যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত পঞ্চম দিনে গড়ানোর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা একটি হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, ভিডিওটিতে একটি ইরানি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

তবে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) বিশ্লেষকেরা ফুটেজটি পরীক্ষা করে দেখেন। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে লক্ষ্যবস্তুটিকে হেলিকপ্টার বলে দাবি করা হয়েছে, সেটি আসলে কোনো বাস্তব উড়োজাহাজ নয়; বরং মাটিতে আঁকা একটি হেলিকপ্টারের সিলুয়েট বা ছায়াচিত্র।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে অল্প খরচে তৈরি করা এই চিত্রগুলো দূর থেকে বাস্তব সামরিক সরঞ্জাম বলে মনে হয়। এর ফলে প্রতিপক্ষ বাহিনী সেগুলোকে প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু মনে করে উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা নিক্ষেপ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেখানে এসব ভুয়া লক্ষ্যবস্তু তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র কয়েক ডলার, সেখানে সেগুলো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত গোলাবারুদের মূল্য ছিল কয়েক মিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কৌশলের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষের অপারেশনাল সক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করা এবং ব্যয়বহুল সামরিক সম্পদ ভুল লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহার করতে বাধ্য করা।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ছদ্মবেশ ও ভুয়া লক্ষ্যবস্তু ব্যবহার যুদ্ধকৌশলের দীর্ঘদিনের অংশ এবং এগুলো এখনো কার্যকর। শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করা এবং প্রকৃত সামরিক সরঞ্জামকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে অনেক সময় ভুয়া লক্ষ্যবস্তু বা ডিকয় তৈরি করা হয়।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন কোনো মন্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
