৫১৩০-[৮] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তিনি ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট পত্র লেখলেন। ঐ পত্রে লেখা ছিল, আপনি আমাকে উপদেশ দান করে নাতিদীর্ঘ পত্র লেখবেন। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) সেটার জবাবে লেখলেন, সালা-মুন ’আলায়কা। পর সমাচার, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও, তার সাহায্যের জন্য আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট। তিনি তাকে মানুষের অত্যাচার থেকে বাঁচান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি চায় আল্লাহর অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও, আল্লাহ তা’আলা তাকে মানুষের হাতে ছেড়ে দেন, আসসালা-মু ’আলায়কা। (তিরমিযী) [1]
ব্যাখ্যাঃ (وَكَلَهُ اللهُ إِلَى النَّاسِ) অর্থাৎ- আল্লাহ রববুল ‘আলামীন তাকে মানুষের দিকে মুখাপেক্ষী করে দিবেন। ফলে মানুষ তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে এবং তাকে কষ্ট দিবে তার ওপর নির্যাতন চালাবে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৪১৪)
ইমাম মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির সামনে যখন এমন কাজ উপস্থিত হয় যা করতে গেলে আল্লাহ খুশি হবেন কিন্তু মানুষ অসন্তুষ্ট হবে অথবা মানুষ সন্তুষ্ট হবে কিন্তু আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন, এ সময় যদি সে প্রথমটা করে তাহলে তার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন এবং মানুষের অনিষ্ট হতে তাকে হিফাযাত করবেন। পক্ষান্তরে সে যদি দ্বিতীয়টা করে তাহলে আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন এবং মানুষের অনিষ্ট হতে তাকে হিফাযাত করবেন না এবং তাকে বিভিন্ন কাজে মানুষের দ্বারে ঘুরাবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
[1] সহীহ : তিরমিযী ২৪১৪, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৩১১, সহীহ আত্ তারগীব ২২৫০, সহীহুল জামি‘ ৬০৯৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৭৭, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৮/১৮৮।

