একসঙ্গে ৩ সন্তানের জন্ম : দুধ কিনতে দ্বারে দ্বারে বাবা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

0
229

পরিবারে সন্তান জন্ম নিলে সবার মধ্যে বিরাজ করে আনন্দ উচ্ছাস। আবার কিছু পরিবারে সন্তান জন্ম নেওয়ার পরে দুঃশ্চিন্তা যেন নিত্য সঙ্গী হয়ে ওঠে। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুগুলোর দুধের জন্য যখন কোনো বাবাকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় তখন সেই বাবাই জানে সে কতটা অসহায়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও সাবিনা খাতুন দম্পতির একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম হয়। দরিদ্র দিন মজুর কৃষক দম্পতি প্রথম দিকে খুশি হলেও পরবর্তী সময়ে শিশু তিনটির চিকিৎসা খরচ এবং দুধ ক্রয় করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন বাবা জাহাঙ্গীর আলম। দিন মজুরি করে উপার্জিত টাকার সঙ্গে প্রতিনিয়ত ধার করে কিনতে হচ্ছে সন্তানদের জন্য দুধ। সংসারের অন্যান্য খরচতো আছেই। ধার করে কতদিন চলে। শেষে লোকলজ্জা ভুলে সন্তানদের আহারের জন্য হাত বাড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও বিত্তবানদের কাছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও মেলেনি কোনো সাহায্য।

তবে চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার শিশুগুলোর পিতা জাহাঙ্গীরকে উপজেলা পরিষদে ডেকে নিয়ে খাদ্যসামগ্রীর একটি বড় প্যাকেট ও নগদ অর্থ সহায়তা করেছেন।

জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক কয়েক বছর পরে এক ছেলে সন্তানের আশা করে আল্লাহ আমাকে এক সাথে দুই ছেলে, এক মেয়ে দিয়েছেন। আমি একজন দিন মজুর মানুষ। আমার পক্ষে তিন তিনটি শিশু সন্তানের ভরন পোষণ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পরেছে। আমার পরিবারও অসুস্থ। শিশু তিনটির প্রতিদিন প্রায় দুই প্যাকেট দুধ কিনতে হয়। এ ছাড়া জন্মের পর থেকে তাদের অসুখ বিসুখতো লেগেই আছে। মানুষের কাছে হাত পাতা অত্যন্ত নিচু কাজ জেনেও একপ্রকার বাধ্য হয়ে মানুষের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নবীর উদ্দিন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, শিশু তিনটির পিতা জাহাঙ্গীর আলম আমাকে ফোন করে সাহায্যের জন্য বলেছে কিন্তু সে পরিষদে আসেনি। তবে এখন পরিষদ থেকে সাহায্য করার মতো তেমন কিছু নেই। সামনে সরকারি বিভিন্ন ভাতা কার্ড পরিষদে আসলে তাকে সেখান থেকে কিছু করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার নিকট ইতিমধ্যে ওই শিশু তিনটির পিতা সাহায্য প্রার্থনা করে একটি আবেদন করেছে। আবেদনটি পেয়েই আমি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ডেকে মাতৃত্বকালীন একটি ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছি। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছি।

যদি কোন স্ব-হৃদয়বান ব্যক্তি শিশু তিনটিকে সাহায্য করতে চান তাহলে ০১৭৭০৩৫৮১৭১ (বিকাশ) এই নাম্বারে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বলে আর্থিক সহায়তা করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − thirteen =