মক্কা সম্মেলনে কোরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা

0
124

মুসলিম ঐক্য, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা প্রতিরোধ এবং মুসলিম দেশসহ সারা বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলাম ও মুসলিমদের সেবা এবং মধ্যপন্থা প্রসারে সৌদি আরবের প্রচেষ্টার বার্তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে পারিবারিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও পবিত্র কোরআনের মর্যাদার সুরক্ষা, ফতোয়া প্রদানে সতর্কতাসহ ধর্মীয় ক্ষেত্রে উগ্রতা পরিহারের আহ্বান জানানো হয়। গত ১৩-১৪ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় দুই দিনব্যাপী ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ৮৫টি দেশ থেকে দেড় শতাধিক আলেম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্বশীলরা অংশ নেন। ‘সারা বিশ্বের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মুফতি, মাশায়েখ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি’ শীর্ষক সম্মেলনটি আয়োজন করে দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তাবনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদকে মুসলিম ঐক্যের প্রধান উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আর দ্বিনের প্রধান উৎস হিসেবে কোরআন ও সুন্নাহকে সঠিকভাবে আঁকড়ে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়। বলা হয়, সব ধরনের বিভ্রান্তি, ভ্রষ্টতা ও ফেতনা থেকে রক্ষায় এ দুটি উৎসকে যথাযথভাবে অনুসরণ অপরিহার্য। তাই ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলির ওপর ভিত্তি করে সব আলেম, মুফতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সম্মেলনে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের নির্দিষ্ট নীতিমালা যথার্থভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কেননা ফতোয়ার ক্ষেত্রে জনকল্যাণ ও ক্ষতি প্রতিরোধের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। তাই উপযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ফতোয়া নিতে হবে এবং বিচ্ছিন্ন মতামতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ছাড়া ইসলামের দাওয়াত ও শিক্ষা কার্যক্রমে মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা এবং বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা পরিহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ ধরে রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধর্মহীনতা, চারিত্রিক বিপর্যয় থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষার জন্য নানা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রগ্রাম আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সর্বোপরি সম্মেলনের পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন কপিতে অগ্নিসংযোগসহ সব ধরনের অবমাননাকর ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড মানবিক সমাজের মূল্যবোধ পরিপন্থী এবং তা সমাজে ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সৌদি আরবের ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ আল-শায়খ আশা ব্যক্ত করে বলেন, সম্মেলনটি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা, অংশীদারত্ব ও সংহতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর যথাযথ অনুকরণের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে ইসলামের মধ্যপন্থা নীতির প্রসার ঘটানো এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর মহাসচিব হুসাইন ইবরাহিম তোহা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মুসলিম উম্মাহ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম বিকৃতির আগ্রাসী প্রবণতাসহ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাই ইসলামকে ঐক্যের উৎস হিসেবে গ্রহণ করে সবাইকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিন্তাদর্শন ও অর্থনীতিসব সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সংহতির ভিত্তিতে একটি সভ্য, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।’

সূত্র : আরব নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 5 =