যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে ও অতীতে যা ঘটেছে, তা ভুলে সামনে এগোতে চায় তালেবান। ১৫ আগস্ট পশ্চিমা-সমর্থনপুষ্ট আশরাফ গনি সরকারকে হটিয়ে পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো পাশ্চাত্যের কোনো গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এ মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে গত বুধবার এ সাক্ষাৎকার দেন তালেবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।
মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা (দেশের) ভবিষ্যৎ গড়তে ও অতীতে যা ঘটেছে, তা ভুলে যেতে চাই।’ তালেবানবিরোধীদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করেছে—ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেন তিনি। ২০ বছর আগে সরকারে থাকাকালে নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ তালেবান আবারও চাপিয়ে দেবে, এমন আশঙ্কাও তিনি
নাকচ করেন। এই সাক্ষাৎকারের আগের দিন গত মঙ্গলবার জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, নারীদের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে তালেবানের একেবারে সাধারণ যোদ্ধারা প্রশিক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত নারীদের বাড়িতে থাকাটাই তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ এ ইঙ্গিত দেন, এখনই না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে আফগান নারীরা তাঁদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিনা বাধায় ফিরতে পারবেন। তালেবান দেশের নারীদের আবার ঘরে থাকতে ও তাঁদের মুখ ঢাকতে বাধ্য করবে—এ নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তালেবানের মুখপাত্র বলেন, নারীদের ব্যাপারে নেওয়া কিছু নীতিমালা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের বাইরে চলার ক্ষেত্রে যে পুরুষ অভিভাবককে (মাহরাম বলে পরিচিত) সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে, তা তাঁদের তিন দিন বা এর বেশি দিনের সফরের ক্ষেত্রেই শুধু প্রযোজ্য। নারীরা স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস বা হাসপাতালে গেলে তাঁদের পুরুষ অভিভাবক সঙ্গে রাখার প্রয়োজন নেই।
মার্কিন বাহিনীকে সহায়তাকারী ও দোভাষী হিসেবে কাজ করা আফগানদের খোঁজা হচ্ছে বলে প্রকাশিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মুজাহিদ। তিনি দাবি করেন, তাঁরা নিজ দেশে নিরাপদ থাকবেন।
