সরকারি কোষাগার থেকে ২ কোটি টাকা লোপাট

0
115

দু’বছর ধরে ভুয়া বিল ভাউচারে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ।

তারা হলেন দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সরকার আমিরুল ইসলাম (৩৪) ও দিনাজপুর জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসের অডিটর মাহাফুজুর রহমান (৪২)। এ ঘটনায় সোমবার রাতে দিনাজপুর জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার সাইফুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছেন।

থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, গ্রেফতার দুজনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত বুধবার রিমান্ড আবেদন শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল ইসলাম সাতক্ষীরা দেবহাটা থানার মাটিকোমরা গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে ও মাহাফুজুর রহমান দিনাজপুর সদর উপজেলার কসবা এলাকার মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে।

আমিরুল ওই হাসপাতালের ডাক্তার, কর্মকর্তা ও নার্সসহ ৭১০ জনেরও বেশি কর্মচারীর বিল-বেতন পরিচালনা করতেন। এ কাজে যাতায়াতের একপর্যায়ে মাহাফুজুরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সূত্র ধরেই আমিরুল ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার ও নিজের পদবি ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ উল্লেখ করে হাসপাতালের বিলের সঙ্গে তার ভুয়া-বিল ভাউচার জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসে জমা দিতেন।

আর এতে মাহাফুজার রহমান ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার ডিভাইসে বেআইনিভাবে ইলেকট্রনিক জালিয়াতি করে আসছিলেন। দু’জনের যোগসাজশে সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি আমিরুল তার নামে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ টাকার একটি সরকারি চেক অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সংগ্রহ করেন। কিন্তু চেক প্রদানের পর জমা দেওয়া বিল-ভাউচার খুঁজে না পাওয়ায় সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার ম্যানেজারকে পেমেন্ট স্থগিত রাখার জন্য ফোন করেন জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসার।

ফলে সেই টাকা আমিরুল তুলতে পারেননি। এরপর জেলা অ্যাকাউন্টস অফিসারের তদন্তে ধরা পড়ে, অডিটর মাহাফুজুর রহমানের সহায়তায় ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আমিরুল ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই হাসপাতালের ডাক্তার, কর্মকর্তা ও নার্সসহ কর্মচারীর নামে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে এ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

অপরদিকে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, তারা হিসাব করে দেখেছেন, তাদের অ্যাকাউন্টস থেকে কোনো টাকা তছরূপ হয়নি। অভিযুক্ত দুজন কোনো টাকা আত্মসাৎ করেছেন তা অ্যাকাউন্টস অফিসই বলতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × five =