Sunday, March 3, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবর১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ২০ মিসরীয় সৈন্যকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল ইসরাইল!

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ২০ মিসরীয় সৈন্যকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল ইসরাইল!

ইসরাইলের এক প্রখ্যাত সাংবাদিক শুক্রবার জানিয়েছেন, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২০ জন মিসরীয় সৈন্যকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করে তাদেরকে অশনাক্ত স্থানে মাটিচাপা দিয়েছিল।

নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ইয়োসি মেলম্যান লিখেছেন, ‘৫৫ বছরের কঠোর সেন্সরশিপের পর আমি প্রকাশ করছি যে অন্তত ২০ মিসরীয় সৈন্যকে জীবন্ত পুড়িয়ে একটি গণকবরে চাপা দিয়েছিল আইডিএফ (ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস)। এতে কোনো জায়গাটি চেনার উপায় থাকেনি। যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করে ইসরাইল তা করেছিল। ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ঘটনাটি ঘটেছিল।’

ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিয়থ অহরোনথ পত্রিকার ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
মেলম্যান জোর দিয়ে বলেছেন যে পরলোকগত মিসরীয় প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুন নাসের যুদ্ধের কয়েক দিন আগে জর্ডানের পরলোকগত বাদশাহ হোসাইন বিন তালালের সাথে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিলেন। ওই নসয় পশ্চিত তীরের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতেই।

তিনি বলেন, মিসর পশ্চিম তীরে ল্যাট্রানের কাছে দুটি কমান্ডো ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেছিল। এটি ছিল নো ম্যান্স ল্যান্ড। তাদের মিশন ছিল ইসরাইলের অভ্যন্তরে হানা দিয়ে লড ও কাছের সামরিক এয়ারফিল্ডটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা।

ল্যাট্রানের অবস্থান ছিল জেরুসালেম ও জাফার মধ্যকার রাস্তায়, জেরুসালেম থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর ইসরাইল ও জর্ডান এটিকে নো ম্যান্স ল্যান্ড হিসেবে মেনে নিয়েছিল।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল ল্যাট্রান দখল করে নেয়। এটি এখন পশ্চিম জেরুসালেমের অংশ।

মেলম্যান লিখেছেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও কিবুজ ন্যাশন (ইহুদি কৃষকদের বামপন্থী গ্রুপ) গুলি করে। এতে মিসরের কিছু সৈন্য পালিয়ে যায়, কয়েকজনকে বন্দী করা হয় এবং কয়েকজন সাহসকিতার সাথে লড়াই করে। একপর্যায়ে আইডিএফ মর্টার শেল নিক্ষেপ করলে বুনো ঝোপঝাড়ে আগুন ধরে যায়।
তিনি ওই সময়ের ন্যাশন-এর কমান্ডার হিসেবে কর্মরত জিন ব্লচের (তার বয়স এখন ৯০ বছর) উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় ছিল না অন্তত ২০ মিসরীয় সৈন্যের। তারা মারা যায়।

তিনি বলেন, পরের দিন বুলডোজার এনে আইডিএফ সৈন্যরা একটি গর্ত খোঁড়ে। তারপর তারা মিসরীয় সৈন্যদের লাশ তাতে ফেলে মাটিচাপা দেয়। ইসরাইলি সৈন্যদের এমন নৃশংসতা ব্লচ ও তার ন্যাশনের কয়েকজন সদস্য প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বলেন, জায়গাটিকে চিহ্নিত রাখা হয়নি।

ইসরাইলি সাংবাদিক বলেন, ‘সবার মধ্যে নীরবতা নেমে আসে। অল্প কয়েকজন যারা ঘটনাটি জানতেন, তারা এ নিয়ে কথা বলেননি। আমরা লজ্জিত। তবে এটা ছিল যুদ্ধের উত্থাপের মধ্যে আইডিএফের সিদ্ধান্ত।’

এ ব্যাপারে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে আইডিএফ আরব সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে পূর্ব জেরুসালেমসহ পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যাকা, সিনাই মালভূমি ও সিরিয়ার গোলান হাইটস দখল করে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

ten + 12 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য