Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅযোধ্যার শরিফ চাচার পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ৬

অযোধ্যার শরিফ চাচার পদ্মশ্রী পুরস্কার লাভ৬

সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণ করেছেন উত্তর প্রদেশের সেই শরিফ চাচা। গত সোমবার (৮ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছ থেকে মোহাম্মদ শরিফ এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। পদ্মশ্রী পুরস্কার ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। এরপর আছে ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী। শিল্পকলা, শিক্ষা, বাণিজ্য, সাহিত্য, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, সমাজসেবা ও সরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

২০২০ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শরিফের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে গত বছর এ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। এরপর গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাসিন্দা ৮৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ শরিফ। সবার কাছে তিনি শরিফ চাচা নামেই পরিচিত। আগে তিনি সাইকেল মেরামতের কাজ করতেন। কিন্তু ২৯ বছর আগে এক দাঙ্গায় ছোট ছেলেকে হারিয়ে তিনি লাশের শেষকৃত্যের কাজ শুরু করেন। গত তিন দশকে তিনি ২৫ হাজারের বেশি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ কারো দাবি ছাড়াই শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় শরিফের ছোট ছেলে মোহাম্মদ রইস খান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হন। রইস খান ছিলেন একজন রসায়নবিদ। সুলতানপুরে যাওয়ার পথে তাঁকে মেরে তাঁর লাশ রেলপথে ফেলে রাখা হয়। এমনকি কুকুর এসে তা গ্রাস করছিল। এদিকে শরিফ ছেলের বেওয়ারিশ লাশ খুঁজতে শুরু করেন। তিনি পুলিশ স্টেশন, রেলস্টেশন ও মর্গে বেওয়ারিশ মরদেহ খোঁজেন। ভয়ংকর এ ঘটনার পর শরিফ সমাজসেবা শুরু করেন। মুসলমান, হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টান যেকোনো ধর্মের মরদেহের শেষকৃত্য সম্পাদন করেন। যথাযথ সম্মান দিয়ে লাশ দাফন বা শবদাহ কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এর পর থেকে শরিফ নিজ জেলার বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন বা দাহ করা শুরু করেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কেউ লাশ দাবি না করলে পুলিশও শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে তাঁর কাছে মরদেহ হস্তান্তর শুরু করে। তাঁর এমন মহৎ উদ্যোগ সবাইকে আলোড়িত করে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য