Thursday, April 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসএকটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস জেনে নেই!!

একটি অতীব প্রয়োজনীয় হাদিস জেনে নেই!!

জ্যোতিষীর গণনা

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَه

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কিছু শিখল, সে যেন জাদুর কিছু অংশ হাসিল করল। সুতরাং সে যত বেশি জ্যোতির্বিদ্যা শিখল ততবেশি জাদুবিদ্যাই অর্জন করল। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

[1] সহীহ : আহমাদ ২৮৪০, আবূ দাঊদ ৩৯০৫, ইবনু মাজাহ ৩৭২৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৭৯৩, আল জামি‘উস্ সগীর ১১০১৯, সহীহুল জামি‘ ৬০৭৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫১, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৬৪৬, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ১৬৯৫৫।

ব্যাখ্যাঃ (مَنِ اقْتَبَسَ) অর্থাৎ যে ব্যক্তি গ্রহণ করল, অর্জন করল, শিক্ষা লাভ করল। (عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ) অর্থাৎ তার শিক্ষা ভাণ্ডার হতে কিছু শিক্ষা অথবা তার জ্ঞান ভাণ্ডার হতে কোন মাস্আলাহ্।

(مَا زَادَ) অর্থাৎ সে যত বেশি জ্যোতির্বিদ্যা অর্জন করবে, তার জাদুর শাখা-প্রশাখা তত বেশি বিস্তার লাভ করবে। মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) এ কথা বলেন।

‘আল্লামা সিন্দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ জ্যোতিবির্দ্যা যত বৃদ্ধি পাবে, জাদুও তত বৃদ্ধি পাবে।

এটাও বলা হয়ে থাকে যে, এটি বর্ণনাকারীর কথারও সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব বেশি খারাবী বর্ণনা করেছেন।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ জ্যোতির্বিদ্যাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা থেকে বুঝা যায় যে, জ্যোতির্বিদগণ দুনিয়াবী জ্ঞান অর্জন করে, আর এমন নতুন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করে যা এখনও ঘটেনি। যেমন- বৃষ্টি আসার জ্ঞান, মূল্য পরিবর্তন হওয়ার জ্ঞান। তবে তার দ্বারা যদি সে সালাতের সময় ক্বিবলার দিক জানে, তবে নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

‘‘শারহুস্ সুন্নাহ্’’ গ্রন্থে এসেছে, জ্যোতির্বিদ্যাকে নাকচ করা হয়েছে। এর কারণ হলো, জ্যোতির্বিদগণ এমন নতুন ঘটনা জানে বলে দাবী করে যা এখনো ঘটেনি। কখনো ভবিষ্যৎ ঘটনা জানার দাবী করে। যেমন- ঝড় কখন হবে তারা তা বলে দেয়, বৃষ্টির পানি আসার সংবাদ দেয়, বরফ পড়ার সংবাদ দেয়, গরম ও শীত আসার সংবাদ দেয় এবং মূল্য পরিবর্তনের ও সংবাদ দেয় ইত্যাদি। আর তারা বিশ্বাস করে যে, নক্ষত্র চলাচলের, তা একত্রিত ও আলাদা হওয়ার জ্ঞান থাকার কারণে তা বলতে পারে। এটি এমন একটা জ্ঞান যা মহান আল্লাহ নিজের জন্য রেখে দিয়েছেন। তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না।

মহান আল্লাহ বলেনঃ إِنَّ اللهَ عِنْدَه عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ ‘‘কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটেই আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন’’- (সূরাহ্ লুকমান ৩১ : ৩৪)। জ্যোর্তিবিদ্যার মাধ্যমে অস্ত যাওয়ার জ্ঞান, ক্বিবলার জ্ঞান অর্জন করলে তা নিষেধের আওতায় পড়বে না। মহান আল্লাহ বলেন, وَهُوَ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ‘‘তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের জন্য নক্ষত্রসমূহের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা জল-স্থলের অন্ধকারে সেগুলো দ্বারা রাস্তা নির্ণয় করতে পারো’’ – (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ : ৯৭)। মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ‘‘আর তারা নক্ষত্র দ্বারা পথ চলে থাকে’’- (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ১৬)। মহান আল্লাহ উল্লেখিত আয়াতে যে সংবাদ দিলেন তা হলো, নক্ষত্রসমূহ সময় ও রাস্তা চেনার মাধ্যম। আর যদি সেগুলো না থাকত তবে মানুষ ক্বিবলার দিক ঠিক করতে পারত না।

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, তোমরা জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা কর, যে বিদ্যা দ্বারা তোমরা ক্বিবলাহ্ ও পথ চিনতে পারবে, অতঃপর তোমরা থেমে যাও (শিক্ষা বন্ধ করে দাও)। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৯; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য