ভোট জালিয়াতির অভিযোগের মাঝেই কিরগিজস্তানে সংসদীয় নির্বাচনের জরিপ শুরু

সরকার সমর্থক দলগুলি জরিপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে এই ব্যাপক প্রচারকার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে।

0
284

কিরগিজস্তানে সংসদীয় নির্বাচনের জরিপ শুরু হয়েছে। এটি ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সুরনবায়ে জিনবেকভের রাজনৈতিক রাজধানী এবং নতুন জোট গঠন করার ক্ষেত্রে তার দক্ষতার মুখোমুখি করবে ।

জিনবিকভের সমর্থকরা মধ্য এশীয় দেশটির আইনসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতিপন্থী ক্ষমতাসীন জোটের, দুটি বড় রাজনৈতিক গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ব্যাপক ভোটারদের অসন্তুষ্টির কারণে বিপর্যস্ত হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোট জালিয়াতির অভিযোগে এই ব্যাপক প্রচারকার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে। মার্কিন-সমর্থিত আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট কর্তৃক আদেশিত আগস্টের একটি মতামত জরিপে দেখা গেছে, ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা সব দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন।

দেশটির এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদে মোট ১৬ টি দল ১২০ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তাদের কেউ যদি “সব দলের বিরুদ্ধে” মতটির চেয়ে বেশি ভোট না জিতেন, তাহলে নতুন একটি নির্বাচন ডাকতে হবে।

বিশকেক উপকণ্ঠের এক কৃষক ওরুনবাই কালমুরজায়েভ জানান জরিপ চালানোর আগে দলগুলির ভোট কেনার চেষ্টার অভিযোগে তিনি ক্ষুদ্ধ ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘যে লোকেরা ভোট বিক্রি করে তারা তাদের আশা বিক্রি করছে, তাদের দেশ বিক্রি করছে, তাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি বিক্রি করছে এবং তাদের ভবিষ্যত বিক্রি করছে’।

৬৫ লক্ষ মানুষের দেশটিতে রাজনৈতিক কোন্দলের ইতিহাস রয়েছে।

বিগত ১৫ বছরে দেশটিতে দুই জন রাষ্ট্রপতির বিদ্রোহের মাধ্যমে পতন হয়েছে এবং তৃতীয়জন তার উত্তরসূরির সাথে দ্বন্দ্বে কারাগারে রয়েছেন।

অধিকতর মাত্রায় অস্থিরতা ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয় হবে।

মস্কো প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে একটি সামরিক বিমানবন্দর পরিচালনা করে এবং ইতোমধ্যে বিরোধী দলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনির সন্দেহজনক বিষের পাশাপাশি তার সহযোগী দেশ বেলারুশ ও আর্মেনিয়ার সাথে জড়িত বড় ধরনের সংকট মোকাবেলা করছে।

সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এসডিপিকে) ভাঙ্গন

বিগত ২০১৫ সালের নির্বাচনে সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসডিপিকে) আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং রাষ্ট্রপতিপন্থী জোটের মূল ভূমিকা পালন করেছিল। তবে, জিনবেকভ এবং তার পূর্বসূরী আলমাজব্যাক আতবায়েভের মধ্যকার বিবাদের পরে এটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অন্য আরেকটি বড় জোটের সদস্য হলো রেসপুব্লিকা-আতা ঝুর্ট। এটি এসডিপিকে সাথে নিয়ে বিগত নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসন জিতেছিল। এটিও বিভক্ত হয়ে গেছে। এর কিছু সংসদ সদস্য ভিন্ন দলের ব্যনারে পুনর্নির্বাচনের চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে ।

জিনবিকভের ভাই সহ নিকটতম কিছু মিত্র এখন বিরিমডিক (ঐক্য) পার্টির ব্যনারে সংসদে অংশ নিচ্ছেন। তবে সেই দলের নেতা মারাত আমানকুলোভা গত মাসে বিতর্কিত মন্তব্য করার দরুন সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। যেখানে তিনি রাশিয়ার সাথে আরও সংহত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভোটের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে, জিনবেকভ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাতের জন্য রাশিয়া গিয়েছেন। যিনি তাকে মস্কোর সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এমিল ডিঝুরায়েভ আল জাজিরাকে বলেন, যদিও সরকার সমর্থক দলগুলি এই প্রতিযোগিতায় অনুকূল অবস্থায় রয়েছে, তবে ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হবে।

”ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল সরকারপন্থী দলগুলির দিকে ঝুঁকছে। তবে এটিও সর্বদা সম্ভাবনাময় ছিল যে, বসবাসরত অর্ধ মিলিয়ন লোক বা তাদের মধ্যে অনেকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পরে স্বতন্ত্রভাবে ভোট দিতে সক্ষম হবে।”- এমিল ডিঝুরায়েভ বলেন।

রবিবার রাতে বা সোমবার নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে দলগুলির ভাঙা প্রকৃতির কারণে, ফলাফল সরকার গঠনের কয়েকদিন বা সপ্তাহ আগে প্রকাশিত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − seven =