وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْقَدَرِيَّةُ مَجُوسُ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِنْ مَرِضُوا فَلَا تَعُودُوهُمْ وَإِنْ مَاتُوا فَلَا تشهدوهم» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد
ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্বদারিয়্যাগণ হচ্ছে এ উম্মাতের মাজূসী (অগ্নিপূজক)। অতঃপর তারা যদি অসুস্থ হয়, তাদেরকে দেখতে যাবে না, আর যদি মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]
[1] হাসান : আহমাদ ৫৩২৭, আবূ দাঊদ ৪০৭১, সহীহুল জামি‘ ৪৪৪২। আবূ দাঊদ-এর সানাদের রাবীগণ সবই বিশ্বস্ত কিন্তু সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তবে আহমাদ-এর সানাদটি মাওসূল সূত্রে বর্ণিত কিন্তু তাতে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। এ হাদীসের আরো একটি সানাদ রয়েছে যেটি ‘আল্লামা আজিরী তার ‘‘আশ্ শারী‘আহ্’’ নামক গ্রন্থের ১৯০ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। তবে তাতেও দুর্বলতা রয়েছে। আর এ সবগুলো সানাদের সমন্বয়ে হাদীসটি হাসান স্তরে পৌঁছেছে।
ব্যাখ্যা: আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি ‘‘ক্বদারিয়্যারাই এ উম্মাতের মাজূসী’’-এর ব্যাখ্যাঃ
‘‘এ উম্মাত’’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দা‘ওয়াত কবূলকারী উম্মাত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বদারিয়্যাহ্-কে ‘অগ্নিপূজক’ বলার কারণ হচ্ছে (তাদের কথা হচ্ছে) বান্দা তার নিজের কাজের স্রষ্টা নিজেই। তাদের কাজ আল্লাহ তা‘আলার তাক্বদীরে এবং তার ইচ্ছায় হয় না। এ কথাটি অগ্নিপূজকদের কথার সদৃশ, কেননা তারা বলে পৃথিবীর প্রভু হচ্ছেন দু’জন।
১. কল্যাণের স্রষ্টা যার নাম ইয়াযদান তথা আল্লাহ তা‘আলা।
২. অকল্যাণের স্রষ্টা যার নাম আহারমান, অর্থাৎ- শায়ত্বন (শয়তান)।
আরো বলা হয়ে থাকে, অগ্নিপূজকরা বলে থাকে ভালো কাজ হচ্ছে نور তথা আলোর কৃতি, আর খারাপ কাজ হচ্ছে ظلمة তথা অন্ধকারের কৃতি। অতএব তারা দ্বৈতবাদীতে পরিণত হলো এমনিভাবে ক্বদারিয়্যারা তারা বলে ভালো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আর খারাপ আসে অন্যের পক্ষ থেকে।
