পাকিস্তানকে নতুন পাইলট লাইসেন্স প্রদান স্থগিতের পরামর্শ দিল জাতিসংঘের বিমান সংস্থা

পরামর্শগুলি, পাকিস্তানের বহু বিমান সংস্থার পাইলটকে ভুয়া লাইসেন্স জারি করা হয়েছে এমন অভিযোগের তদন্ত শুরু করার কয়েকদিন পরেই আসে।

0
244

রয়টার্সের এক কর্মকর্তা এবং একটি নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও), মিথ্যা লাইসেন্স নিয়ে কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে “তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ” করার এবং নতুন কোনো পাইলটকে লাইসেন্স প্রদান স্থগিত করারও পরামর্শ দিয়েছে।

আইসিএও’র এই প্রস্তাবনাগুলি, পাকিস্তানের ৫০ জন বিমান চালক এবং পাঁচ বেসামরিক বিমান চলাচলকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার কয়েকদিন পরেই আসে। যাদের বরুদ্ধে মিথ্যা প্রমাণপত্রাদি দিয়ে পাইলট লাইসেন্স সুরক্ষিত করার কাজে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। আইসিএও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা যা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে।

‘পাকিস্তানকে তার লাইসেন্সিং সিস্টেমটি উন্নত ও জোরদার করা উচিত যাতে এটি প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারে এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানের আগের এবং স্থগিত লাইসেন্সগুলির সুযোগ-সুবিধা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগের অসঙ্গতি এবং অপব্যবহারগুলো রোধ করতে পারে।’- গত সপ্তাহে আইসিএও পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (পিসিএএ) অপ্রকাশিত একটি চিঠিতে বলেছিল।

পাকিস্তানি বিমান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন যে, এই কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে দেশটি জুলাই মাস থেকে নতুন কোনও লাইসেন্স জারি করেনি।

আলজাজিরা কর্তৃক আইসিএও-এর প্রস্তাবনা গুলোর ব্যাপারে পাকিস্তানি বিমান মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে মন্তব্য করার জন্য পাওয়া যায় নি। যিনি পিসিএএ-র ও একজন মুখপাত্র।

গত জুলাইয়ে আল জাজিরা জানায়, পাকিস্তানের বিমান চালকদের দাবি যে, দেশের নাগরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের জালিয়াতি এবং বিমানের অনুপযুক্ত প্রশংসাপত্র প্রদানের প্রচলন ছিল ব্যাপক। এবং ত্রুটিযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন এবং নিয়ামক মওকুফ ব্যবহারের মাধ্যমে বিমান সংস্থা নিয়মিতভাবে বিমান নিরাপত্তাকে বিপদ্গ্রস্ত করে ফেলেছে।

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যেটি দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা এবং একমাত্র প্রধান আন্তর্জাতিক বাহক। এছাড়াও এই সংস্থা বেশিরভাগ বিমান নিরাপত্তার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

দেশটির বিমানমন্ত্রী এ কথা জানায় যে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাকিস্তানি পাইলটদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই জালিয়াতিভাবে তাদের প্রশংসাপত্রগুলি পেয়েছিল।

দুর্ঘটনার সংখ্যা মাইলফলক ছুঁয়েছে

মে মাসে করাচির দক্ষিণে পিআইএর একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে বিমানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। যেখানে ৯৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানের বিমান দুর্ঘটনা মাইলফলক ছুই ছুই করছে। গত দশ বছরেই দেশটিতে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক বা চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৪৪৫ জন মারা গেছেন।

একই সময়ে, ইঞ্জিনগুলি মাঝ ফ্লাইটে বা উড্ডয়নে বন্ধ হয়ে যায়, অবতরণ বিষয়ক ব্যর্থতা, রানওয়ে থেকে বেরিয়া যাত্তয়া, মাটিতে সংঘর্ষসহ অন্যান্য বহু-প্রাণঘাতী নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটেছে।- সরকারী রিপোর্ট এবং পাইলটদের সাক্ষ্য অনুযায়ী।

আইসিএও’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে, পাকিস্তানের বিমান শিল্প প্রতি মিলিয়ন যাত্রাপথে ১৪.৮৮টি দুর্ঘটনা নিবন্ধন করেছে। যেখানে বিশ্বব্যাপী গড় ৩.০২ টি।

মন্ট্রিল-ভিত্তিক সংস্থার প্রস্তাবনাগুলিও দেশটির বিমান সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিগুলি মূল্যায়ন করতে প্রকাশ করা হয়। যা আইসিএও নিরীক্ষণের আগে দেওয়া হয়েছিল।

মূলত এই বছরের নভেম্বরে আইসিএও-এর নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্ধারিত হয়েছিল। যা পরে জুনে স্থানান্তরিত হয়। এবং তারা পিসিএএকে সংস্কারে কাজ করার জন্য আরও অনেক সময় প্রদান করে – আইসিএও-এর কর্মকর্তা বলেন।

আইসিএও’র একজন প্রতিনিধি পাকিস্তানকে দেওয়া পরামর্শের ব্যপারে রয়টার্সকে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একটি ইমেইলের মাধ্যমে বলেন যে, আইসিএও ‘পাকিস্তানকে সমস্যা গুলি চিহ্নিত করতে সহায়তা করছে। এবং যদি তারা দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে আমরা সক্রিয়ভাবে তাদের সম্পর্কে অন্যান্য দেশগুলিকে অবহিত করব।’

পাইলট কেলেঙ্কারি, পাকিস্তানের বিমান চালনা শিল্পকে কলঙ্কিত করেছে এবং পিআইএকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার সাথে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি করেছে।

এদিকে, পাকিস্তান ৫০ জন বিমান চালকের লাইসেন্স প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরও ৩২ জন বিমান চালককে এক বছরের জন্য বরখাস্ত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 5 =