গতকাল রাজধানীতে ‘বাংলাদেশে খাদ্য নষ্ট ও অপচয় রোধে চ্যালেঞ্জ ও সমাধান’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে এফএও ঢাকার চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার নাওকি মিনামিগুচি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান এ তথ্য তুলে ধরেন।
তারা বলেন, বাংলাদেশে কী পরিমাণ খাদ্য নষ্ট বা অপচয় হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, শাকসবজি ও ফলমূলে ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সারা পৃথিবীতেই উত্পাদিত খাদ্যের বিরাট একটা অংশ নষ্ট ও অপচয় হয়। বাংলাদেশেও খাদ্য উত্পাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য নষ্ট হয়। যা একদিকে খাদ্য নিরাপত্তায় অন্যদিকে কৃষকের আয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেজন্য কোনোভাবেই খাদ্য নষ্ট ও অপচয় করা যাবে না। তবে খাদ্য উত্পাদক, ক্রেতা-ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
মূল প্রবন্ধে আরো বলা হয়, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৯ রিপোর্ট মোতাবেক বছরে সারা বিশ্বে উত্পাদিত খাদ্যপণ্যের এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট বা অপচয় হয়। যার পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন বা ১৩০ কোটি টন। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হর্টিকালচারাল সায়েন্স এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘খাদ্য নষ্ট ও অপচয় বিষয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস’ পালন উপলক্ষ্যে এ ওয়েবিনার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হর্টিকালচারাল সায়েন্সের সভাপতি মো. সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফুল ইসলাম, বিএসএইচএস’র মহাসচিব আফজাল হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
