এডেন উপসাগর পেরিয়ে এবং সংঘাত-জর্জরিত ইয়েমেন পেরিয়ে উন্নত জীবনের সন্ধানে সৌদি আরব পাড়ি জমায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে যে, হাজার হাজার ইথিওপীয় অভিবাসী উত্তর ইয়েমেনে কর্মরত রয়েছে । তারা সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ইয়েমেনে অর্থ উপার্জন করছে।

”করোনা মহামারী যখন বাড়তে শুরু করেছিল, তখন হাউতি কর্তৃপক্ষ অভিবাসী কর্মীদের সীমান্তে যাওয়ার নির্দেশ দিতে শুরু করেছিল। যেখানে তারা সৌদি এবং হাউথি বাহিনীর মধ্যকার ক্রসফায়ারে আটকা পড়েছিল বলে জানা গেছে।”- নতুন প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়।

প্রাণঘাতী পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে যে, বর্তমানে ইয়েমেনী সীমান্তের অঞ্চলে ২ হাজার ইথিওপীয় খাদ্য, পানি বা স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াই আটকা পড়ে আছে।

অভিবাসীরা বলছেন, তাদেরকে বর্তমানে প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে।

”আমি যদি জানতাম যে, এই নরকীয় অবস্থাটি আমার জন্য অপেক্ষা করবে তাহলে আমি কখনো আমার দেশ ছেড়ে এখানে আসতাম না। অতীতে আমার আত্মহত্যামুলক চিন্তাভাবনা এসেছিল। বিশেষত খুব গরমের দিনগুলোতে এয়ার কন্ডিশনার না থাকায় অত্যন্ত অসহনীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। এবং যখনই আমরা অভিযোগ করি তারা আমাদের “বৈদ্যুতিক ডিভাইস” দিয়ে নির্যাতন এবং মারধর করে। তারা আমাদের সমস্ত অর্থ এবং সেল ফোন নিয়ে গিয়েছিল।”- আটক হওয়া অপর এক অভিবাসী এপি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছিল।

নয় মাস আগে তার সৌদি আবাসন কার্ড-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ”আমি এখন কেবলমাত্র ইথিওপিয়ায় ফিরে যেতে চাই। তবে এটি আপাতত একটি স্বপ্ন।” আটককৃতরা তাদের নিরাপত্তার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

করোনা মহামারী তাদের প্রত্যাবাসন জটিল করে তুলেছে, সাথে ইথিওপিয়ান কর্তৃপক্ষ বলছে, একসাথে এত লোকের প্রত্যাবর্তন পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা তাদের নেই।

ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী টেশন টেকলু জানান, সৌদি কারাগারে ১৬,০০০ জন ইথিওপীয় বন্দী আছে বলে ধারণা করা যায়। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে প্রায় ৪,০০০ লোককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইথিওপিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রায় ৪,০০,০০০ জনকে প্রত্যাবাসন করেছে।

”আমরা এখন প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০ জন করে এনে আরও ২ হাজার অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করছি। সমস্যাটি আরও জোরদার হয়েছে কেননা আমাদের কিছু নাগরিক যারা প্রত্যাবাসন করেছেন তাদেরকে পুনরায় অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছে।”- বলেন টেশন টেকলু।

”যদি পর্যাপ্ত কোয়ারান্টাইন এর ব্যবস্থা করা কষ্টসাধ্য হয়, অন্যান্য সরকার ও দাতাদের কোয়ারান্টাইন সংখ্যা বাড়াতে অবশ্যই ইথিওপিয়াকে সাহায্য করতে হবে। যাতে অভিবাসীরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই নারকীয় অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করে। কয়েক হাজার লোককে অব্যাহতভাবে নির্বিচারে আটকে রাখা এবং নির্যাতন করা কখনোই সমর্থন যোগ্য নয়, এমনকি মহামারী চলাকালীনও নয়“।- অ্যামনেস্টির গবেষক মেরি ফরস্টিয়ার বলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

1 + twelve =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য