Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সৌদি আরবের প্রথম রাজধানী দিরিয়াহ

বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সৌদি আরবের প্রথম রাজধানী দিরিয়াহ

সৌদি আরবের প্রাচীন নগরী দিরিয়াহর যাত্রা শুরু হয় ৪৩০ খ্রিস্টাব্দে। যখন আরবের প্রাচীন গোত্র বনু হানিফা ‘আল-ইরদ’ উপত্যকার উপকণ্ঠে পূর্ব নজদে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে যা ‘ওয়াদি হানিফা’ নামে পরিচিতি পায়। গোত্রপ্রধান উবাইদ বিন তাআলবাহ তাদের নেতৃত্ব দেয় এবং তারা ‘হাজার আল-ইয়ামামা’-কে নিজেদের নতুন নগর হিসেবে বেছে নেয়।

তাদের মাধ্যমে ‘হাজার’ অত্র অঞ্চলের বৃহত্তম নগরীতে পরিণত হয়। ইয়ামামার বাদশাহ—সুমামা ইবনে উসাল আল-হানাফি অত্র অঞ্চল শাসন করতেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর যুগে জীবিত ছিলেন এবং তিনিই প্রথম মুসলিম, যিনি তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।
৮৫০ হিজরি মোতাবেক ১৪৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাদশাহ সুমামার বংশধর প্রিন্স মানি বিন রাবি আল-মুরাইদি দিরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজের ১২তম ঊর্ধ্বতন পুরুষ। দিরিয়াহর প্রতিষ্ঠা ছিল আরব উপদ্বীপের রাজনীতিতে একটি বাঁকবদল। প্রিন্স মানির সন্তানরা শহরটি শাসন করত এবং তাদের প্রচেষ্টায় দিরিয়াহ একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। ভৌগোলিক কারণেও দিরিয়াহর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। কেননা তা আরব উপদ্বীপের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের বাণিজ্যিক পথের সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। অত্র অঞ্চলে বাণিজ্য প্রসারেও তা বিশেষ অবদান রাখে।

১১৩৯ হিজরি মোতাবেক ১৭২৭ হিজরিতে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ প্রথম সাউদি রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করলে দিরিয়াহকে সৌদি আরবের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ১৭৪৪ থেকে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দিরিয়াহ ছিল প্রথম সৌদি রাষ্ট্র ‘আমিরাত অব দিরিয়াহ’-এর রাজধানী। যদিও ১৯৩২ সালের আগে সৌদি আরবের বর্তমান শাসক পরিবারকে নানা ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবু সৌদি রাষ্ট্রের প্রথম পর্বে দিরিয়াহর উন্নয়নে তাদের প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তাদের প্রচেষ্টায় নগরটি অর্থনৈতিক, সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

সৌদি রাষ্ট্রের দ্বিতীয়ার্ধ্বে দিরিয়াহ রাজধানীর মর্যাদা হারায়। তবু বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বুকে ধারণ করে আছে প্রাচীন নগরীটি। যেমন ঐতিহাসিক কুসাইবাহ গ্রাম, সামহান জেলা, বুজাইরি অঞ্চল, দিরিয়াহ বাজার এবং আত-তারিফ গ্রাম। আত-তারিফ হলো বিশ্বের টিকে থাকা সবচেয়ে বড় মাটির তৈরি গ্রাম। ২০১০ সালে ইউনেস্কো দিরিয়াহকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়।

সৌদি গেজেট অবলম্বনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য